Breaking News

আলোকিত একটি জনপদ ছাতক

Print Friendly, PDF & Email

আলোকিত একটি জনপদ ছাতক

আনোয়ার হোসেন রনি
বাংলার স্মরনীয় বরণীয় প্রাচীনতম একটি জনপদ হচ্ছে ‘ আলোকিত ছাতক’ আলোকিত প্রচারবিমুখ ফকির সাধক,কবি,সাহিত্য,সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে লেখক সাধকদের অবদান আমাদেরকে বিশ্বের মানচিত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী তরুন সমাজে জাতীয় চেতনা ওপ্রকৃত সংস্কৃতিবোধ জেগে উঠবে এবং পুনরায় তাদের চিন্তা চেতনায় আমাদের মুল সংস্কৃতি ও চেতনারবোধের উন্মেষ ঘটবে এতে সন্দেহ নেই।
অবিভক্ত বাংলার ফকির সাধক কবি সাহিত্যিক,সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীদের জীবন ধারা নতুন প্রজন্মের ও যুব সমাজের জনা একান্ত আবশ্যক। আমাদের যুব সমাজ অনেকে এদের সম্পকে তেমন অবহিত নয়। তৎকালিন লেখক,সাধক সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবিদের ক্ষুদ্রধারা লেখনী,সমাজ কল্যানমুলক কর্মকান্ড মুসলমানদের মধ্যে জাগরনের সৃষ্টি করে গেছেন। সংস্কৃতি ধর্মীয় চেতনা ইতিহাস লালন ও সংরক্ষন এবং ইসলামী সংস্কৃতির উন্মেষ ঘটানোই ছিল মুসলিম কবি সাধকদের একমাত্র লক্ষ্যে
প্রচারবিমুখ আলোকিত ফকির সাধক আফজলশাহ’র দীর্ঘ আধ্যতিœক পথ পরিত্রুমার গভীরতর পযালোচনা এবং এদের সাথে তার হাকিকতী সম্পর্কে ও বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন সবাধিক। তার লেখায় মধ্যে রয়েছে সুচিন্তিত সুশৃংখল চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। তার জীবন কর্ম কালের ত্রুমানুসারে গুরুত্বপুন বিষয় বর্ননার রেখাচিত্র ফুটে উঠেছে সুন্দর ভাবে।যাঁরা সুফিবাদ ও তাসাউফকে অনুশীলন করতে আগ্রহী কিংবদন্তির আধ্যাতিœক ফকির সাধক আফজল শাহ’ র কে সেই প্রেক্ষাপটের উপলব্দি করতে অধিকতর আগ্রহী,তার লেখা মুল্যবান গ্রন্থ আমাদের সমাজ ব্যবস্থাকে বহুদুর পৌছিয়ে দিয়েছে। তার প্রখর লেখনীর তথ্যসুত্রের যোগান দেয়ার পাশাপাশি নতুন নতুন খোরাক জোগানের ক্ষেত্রে এটি এক অনন্য গ্রন্থ রিসালায়ে মারিফাত ও
“নুর পরিচয়” গ্রন্থ নিয়ে দেশ-বিদেশে মাটিতে গবেষনা চলছে।

সবার সাবির্ক সহযোগিতা কামনা করি।
তিনশ’ষাট আউলিয়ার উপ-মহাদেশের প্রধান বাংলার গৌরব আধ্যাত্বিক দরবেশ হযরত শাহ জালাল (রঃ) ইয়ামনির নিদেশে তার সহযোগিরা ছাতক উপজেলায় অরিন বন জঙ্গলে তাবু টাগিয়ে ইসলাম প্রচার করে গেছেন। তাদের সান্নিধ্য পেয়ে এ অঞলের শ’শ’ ওলি আউলিয়া দরবেশ ফকিরদের অবাধ বিচরন ভুমি ও সুফিবাদে রাজধানী বলা হয়ে থাকে এখনকার সাধকদেরকে ।কিন্তু অধিকাংশ সুফিবাদ মরমী কবি সুফিবাদদের উপর কিতার ও পান্ডলিপি রচনা করে বিশ্বের মানচিত্রে গৌরব স্থান দখল করেছে। তাদের আলোকিত ঞ্জান ভান্ডারের আমাদের পৌছে দিয়ে বহুদুরে।ইতিহাসে পাতায় তাদের নাম থাকলে ও তাদের জীবনকর্ম নিয়ে কোন ইতিহাস রচনা কেউ করেনি। তারা সব সময় রয়ে গেছেন প্রচার বিমুখ ব্যক্তিত্ব।তাদের মুল্যবান পান্ডলিপি গুলো আজ ও কালে পরিবতে হারিয়ে যেতে বসেছে। তাদের জীবন কর্ম যেন বিলীন হয়ে যাচ্ছে।তাদের বিজড়িত স্মৃতি গুলো যেন আজ আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আপ্রান প্রচ্ষ্টো চালিয়ে যাব।
সিলেট এখনো এসব পংক্তিমালা কথাগুলো মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে। সাম্প্রতিকালে মরমী কবি ফকির আফজল শাহ ওরফে আরমান আলীর’ মরমী কবি দুব্বির্ন শাহ,মরমী কবি আসদ উল্লাহ,মরমী কবি আজর আলীশাহ,সাবাল আলীশাহ,কাছিমআলীশাহ, ও মরমী কবি গিয়াস উদ্দিন,হাসিম আলীশাহ,মনুশাহ, সহ হৃদয় ছোয়া গানের সুরে সমগ্র সিলেট ছড়িয়ে পড়লে সুফিবাদ মরমী কবি ভাবের খনি হিসেবে ও বিখ্যাত হয়ে উঠে এখান গ্রাম পাড়া মানুষ।শুধু বানিজ্যিক আর শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত আ্ড়ালে খ্যতিমান অলি আউলিয়া ফকির দরবেশ’র বিচরন ভুমি আরব দেশের মা ও মাটি সাথে এ অঞলের মাটির মিলে মিশে রয়েছেন বলে জনশ্রæতি আছে।
