সিলেট খাজাঞ্চিবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল তাহিয়া সিদ্দিকা ও এডিসি মোঃ নূরে জামান চৌধুরীর অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিভাবক প্রতিবাদ করায় টিসি দেয়া হলো দুই শিক্ষার্থীকে—
সুরমা নিউজ ইউকে :- বিদ্যাপীঠের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিভাবক প্রতিবাদ করায় শাস্তি পেলো দুই শিক্ষার্থী। সরাসরি দেয়া হলো ট্রান্সফার সার্টিফিকেটও (টিসি)। এমন ঘটনায় সিলেটের খাজাঞ্চিবাড়ি ইন্ট্যারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ঘটনা ঘটিয়েছেন জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজমুল হক। তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (জেনারেল ও সার্টিফিকেট শাখা)। গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে নানা বিষয়ে বিরোধ লেগেই আছে এ প্রতিষ্ঠানে। ট্রাস্টি বোর্ড গঠন নিয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে ট্রাস্টিদের। বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।
এই অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ফেরাতে প্রায় তিন মাস আগে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেন জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম। কিন্তু দায়িত্ব পালনের তিন মাসের মাথায় এসে অভিভাবকরা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ক্ষুব্ধ। এর প্রেক্ষিতে গত ২১শে এপ্রিল প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। বিভিন্ন বিষয়ে তারা দাবি উত্থাপন করেন। আর এই সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য রেখেছিলেন এডভোকেট সেবা বেগম। তার দুই সন্তান জুহি শেওলা ও মরিয়ম জান্নাত কুশেন ওই প্রতিষ্ঠানে পঞ্চম ও প্রথম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে।
অভিভাবকরা জানান, নানা অনিয়ম তুলে সংবাদ সম্মেলন করায় গত ২৭শে এপ্রিল প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজমুল হক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদানকারী অভিভাবক এডভোকেট সেবা বেগমের দুই সন্তান জুহি ও মরিয়মকে টিসি প্রদান করেন। টিসিতে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জানান, ‘অভিভাবক কর্তৃক আচরণবিধির বারবার লঙ্ঘনের কারণে, যা প্রতিষ্ঠানের নিয়মকানুন ও শৃঙ্খলার পরিপন্থি বলে বিবেচিত হয়েছে। ফলে কর্তৃপক্ষ এই টিসি জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
একইসঙ্গে টিসিতে দুই শিক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিভাবকের প্রতিবাদ করায় দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও টিসি প্রদানের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছে ওই দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক। বিষয়টি ৩০শে এপ্রিল তারা লিখিতভাবে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে। চেয়েছেন প্রতিকার। এতে দুই শিশুর পিতা তারেক আল মঈন ও এডভোকেট সেবা বেগম এতে উল্লেখ করেছেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো উপযুক্ত কারণ দর্শানো ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইনত ট্রান্সফার সার্টিফিকেট প্রদান করতে পারে না।
লিখিতপত্রে তারা জানান, ‘আপনার দপ্তরের মাধ্যমে এই বিষয়টি সমাধান করতে ব্যর্থ হলে, আইনি হস্তক্ষেপের জন্য এই অভিযোগটি শিক্ষামন্ত্রী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’ একইসঙ্গে তারা জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (শিক্ষা) দ্রুত সহযোগিতা এবং এই বিষয়টির একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রত্যাশা করেন। কিন্তু দুই শিশুর পিতা তারেক আল মঈন সুরমা নিউজ ইউকে এর প্রতিবেদক কে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সুরমা নিউজ ইউকে এর পক্ষে থেকে সিলেটের জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান টিসি দেওয়া ঐ দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক সহ একটি অভিভাবক গ্রুপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন থেকে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদেরকে টিসি দেওয়া হয়েছে। এখন আর কোন ভাবে টিসি প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের পূর্ণবহালের সুযোগ নেই।
Leave a Reply