ছাতকে শীতার্তদের মাঝে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার শীতবস্ত্র বিতরণ
ছাতক (সুনামগঞ্জ):শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছাতক উপজেলায় সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগও বেড়ে চলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোমেসি চাকমা। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিনি পৌরসভা এলাকা এবং বিভিন্ন গ্রামে ছুটে গিয়ে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করেন। এতে শীতের কষ্টে থাকা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বস্তি ফিরে পায়।
গত ১৩ জানুয়ারি, মঙ্গলবার, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইউএনও ডিপ্লোমেসি চাকমা ছাতক পৌরসভার চরেরবন্দ, বৌলা ও তাতিকোনা গ্রামে অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। প্রতিটি স্থানে তিনি মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং শীতের প্রকোপ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।
শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বাক্ প্রতিবন্ধী, হিজড়া জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ, সাধারণ ও বিশেষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, এতিমখানার শিশু, এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের। সমাজের মূলধারা থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন এসব মানুষের প্রতি ইউএনওর আন্তরিকতা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। পৌর এলাকার বাইরে গিয়ে ইউএনও ডিপ্লোমেসি চাকমা জাউয়া বাজার, বড়কাপন পয়েন্ট এবং আশপাশের দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছেও পৌঁছে দেন শীতবস্ত্র। দিনের শেষ ভাগে তিনি ছাতক উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ এতিমখানা—হাসনাবাদ এতিমখানা এবং ছাতক এতিমখানা—ভিজিট করেন। শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং প্রত্যেক এতিম শিশুর হাতে কম্বল তুলে দেন। শিশুদের হাসিমুখে তিনি মুহূর্তটি উপভোগ করেন বলে উপস্থিতরা জানান।
ইউএনও ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন,“শীতকালে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। তাদের কাছে পৌঁছানোই আমাদের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদেরও এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। আমরা চাই, কেউ যেন শীতে কষ্ট না পায়। স্থানীয় অনেকেই জানান, ইউএনওর এই উদ্যোগ কেবল শীতবস্ত্র বিতরণ নয়—এটি ছিল মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও সদয় আচরণের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। উপস্থিত ব্যক্তিদের মতে, ইউএনও নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করে যে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা প্রশাসনিক মানসিকতার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ছাতক উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, এ বছর শীতের প্রকোপ আগের চেয়ে বেশি হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে নদী তীরবর্তী এলাকা, দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবার, ছিন্নমূল ও পথচারী মানুষ, এবং দুর্গম চরের বাসিন্দারা। দ্রুততম সময়ে এসব এলাকায় শীতবস্ত্র পৌঁছে দিতে প্রশাসন কাজ করছে। মানবিক এ উদ্যোগকে সফল করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, শুধু শীতবস্ত্র নয়, শীতকালীন অন্যান্য সংকটেও যেন সাধারণ মানুষ সহায়তা পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উপজেলার সচেতন মহল মনে করেন, শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে ইউএনও ডিপ্লোমেসি চাকমা যে উদাহরণ স্থাপন করেছেন, তা সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকে আরও উদ্বুদ্ধ করবে। একসঙ্গে সবাই এগিয়ে এলে ছাতক উপজেলায় কেউই আর শীতে অবহেলিত থাকবে না—এমনটাই আশা এলাকার সাধারণ মানুষের।
Leave a Reply