ছাতক এক প্রাচীন জনপদ আলোকিত বানিজ্যিক জোন শিল্পনগরী হিসেবে সুলতানী আমল থেকে আনুষ্টানিক শোভা যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৭৫৭ সালে মীর জাফর আলী খা’রায়দৃলর্ভ ও জগতশেঠ গংদের চত্রæান্তে বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজ উদ্দৌলা বঙ্গের নদীয়া জেলার আম বাগানে ইংরেজদের সাথে এক রত্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরাজিত হযে বাংলার স্বাধীনতায় সুর্য অস্তমিত হন। সিরাজ উদ্দৌলার পতনের পর বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর বাঙাল সুবাদার হিসেবে স্বীকৃত লাভ করেন। পরবর্তিকালে তার উপর ইংরেজরা অসন্তÍুষ্ট হয়ে মীর কাসেমকে স্থলবর্তি করে। মীর কাসেমের আমলে ইংরেজরা সিলেটের ছাতকে অনুপ্রবেশ করে এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী চুনা ব্যবসা করার জন্য মীর কাসেম কে দিয়ে সন্ধি করা হয়।১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে ২৭ সেপ্টেম্বর মীর কাসেমের সাপক্ষে সিলেটের ছাতকে চুনা সরবরাহের সন্ধি করা হয়। কিন্তু ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর লোকজন চুনা সরবরাহের অজুহাতে সিলেটের ছাতকে মানুষের উপর অমানবিক উৎপিড়ন চালাতে থাকে। মীর কাসেম ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লোকজনদের অত্যাচার নির্যাতন থেকে ছাতক সিলেটসহ বাংলার মানুষের পাশে এসে দাড়ান। ইংরেজরা মীর কাসেমকে তাদের বিপক্ষে দেখে মীর জাফরকে বাংলার মসনদে পুনস্থাপন করে ১৭৬৩ সালে ১০ জুলাই সিলেটের ছাতকে চুনা ব্যবসা ব্যপ্তি জন্য ৫ম দফায় নতুন সন্বি পত্র প্রণয়ন করে।এই সন্বি পত্র মোতাবেক ইংরেজরা চুনার আয়করের অর্ধেক মালিক হয়ে যান।এ ভাবে মীর জাফরের সহযোগিতায় একটি একটি করে দেশীয় রাজ্য ইংরেজদের দখলে আসে থাকে। ১৭৬৫ সালে ইংরেজরা বঙ্গ বিহারও উড়িষার দেওয়ানী লাভ করায় সিলেট ও তাদের দখলে চলে আসে। এ সময় (জয়ন্তীয়া ও লাউড় রাজ্য ব্যতিত)সিলেটের নবাবদের অধিকৃত ভৃভাগের পরিমাণ ছিল ২৮৬১ বর্গমাইল।ইংরেজ কোম্পানি ২৮৬১ বর্গমাইল ভুভাগের শুধু মাত্র রাজস্ব আদায়ে নিযুক্ত হয়েছেন। শাসন ভার বা ফৌজদারি ক্ষমতা তখন নবাবগনের হাতেই ন্যস্ত হযেছিল। ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হিস্টিংস ভারতে ২৫০টি মত জেলা সৃষ্টি করা হয়েছে। তখন সিলেটকে ও জেলায় রূপান্তর করেছিলেন। পুর্ব বঙ্গের রাজস্ব সংগ্রহ ইত্যাদি প্রয়োজনীয় কর্ম নির্বাহের জন্য ঢাকা রেডিনিউ বোর্ড প্রতিষ্টিত লাভ করা হয়। সেই বোড হতে মিষ্টার থেকার সর্বোচ্চ কর্মচারী রূপে সিলেটের প্রথম আগমন ঘটেছিল। তখনকার সময় ইংরেজ কর্মচারীদের রেসিডেন্ট উৎপাদিতে আখ্যায়িত করা হতো। থেকারের সময় জয়ন্তীয়ার রাজা ছত্রসিংহ সিলেটের বৃটিশ প্রজাদিগকে নিপিড়িত করতেন। যে কারণ থেকারের আদেশানুসারে মেজর হেনিকার কর্তৃক পরিচালিত বৃটিশ সৈন্য জয়ন্তীয়া জয়ে সমর্থ হয়। এ ভাবে জয়ন্তীয়া কাছার ইত্যাদি রাজ্য সমুহ বৃটিশ শাসনের আওতায় সিলেটের কালেক্টরীর অন্তর্ভুত্ত হলে সিলেটের ভ ুভাগের আয়তন ৩হাজার ৮শ’বর্গমাইলে গিয়ে দাড়ায়। ১৭৮০ সালে সেখান থেকে চলে গেলে ও রবার্ট লিন্ডসে নামক এক ইংরেজ কাউন্সিলার সিলেটের ক্যালেক্ট হয়ে আরো ফিরে এসেছেন । এখানে এসে লিন্ডসে সিলেটের সম্পদের প্রতি ধারণা লাভ করেন। তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এখানে প্রচুর টাকা বিনিময় করে বিভিন্ন জাতীয় ব্যবসা যেমন’চুনাপাথর,লবন,হাতির চামড়া,জাহাজ তৈরি ও কমলালেবু বিত্রিæ ইত্যাদিতে আতœনিয়োগের কাযক্রম শুরু করেন। তিনি অফিসের সময়টুকু দিয়ে বাকি সময়টুকু ব্যবসায় ব্যয় করে লিন্ডসে অগাধ অর্থ উপাজন করেন।এ সময় সিলেটের লোক সংখ্যা ছিল ১ লাখ।আর রাজ্যস্য ছিল ২লাখ ৫০ হাজার।লিন্ডসে আতœজীবনী গ্রন্থেও বরাত অচ্যুত চরণ চৌদুরী সহ অনেক ঐতিহাসিক গন লিখে গেছেন। প্রদেশের দায়িত্ব লাভ ও বেশী দিন থাকার জন্য লিন্ডসে ইংরেজ কোম্পানির উধতর্ন কর্মকতাদের বহু উপহার দেয়।
