সেচ্ছাসেবকলীগের সহসভাপতি কান্ড !
ছাতকে বিধবা নারীকে ভাতিজার কুপ্রস্তাব ও হত্যা–গুমের হুমকি: বিদ্যুৎ–পানি বিচ্ছিন্ন করে মানবেতর জীবন
বিশেষ প্রতিনিধি,
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছৈলা আফজালাবাদ ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর হাউলী গ্রামে এক অসহায় বিধবা নারী ভয়াবহ নির্যাতন ও চরম মানবেতর জীবনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনৈতিক কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই বিধবার ঘরের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়া, সুপেয় পানির সংযোগ বন্ধ করা, এমনকি গুম ও হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়—প্রয়াত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব শাহ মো. লিয়াকত আলী খানের একমাত্র স্ত্রী মোছাঃ জেসমিন আক্তার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই তার আপন ভাতিজা আবুল কাশেম হারুনের নানামুখী নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শিকার হয়ে আসছেন। ২০২৫ সালের ১১ মে শাহ লিয়াকত আলী খান মৃত্যুবরণ করলে, মাত্র ৪০ দিনের মাথায় বাড়িতে কোনো পুরুষ অভিভাবক না থাকার সুযোগে হারুনের কুদৃষ্টি পড়ে চাচির ওপর—অভিযোগ জেসমিন আক্তারের।
কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে হুমকি: “গুম করে ফেলবো, হত্যা করবো, পতিতালয়ে বিক্রি করে দেবো”
ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার জানান,ভাতিজা হারুন একদিন ঘরে একা অবস্থায় ঢুকে তার গায়ে হাত দেয় এবং অনৈতিক কুপ্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে রাজি হলে ভরণ–পোষণের দায়িত্ব নেওয়া এবং আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু রাজি না হওয়ায় উল্টো শুরু হয় নিয়মিত মারধর, জীবননাশের হুমকি, এবং পতিতালয়ে বিক্রি করার ভয়াবহ কথাবার্তা।
জেসমিন আক্তার গ্রামবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচার চাইতে গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে। এর পরপরই তার ঘরের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়া হয়, পানির সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়—ফলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারে ও পানির অভাবে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
গ্রামবাসীর অভিযোগ,“একজন অসহায় বিধবা নারীকে এমনভাবে বিদ্যুৎ–পানিহীন করে রাখা অমানবিক। তাকে হয়রানি করতে পরিকল্পিতভাবেই এই কাজ করা হয়েছে।”
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতীতের নানা অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আবুল কাশেম হারুন অতীতে সিলেট মহানগর এলাকায় মাদক ব্যবসা, নারী ব্যবসা, ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ত্রাস সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
তিনি নিজেকে বড় রাজনৈতিক পরিবারের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই দাপট—এমন অভিযোগও রয়েছে,এলাকাবাসী দাবি করছে, হারুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়রা জানায়—
বিধবা নারীর ওপর এমন নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি অনৈতিক কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গুম–হত্যার হুমকি বিদ্যুৎ লাইন কেটে অন্ধকারে রাখা
সুপেয় পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন,গৃহবন্দী অবস্থার মতো চরম মানবেতর জীবন,নিরাপত্তাহীনতা ও বিচারহীনতার ভীতি।
Leave a Reply