ছাতকে মীর জিসানসহ হিফজ সমাপনী শিক্ষার্থীদের পাগড়ি ও মেধা বৃত্তি প্রদান
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাগবাড়ী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও ধর্মীয় উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শাহ ইব্রাহিমিয়া (রহ.) হাফিজিয়া মাদরাসার ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের হিফজ সমাপনকারী শিক্ষার্থীদের পাগড়ি প্রদান ও মেধা বৃত্তি অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) বাদ জুমা থেকে শুরু হয়ে পরদিন শনিবার ফজর পর্যন্ত বাগবাড়ী গ্রামের ৭৩তম বার্ষিক ফাতেহা শরিফ উপলক্ষে এই মাহফিল ও সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শাহ সূফী আলহাজ্ব হযরত মাওলানা ইব্রাহীম খাঁন (রহ.) ও শাহ সূফী আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মকসুদ আহমদ খাঁন নকশবন্দী মুজাদ্দেদী (রহ.)-সহ গ্রামের সকল প্রয়াতের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চারজন কৃতি শিক্ষার্থীকে পবিত্র কুরআনের হাফেজ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও বিশেষ মেধা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
পাগড়ি ও সম্মাননা প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন—ছাতক উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামের মীর মো. মাসুক মিয়ার পুত্র হাফিজ ক্বারী মীর মো. ইমাম হোসাইন জিসান, দোয়ারাবাজার উপজেলার পানাইল পুরানপাড়া গ্রামের আক্কল আলীর পুত্র হাফিজ ক্বারী মো. মতিউর রহমান, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিজগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের মো. জিয়াউর রহমানের পুত্র হাফিজ ক্বারী মো. জুম্মান হোসেন এবং মোহনপুর গ্রামের মো. ওয়াহিদুল হকের পুত্র হাফিজ ক্বারী মো. আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসার লেকচারার শায়েখ মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন ক্বাদেরী। প্রধান বক্তা আলোচনা পেশ করেন সোনারগাঁও বাড়ী মজলিস জামে মসজিদের খতিব মুফতি ড. আহমদ হাসান গাজীপুরী। তরিকতের খতম পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুশ শাকুর। এছাড়া বিশেষ নসিহত পেশ করেন হাফিজ ক্বারী শাহ মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, মুফতি মাহবুব আহমেদ নঈমী, মাওলানা আহসানুর রহমান দুলাল নক্সবন্দী এবং মুফতি নাজমুল হুসাইন।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে হিফজ সমাপনকারী শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় উস্তাদ হাফিজ ক্বারী মো. আমরুছ আলীকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিদায়ী শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, শিক্ষকদের ধৈর্য ও মমতাময় শিক্ষাদানই তাদের আজ পবিত্র কুরআনের হাফেজ হওয়ার তৌফিক দিয়েছে। তারা সারাজীবন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শে অবিচল থেকে কুরআনের খেদমতে নিজেদের নিয়োজিত রাখার অঙ্গীকার করেন। মাহফিলের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।##
Leave a Reply