উল্লেখ যে’ বৃহত্তর সিলেটের ছাতকের সুলতানী আমল থেকে চুণা ব্যবসায় প্রসিদ্ধ লাভ করেছিল। ১৭৭৮ থেকে ১৭৮৯ খ্রীষ্টাব্দ পযন্ত রর্বাট লিন্ডসে ছিলেন সিলেটের কালেষ্টার। তিনি সিলেট থেকে ছাতকের চুন ভান্ডার দেখে আকৃষ্ট হয়ে তখন সিমেন্ট আবিস্কার করা হয়নি। ফলে চুনা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন নিমার্ন সামগ্রী হিসেবে বিশ্বে ব্যাপক চাহিদা ছিল। চুন সুরকি দেয়াল বা চাদ তখন ছিল উচ্চবিত্তের পরিচায়ক। গরম বা শীতল আবহাওয়ার এই চুনার নির্মিত দালান অত্যন্ত উপযুক্ত ছিল। চুনা পাথর থেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি চুনার চাহিদা ছিল উপমহাদেশের সর্বত্র । ভাগ্যান্বেসী লিন্ডসে এই চুনা পাথরকে ভিত্তি করে গড়ে তুলেন কারখানা।পাশাপাশি দেশ ভারতের কলকাতার সাথে শুরু করেন ব্যবসা। উল্লেখ্য তখন ইংরেজী কর্মচারীদের জন্য এ ধরনের রুজি রোজগার কোনো বিধি নিষিধে ছিল না। লিন্ডসের পর দুইজন ইংরেজ এইচটি রাইট ও জর্জ ইংলিশ রাইট ইংলিশ এন্ড কোম্পানী নামে চুনের ব্যবসা শুরু করেন।তারা সব সময় ছাতকের নাগরিকদের সাথে সু-সম্পক বজায় রাখে।এ পথ ধরেই ছাতকের চুন শিল্পের বিকাশ ঘটেছিল। ১৮৬৯ খ্রীষ্টাব্দে ইন্ডিয়া জেনারেল ষ্টীম নেভিগেশন কোম্পানী গোয়ালন্দ থেকে সিলেট পযর্ন্ত জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করেন। ছাতক একটি বিশাল নৌ বন্দরের ষ্টেশন ছিল। শীতকালে জাহাজ ছাতক পযর্ন্ত চলতো দেশ-বিদেশে। নদীর পথে জাহাজ চলাচল শুরু হবার কারনে ব্যবসার ও বিস্তার ঘটে। ১৯০২ থেকে ১৯০৩ খ্রীষ্টাব্দ পযর্ন্ত সিলেট থেকে কলিকাতা ২০লক্ষ মনের বেশী চুন রপ্তানী করা হতো । চুনের মান ছিল ভালো,তাই প্রসিদ্ধির ও ছিল।এই চুনা শিল্পের পথ ধরেই এ অঞলে প্রথম বৃহৎ শিল্প কারখানা আসাম বেঙ্গল সিমেন্ট ফ্যাষ্টরী প্রতিষ্টিত করেছিল। এ পযর্ন্ত যতই সিমেন্ট কারখানা নির্মান করা হয়েছে সব সিমেন্ট থেকে ছাতক সিমেন্ট এখনো গুনে মানে নামেই সমাদৃত অবস্থান দখল করে রেখেছেন।এ উপজেলায় চালু করা হয় সিলেট পাল্প এন্ড পেপার মিল। দুর্নীতি অনিয়মের কারনে আজ বিলীন হয়ে গেছে এ প্রতিষ্টানটি।
বিশ্বের সুনামধন্য আরেকটি সিমেন্ট কারখানা বেসরকারী ভাবে সুরমা নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছিল। ২০০০ সালে বাংলাদেশে ও ভারত সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পর তারাই বিশ্বের একমাত্র ত্রæসবর্ডার বানিজ্যিক প্রতিষ্টান,দুই দেশে অবস্থান করে।ভারতের মেঘালয় থেকে বিশ্বের দীর্ঘতম ১৭ কিলোমিটার কনভেয়ার বেল্ডের মাধ্যমে চুনাপাথর চলে আসে সরাসরি ছাতকে নোয়ারাই এলাকায়। লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানায় এলাকার জনসাধারনের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে এখানকার মানুষের। সিমেন্ট উৎপাদনে পাশাপাশি স্থানীয় জনগনের জীবনযাত্রায় সম্পৃক্ত এই প্রতিষ্টানটি। কারখানার পাশেই তারা স্থাপন করেছেন কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার। দুরবর্তী গ্রামগুলোতে চালু করা হয়েছে পাচটি সাব সেন্টার। এ সেন্টার গুলোতে শিশুরা ৫মশ্রেনী পযর্ন্ত পড়তে পাড়ছেন, বেকার মহিলারা সেলাই প্রশিক্ষন নিচ্ছেন,যুবকদের দেয়া হচ্ছে মোবাইল সাভির্স ’র প্রশিক্ষন, সবার জন্য চালু করেছেন চিকিৎসার সেবামুলক কাযত্রæম। বানিজ্যিক সম্প্রসারনের পাশাপাশি বিনিযোগ যদি হয় শিক্ষায় তবে তা অন্যাদের জন্য ও অনুকরনী হতে পারে। লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানা বাংলাদেশের নিমার্নশিল্পে ভুমিকা রাখার পাশাপাশি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার সি এস আর অংশ হিসেবে শিশু শিক্ষায়ও ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। সুরমা নদীর তীরে গড়ে উঠা লাফাজের