বাজারে জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে
ছাতকে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে এমপি কামরুজ্জামান কামরুলসহ শতাধিক আহত
ছাতক সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি,
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার এলাকায় জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহসংঘর্ষেসুনামগঞ্জ ১ আসনে এমপি কামরুজ্জামান কামরুলসহ অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে সুনামগঞ্জ–সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে দুই পক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাউয়া বাজারের পাশের খিদ্রাখাপন গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আকলুছ মিয়ার কাছ থেকে এক বছর আগে কিছু জমি ক্রয় করেন জাউয়া কোনাপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী।
তবে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না হওয়ায় মোহাম্মদ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ বিষয়টি নিয়ে দুই দিন আগে আকলুছ মিয়াকে গালিগালাজ করার এ ঘটনার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
এঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মুরুব্বি ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসলেও শুক্রবার সন্ধ্যায় আবারও দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
রাতের অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে অংশ নেয়। এ সময় জাউয়া সাহিত্যপাড়া ও খিদ্রাখাপন গ্রামের লোকজন মুখোমুখি অবস্থানে যায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক লোকজন আহত হন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি কামরুজ্জামান কামরুল। পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিলেন।
হঠাৎ ছোড়া ইট-পাটকেল তার মাথায় লাগলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল-এ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছাতক থানা পুলিশ, জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর শান্তিগঞ্জ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে অভিযান চালায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কমপক্ষে ২০ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় রাত ১১ টার দিকে উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের মধ্যে খিদ্রাখাপন গ্রামের আকমল হোসেন, লোকমান হোসেন, ইসতিয়াক আহমদ, হুসাইন আহমদ, জাবেদ আহমদসহ অন্তত ২৫ জনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। বাকিদের কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সংঘর্ষের সময় জাউয়া বাজারের অন্তত ৫০টি দোকান ও বাজারসংলগ্ন জামে মসজিদে ইট-পাটকেল ও লাঠির আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় শত শত যানবাহন আটকা পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
এব্যাপারে জাউয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল কবির বলেন, “জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
Leave a Reply