সুবিস্তুত কারখানায় শুধু বৈশ্বিক মান সম্পন্ন সিমেন্টই তৈরি পাশাপাশি আশপাশে গ্রাম গুলোর পৌছে দেয়া হচ্ছে শিক্ষার আলো। সুরমা নদীর তীরে ২০০ একর জমি নিয়ে গড়ে উঠেছে বিশ্বের একমাত্র ত্রæসবর্ডার বানিজ্যিক প্রতিষ্টান লার্ফাজ সুরমা সিমেন্ট কারখানা। সিলেটে বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলাধীন নোয়ারাই গ্রামে স্থাপিত করা হয় ”বিশ্বের একমাত্র প্রতিষ্টানটি”। ২০০০ সালে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির মাধ্যমে এ প্রকল্পের আনুষ্টানিক যাত্রা শুরু করেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ২৮ কোটি ডলার বিনিযোগ করেছেন। লার্ফাজ যে শুধু ব্যবসাই করছে তা নয়। প্রতিষ্টা জন্ম লগ্নে থেকেই স্থানীয় জনগনের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখছে। এ ক্ষেত্রে বেশী অগ্রাধিকার পেয়েছেন শিক্ষায়। ২০০৬ সালে উৎপাদনে এসে ও ২০০০ সাল থেকেই গ্রামে শিশুদের জন্য বিনা মুল্যে প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করেছেন এ প্রতিষ্টানটি। এলএসসি কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার স্কুলের মাধ্যমে এ কাযত্রæম অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবছর ১৩০জন ছাত্র-ছাত্রীদের এই স্কুলে পড়াশোনা করছে। শুধু একটি স্কুল স্থাপন করেই বসে থাকেনি লাফার্জ,দুরবর্তী গ্রামের শিশুরা ও যাতে এই শিক্ষা গ্রহন করতে পারে সে জন্য পাচটি সাবসেন্টার ও খোলা হয়। স্কুলের শিক্ষাথীরা বিনা মুল্যে উপকরন ও স্কুল ড্রেস দেয়া হয়। ৫মশ্রেনীর পড়ে ও যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে সে লক্ষ্যে শিক্ষাথীদের বৃক্তি প্রদান করে যাচ্ছেন লাফার্জ।তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো শিশুদের শিক্ষায় আলো আলোকিত করা লক্ষ্যে লাফার্জ অন্যমত ভুমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। বৃক্তি প্রদান প্রকল্পটি গোটা উপজেলায় অসহায় গরীবদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য লাফার্জ কতৃপক্ষ কাছে সবিনয় অনুরোধ করেছেন সচেতন মহল । এ প্রতিষ্টানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের জীবন জীবিকা জড়িত রয়েছেন। এছাড়া পুরাতন সিমেন্ট কারখানা চরম অনিয়ম দুর্নীতি কারনে ধব্বংশ দ্বারপ্রান্তে পৌছে গেছে। যে কোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে পুরাতন সিমেন্ট কারখানাটি।
এ শিল্পের সাথে ছাতকের কমলালেবু এবং স্বাদ,র মাছের বাজার ছিল বিস্তৃত। চেলার বা ছাতকের কমলার স্বাদ আকার ও রং ছিল অতুলনীয়। কালের প্রবাহে এখন নদ হাওড় ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। প্রবীনরা চেনার কমলালেবু স্মৃতি স্বাদ আজ আর নেই। মৌ মৌ গব্দে এখন হয়তো ছাতকের কমলা আমাদের রসনা তৃপ্ত করে না। নৌ বন্দরের সারি সারি বারকি নৌকা ভরা কমলালেবু মৌ মৌ সৌরভে একাকার হয়ে যেত বারকি নৌকা শ্রমিকরা । তখন চলাচলে একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌ পথ। ”পাল উড়াই ”বারকি নৌকার শ্রমিকরা মনে আনন্দে ভাটিয়ালী গান পবিবেশন করতো এখনকার মানুষ।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধে ছাতকের ভুমিকা ছিল প্রশংসনীয়। থানা,ইউনিয়ন,গ্রাম পাড়া মহল্লায় সংগ্রাম পরিষদ গড়ে উঠেছিল। মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক আব্দুল হক, এমপি শামসুমিয়া চৌধুরী, আলহাজ্ব মদরিছ আলী চৌধুরী,বাবু হেমেন্দ্র দাশ পুরকারস্থ,ডাঃ হারিছ আলী, চেরাগ আলী,সাবেক মেম্বার বশির উদ্দিন ওরফে জুনাব আলী, চেরাগ আলী মাষ্টার, সহ নাম জানায় অনেকের নেতৃত্বে প্রতিদিনই প্রতিটি গ্রামে গঞ্জে মিছিল মিটিং চলছিল ও সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। আপাময় ছাত্র ,যুবক তরুন সমাজ উহুাল সমুদ্রের মতো জেগে উঠেছিল যে অগনিত কৃষক সমাজ। দীর্ঘ ৪৯ বছর পর তাদের অগ্রহনী অবদান কথা স্মৃতি বিজড়িত অগ্নিঝড়া দিন গুলো আজ যেন হারিয়ে গেছে । কোনো সভা মিটিংয়ে তাদের নাম ও স্মরন এখন কেউ উল্লেখ্য করছেন না । আব্দুল হক একজন দেশপ্রেমিক নিবেদীত প্রান পুরুষ’র নেতৃত্বে শ’শ’ যুবকরা সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছেন। তার নেতৃত্বে ৫নং চেলা সাব সেক্টর সৃষ্টি হয়। তার কবরটি আজ কোথায় রয়েছে ? এ প্রজন্মের যুবক জানেন! তার মৃত্যু কবে হয়েছেন আমরা তার কবর লইনা বলে দুঃখ প্রকাশ করেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার নামেই গোবিন্দগঞ্জবাসি আব্দুল হক স্মৃতি বিশ্ববিদ্যালয় নামকরন করা হলে ও তার কবরটি আজ দেশ-স্বাধীনতার ৪৯ টি বছর পেরিয়ে গেলে দেশপ্রেমিক আব্দুল হক কিভাবে মারা গেল তার রহস্য আজো রয়ে গেল অজানায়। দেশের জন্য প্রান দিল, দেশপ্রেমিক আব্দুল হক কবরটি রয়েছে চরম অযতেœ পড়ে আছে। কোথায় আছে,কি ভাবে আছে আমরা কি জানি।আমরা কখনো এসব খবর রাখা চেষ্টা কখন আমরা করেনি। গুনিজনকে আমরা সম্মান না করলে ও গুনি হতে পারবো না। গুনিজনকে স্মরন করার ক্ষুদ্র প্রয়াস। তার আতœজীবনী নিয়ে কোনধরনের লেখা বই তৈরির করার উদ্দ্যোগ নেয়া হয়নি।যত দিন এগিয়ে যাবে যতই এ সময় ছাতক সুফিবাদের রাজধানী হয়ে যাবার সম্ভাবনা বিদ্যামান আজই বলে অভিমত প্রকাশ করেন।
ঐতিহ্যবাহী আরাম দায়ক মাটির দালান আধুনিকতার ছোয়ায় এখন বিলুপ্তির পথে। মাটির দালান শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর বলে পরিচিত লাভ করেন। শীত গরম উভয় মৌসুমে আরাম দায়ক মাটির ঘর কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে। তাইতো আরামের জন্য ছাতক-দোয়ারা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি বিত্তবানও মাটির দালান তৈরি করে এক সময় বসবাস করেছে।বর্তমানে দরিদ্র কিছু মানুষের বাড়িতে মাটির দালান আজ আর দেখা যায় না।
ছাতক -দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১০ হাজারের বেশি পরিবার মাটির দালানে বসবাস করে আসছে। বর্তমান আধুনিক সভ্যতার যুগেও যেন ওদের জীবন যাত্রায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। ওরা পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাসের জন্যে নিজেরাই নিজেদের হাতে তৈরি করেন মাঠির দালান। এসব দালানে নিজেদের সাধ্যমতো টিন ও ছনের (খড়ের) চাল তৈরি করে তারা যুগ যুগ ধরে বসবাস করতো। তারা নিজেদের হাতে তৈরি এসব মাঠির দালানে বসবাসে তাদের স্বাচ্ছন্দ্যবোধ ও আত্মতুষ্টির কথা জানিয়ে তারা বলেন রড, সিমেন্টের তৈরি দালানের চেয়ে আমাদের নিজেদের হাতে মাঠি দিয়ে তৈরি দালানের স্থায়িত্ব অনেক বেশী । একটি মাঠির তৈরি দালানের স্থায়িত্ব প্রায় একশো’ বছর। এটি তৈরি করতে প্রায় ৩থেকে ৪মাস সময় লাগলে ও মাঠির দালান তৈরি খাতে কোন ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়না। টিলার চিকনি মাঠি দিয়ে নিজেদের বসবাসের জন্যে তৈরি করা হয় এসব মাঠির দালান। যা-আমাদের সংস্কৃতিতে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে সর্ব মহলে যূগ যূগ থেকে সমাদৃত হয়ে আসছে। তাদের কাছ থেকে আরো জানা যায়, মাঠির দালানে টিলা থেকে সংগৃহিত চিকনি মাঠি ও পানির সংমিশ্রনে এটি তৈরি করা হয়। ঘরের চাল দেয়া হয় ছন ও টিন দিয়ে। আগেকার দিনে এলাকার প্রায় প্রতিটি ঘরেই দেয়া হতো ছনের চাল। এখন অনেকে সাধ্যানুযায়ি চালে টিন ব্যবহার করছেন। এসব মাঠির দালানের দেয়ালের পুরোত্ব হচ্ছে এক ফুট থেকে দুই ফুট পরিমানে। অনেক দালানের দেয়ালের ভেতরে বাঁশের খুটা ব্যবহার করা হয়। কাঠ ও বাঁশের তৈরি দরজা ব্যবহার করা হয় দালানে। এসব দালানে প্রয়োজন মতো জানালা তৈরি করায় ঘরের সৌন্দর্য অনেকটা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। মাঠির নীচ থেকে গাঁথুনী দিয়ে দেয়াল নির্মানের ফলে ছিঁচকে চোর ও সিঁদেল চোরের আশ্কংা একেবারে নেই বললেই চলে। দেয়ালের পুরোত্ব এক ফুট থেকে দেড় ফুট থাকায় বন্দুকের গুলিও এসব দেয়াল ভেদ করতে পারবেনা বলে আশ্বস্থ করলেন বাড়ির মালিকরা। তারা আরো জানালেন টিলার ভেতর থেকে চিকনি মাঠি সংগ্রহ করে সংগৃহিত মাঠি একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেখে প্রথমে মাঠি ভেঙ্গে গুড়ো করা হয়। এরপর গুড়ো মাঠির সাথে কয়েক দফা পানির সংমিশ্রন দিয়ে এসব মাঠি থেকে আঁটালো জাতের কাঁদা তৈরি করে দেয়াল নির্মানের উপযোগী করে তোলা হয়। দালান তৈরি করতে একটি দেয়ালের একহাত পরিমানে উঁচু গাঁথুনী করার পর ইহা শুকানোর জন্যে আরো ২/৩দিন সময় অপেক্ষা করতে হয়। দেয়াল শুকানোর পর আবার ও নির্মান কাজ শুরু করা হয়। এভাবেই একটি দালান তৈরি করতে তাদের ৩থেকে ৪মাস সময় ব্যয় হয়। আর বৃষ্টির প্রকোপ থেকে রক্ষা করা গেলে এসব তৈরি দালানের স্থায়ীত্ব হয় প্রায় একশো’ বছর। দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউপির তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা এক যুগ আগে এলাকায় অনেক মাটির দালান দেখা যেত। কিন্তু কালের আবর্তে অট্টালিকার কাছে হার মেনেছে আরাম দায়ক মাটির দালান। অনুসন্ধানে জানাগেছে, এসব গ্রামের প্রায় লোকজন হতদরিদ্র ও দিন মজুর। টিলার মাঠি কেটে ঘর তৈরি উপযোগী করে ছোট ছোট মাঠির দালান তৈরি করে পরিবার পরিজন নিয়ে তারা এখানে যুগ যুগ থেকে বসবাস করছে। টিলা এলাকায় পুকুরের ব্যবস্থা না থাকায় মাত্র একশো’ ফুট গভীরতার মধ্যেই একটি টিউবওয়েল বসানোর ও ক্ষমতা নেই অনেকের। ৬০থেকে ৭০ফুট গভীরেই টিউবওয়েলের সুস্বাদু পানি পাওয়া যায়।
ফকির সাধকরা বেশী ভাগ ছন্মবেশি অচেনা নির্জন জায়গা হাট বাজার গঞ্জ স্থানে বাস করতে পছন্দ করেছে। রাস্তা পাশে এক পাগল পুর্বদিকে থাকিয়ে সজিদা দিচ্ছে,রাস্তা মানুষ এসব দেখে হাসি তামশায় করছেন। ফকির পাগলকে দেখে ডিল ও গালাগালি দেবেন না । পারলে পাশে গিয়েই সালাম দিন,কিছু খাইতে চাইলে তাকে পেট ভরে খাবার দিন। খাবার শেষ তাকে আপনি আমাকে একটি উপদেশ বা কিছু দিকনিদেশা দেন। প্রকৃত মারেফতি ফকির বা পাগল হলে আপনাকে দমক দেবে এবং কিছু খাবেন না বলে হেসে হেসে চলে যাবে। সাবধান ! হোক রাস্তা ফকির বা পাগলের উপর আঘাত বা গালি দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
আধ্যাত্বিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত সিলেট তিনশ, ষাট ওলি আউলিয়ার পবিত্র পুন্যভুমিতে আমরা ধণ্য। বাদশার ইশারায় সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ জেলার কালিদহ সাগর এলাকায় তার সফর সঙ্গি ইসলাম প্রচার জন্যœ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তাদের আগমনে এ মাটির উরবরতা বৃদ্ধি পেয়ে নদ-নদী হাওর বনজঙ্গলে ঘেরা অন্ধকারে আলো ছড়িয়ে বিধর্মী মানুষকে অশান্তি ধর্ম থেকে ইসলাম ধমের শান্তির বানী উদয়ন নিশান উড়িয়ে অসংখ্যা কারামত দেখিয়ে ইসলাম প্রচার করে গেছেন বলে আজ ও মানুষদের মাঝে নানা আজব গল্প কাহিনীর জনশ্রæতি রয়েছে এলাকায়। সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার আনাচে-কানাচে রয়েছে এসব ওলি আউলিয়া দরবেশ ফকিক পীর নামেই অসংখ্য মাজার স্থাপিত আছে। অনেক ওলি আউলিয়া ফকির দরবেশ নাম পরিচয়হীন অবস্থায় মাজার অযতেœ পড়ে আছে আমাদের শিল্প শহর দক্ষিন ছাতকে। তাদের মাজার সেখানে গিয়ে মাজারের দায়িত্বশীলদের অবস্থান ও তথ্য শিকড় থেকে শিখরে সন্ধানে অভিযাত্রা চালিয়ে ওলি আউলিয়া দরবেশ ফকির সর্ম্পকে জানা-অজানার তথ্য সংগ্রহ খোজে হাটে মাঠে পাড়া মহল্লায় ও গ্রামে গিয়েই ও তাদের মাজার সর্ম্পকে পরিচিত এনে পাঠকদের সামনে তুলে ধরা আপ্রান চেষ্টা করেছি।
বাংলার আধ্যাত্মিক রাজধানী দুটি পাতার একটি কুড়ির দেশ পূণ্যভূমি শ্রীহটের বুকে শায়িত আছেন বাংলার ”বাদশা’শাহজালাল (রঃ) ইসলাম প্রচারের নিরব ভূমিকা পালন করে গেছেন। প্রায় সাত শত বছর আগে ৩৬০ আউলিয়া ’শাহজালাল (রঃ) সহ সুদূর ইয়ামন থেকে শ্রীভূমি পদার্পন করেছিলেন খ্যাতমান দরবেশ হযরত শাহজালাল ইয়ামেনী (রহঃ)। তিনি আধ্যাত্মিক শক্তির বলে বিনা রক্তপাতে গৌর গোবিন্দকে পরাজিত করে গৌর রাজ্যে ইসলামের বিজয় নিশান উড্ডয়ন করেছিলেন। ন¤্র-বিনয়ী মনোভাব ও অকৃত্রিম ভালবাসা দিয়ে তিনি সকল ধর্মের মানুষের মন জয় করে একটি ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে সভ্যতার গোড়াপত্তন করেছিলেন। যে কারণে ভাব ভক্তি বিশ^াসের সহিত প্রগাঢ় শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে তিনি মানুষের মনে যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকবেন।
যার পদাঙ্কনে ধন্য সিলেটের মাটি ও মানুষ, গৌরবান্বিত গোটা দেশ ও জাতি। তিনি উপমহাদেশের একজন শ্রেষ্ঠ মহা মনীষী। অবাক লাগে! এ মহা পুরুষের জীবনী আলেখ্য লিখিত সঠিক কোন জীবনী গ্রন্থ খোঁজে পাওয়া কঠিন হবে। এভাবেই আমাদের ছাতক উপজেলার ওলি দরবেশ ফকির, পীরদের জীবনী খোঁজে পাওয়া কঠিন।
১৩০০ শতাব্দীতে ইসলাম প্রচার ও প্রসার ঘটেছিল আমাদের ছাতকে। শান্তি পায়রা ও ইসলামের দাওয়াত নিয়ে কয়েক জন ওলি নাম জানা অজানা ওলি আউলিয়া দরবেশ আসেন এখানে। তারা সবাই শাহ জালাল (রঃ)ইয়ামনি সংগী ছিলেন। দরবেশ শাহ জালাল (রঃ) ইশারা কালিয়া সাগরে পাড়ে গিয়ে দ্ধীনের ও ইসলাম প্রচার করেছিলেন।

বাংলার লোক সাহিত্যের ও লোক সংস্কৃতির উৎস স্থান হলো ছায়া সুনিবিড় আমাদের এই পল্লী। পল্লীর জন মানুষ এককালে লোক কবিদের রচিত পুথি পাঠ, কবি গান, বাউল, মুর্শেদী, মারেফতি, শরিয়ত, পল্লীগীতি, দেশাত্ববোধক, আধুনিক, সারি, জারি, সহজিয়া লম্বায় কিচ্ছা, মালজোড়া ও পালাগান ইত্যাদি দ্বারা তাদের নিজস্ব কৃষ্টিতে ঐতিহ্য মন্ডিত করেছিলো। গ্রামের নিরব সকল গ্রামীণ কৃষক কাজের অবসরে রাতের পর রাত জেগে শুনতো লোকগাথা গীতিকা। কালের পরিবর্তে আজ আমাদের লোক সংস্কৃতির ঐতিহ্য বিস্মৃতির অঞ্চলে হারিয়ে যাচ্ছে। এর মাঝে আজও ধাপটের সাথে ঠিকে আছে আমাদের সুফি সাধনা ও বাউল সঙ্গীত। বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার লোক সাহিত্য ও লোক সংস্কৃতির “সুফি সাধক” পীঠস্থান হিসেবে নিজস্ব স্বকীয়তায় সমৃদ্ধ। ৩৬০ আউলিয়ার পবিত্র জন্ম ভূমি সিলেটকে বলা হয় আধ্যাত্মিক শহর ও সুফি সাধকের সাধনা ভূমি বলা হয় এখন ছাতকে এবং ছাতকে আধ্যাত্বিক সাধকের উবর খনি ছাতক ও গোবিন্দগঞ্জ এলাকাকে বলা হয়। হাওর, বাওড়, প্রাকৃতিক সম্পদ অপূর্ব লিলা ভূমি শিল্প নগর ছাতক উপজেলার অলি, আউলিয়া, দরবেশ, ফকির, সুফি সাধকের সাধনা ভূমি হিসেবে বাংলার লোক সাহিত্যে সুফি সাধনায় সংস্কৃতিক সম্মানের আসনে পৌছেঁ দিতে সক্ষম হয়েছেন। উর্দ্দু, ফার্সী, আরবী, নাগরি ভাষা ও ইংরেজী ভাষা দার্শনিকদের জন্মভূমি এই শহরে। শহরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ে আছে পীর, দরবেশদের, অসংখ্য কেরামতি এর সু-গভীর আধ্যাত্মিক জ্ঞানের ভান্ডার। এই শহরে জন্ম গ্রহণ করেছেন বুদ্ধিজীবি, ইসলামিক দার্শনিক, উপমহাদেশের উজ্জ্বল নক্ষত্র জাতীয় অধ্যাপক দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, বিদ্যা স্যার, জ্ঞানের কবি দুর্বিন শাহ, আধ্যাত্বিকবীদ ফকির হিসেবে আফজল শাহ ওরফে আরমান আলী (রহঃ) কিংবদন্তীতুল্য সুফি ফকির। এদের মাঝে ছাতকে কৃতি সন্তান বৃহত্তর সিলেটের সুনামধন্য আধ্যাত্মিক মরমী কবি, দার্শনিক, লোকসাহিত্যে, সম্মানিত স্থান দখল করে রেখেছেন। আধ্যাত্মিক ফকির সাধক আফজল শাহ ওরফে আরামান আলী (রহঃ), মরমী কবি আসাদ উল্লাহ, হযরত শাহ সুফি আনাছ আলী (রহঃ), হযরত শাহ সূফি মোজাম্মিল আলী (রহঃ), মৌলানা আজিম শাহ (রহঃ) সুফি সাধক মাওলানা শাহ কাছিম আলী, সুফি সাধক শাহ ছাবাল আলী (রহঃ), ফকির হাসিম আলী, মরমী কবি আজমান আলী, মরমী কবি আসাদ উল্লাহ, মরমী কবি আজর আলী, মরমী কবি মরমী ক্বারী আমির উদ্দিন আহমদ, মরমী কবি জামাল উদ্দিন সুরুজ আলী, মরমী কবি আসকর আলী, মরমী কবি আব্দুল আজিজ চৌধূরী, মরমী কবি মান উল্লাহ, মরমী কবি গিয়াস উদ্দিন আহমদ, মরমী কবি ক্বারী আমির উদ্দিন আহমদ, এস.এম শরীয়ত উদ্দিন ,মরমী কবি মনির উদ্দিন নুরী, কবি আব্দুল ওয়াহিদ, এস.এম শরীয়ত উল্লাহ, মরমী কবি মনির উদ্দিন নূরী, মরমী কবি সালা উদ্দিন ভান্ডারী, মরমী কবি হিজরত আহমদ, কবি রেনুফা বেগম রাখী, মরমী কবি আনোয়ার হোসেন রনি, মরমী কবি আলতাব আলী, মরমী কবি রমিজ শাহ, মরমী কবি হাসনাত মোহাম্মদ আনোয়ার, মরমী কবি শাহিনা জালালী পিয়ারা, কবি ফরিদ আহমদ, মরমী মরমী কবি হেলাল খান, কবি মনসুর আহমদ, কবি ক্বারী মামুন, কবি শফিকুল ইসলাম, কবি আবু হানিফা মোহাম্মদ, মোছাদ্দেক, কবি ক্বারী শরীফ আহমদ, কবি এস.এম. সাইফুল আলম সিদ্দিকী, কবি মোহাম্মদ ফজলুল হক, সালাহ উদ্দিন ভান্ডারী ছাতক, কবি মাহবুবুর রহমান লায়েক, কবি সামছুন্নাহার, কবি আবুল খায়ের চৌধূরী বাচ্ছু, কবি আনোয়ার হোসেন রনি,সালা উদ্দিন ভান্তারী,নগর আব্দুল করিম,মতিউর রহমান, এর জীবন ও কর্ম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।
হযরত সৈয়দ ইউসুফ ইরাকী (রহঃ) হযরত শাহজালাল এর ৩৬০ জন সঙ্গীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তিনি ইরাকের হুসেনী সৈয়দ বংশে জন্ম গ্রহণ করেন। ইরাক থেকে হযরত শাহজালার (রহঃ) এর সঙ্গী হন বলে তাকে ইরাকী বলে ডাকা হতো। তিনি ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের সৈদেরগাঁও গ্রামে বসতি স্থাপন ও ধর্ম প্রচার করেন। তার নামানুসারে একটি ইউনিয়ন ও একটি গ্রামের নাম সৈদেরগাঁও নামকরন করা হয়, সেখানে তার মাজার অবস্থিত। হয়রত শাহ করিমাদাদ রুমি (রহঃ), এস.এম শরীয়ত আলী, পীর উসমান আলী শাহ, শাহ জমশেদ আলী পীর, শাহ ইয়াদ আলী, শাহ ইন্তাজ আলী, শাহ ফয়জন্দ আলী, শাহ বকশ আলী, মনাইশাহ, ফকির আব্দুল মানিক শাহ, নুর মামন শাহ হাফিজ, মিরশাহ (রহঃ), আরকান মুন্সী, গোলজারশাহ, মীরুশাহ, আয়াত শাহ, গেরা শাহ, নাজিম শাহ, মৌলা শাহ, নচিব আলী শাহ, আমান শাহ, ফয়াজ মুন্সী, শাহ, হেকিম শাহ, মামুন শাহ, হাসিম শাহ, মুলাই শাহ, আশু শাহ, খোদা বখসশাহ, জিকির শাহ, আব্দুল কাদির বকস শাহ, আজিম শাহ, পীর মাগাই শাহ, শাহ দিলমামন, হায়দার গাজী, আজিম শাহ, আব্দুল লতিফ, আব্দুল রশীদ পীর, ইদ্রিস ফকির, লাল শাহ, মধু শাহ, পাঁচপীর মাজার, গাজী মোকাম, মনছুর শাহ, আলী শাহ, জমির শাহ, টঙ্গী শাহ, আসাদ উল্লাহ, রমাই শাহ, জ্ঞানের সাগর মরমী কবি দুর্ব্বিন শাহ, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার প্রথম শ্রেনীর গীতিকার সুরকার ছাতক প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরমী কবি গিয়াস উদ্দিন আহমদ, মরমী কবি আজম আলী, হাসিম আলী শাহ, মনোহর আলী শাহ মুনু, মরমী কবি মাওলানা শাহ কাছিম আলী, ফকির মহব্বত উল্লাহ মতি শাহ, ফয়াজ মুন্সী, হায়দর শাহ, নইম শাহ, ফিরোজ শাহ, হবই শাহ, জরিপ শাহ, হাফিজ আলী আহমদ (রহঃ) নাগরি ভাষা পান্ডলিপি তৈরি করে রেখেছেন। আমাদের গ্রামীণ জনপদে বাউল সঙ্গীত এই সময় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বৃহত্তর সিলেটের নাগরি ভাষায় ¯্রষ্টা সুফি সাধক, বাউল ভাবের সঙ্গীত জগতের, হযরত শাহ মোহাম্মদ আফজল শাহ (রহঃ), মরমী কবি দুর্বিনশাহ,মরমী কবি হাসিম আলী শাহ, মরমী কবি ক্বারী আমির উদ্দিন আহমদ, মরমী কবি গিয়াস উদ্দিন আহমদ আজীবন নিষ্ঠাবান ছিলেন ভাবের জগতে। তাদের জ্ঞানে হিরন্মত দীপ্তি ছড়িয়ে অস্তাচলে ডুবে গেলেও অসামান্য প্রতিভাধর আধ্যাত্মিক সাধক, সাধনা করে সৃষ্টি করে অসংখ্য শরিয়ত, মারিফত, হকিকত, সহ সকল সুফিবাদ, মুর্শেদী গান। সুরকার গীতিকার মরমী বাউল সাধক হিসেবে তাদের নাম চিরদিন শ্রদ্ধাবরে স্মরণযোগ্য। তাদের রচিত গান শুনে শ্রোতাদের মনে প্রশ্ন জাগে যে, কে সেই সঙ্গীতের ¯্রষ্টা? কি দারুণ সৃষ্টি অনাদিকাল ধরে ¯্রষ্টা সৃষ্টির ভেতরে এক অন্তহীন রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। সেই প্রচ্ছন্ন রহস্য ভেদের অনুসদ্ধিৎসু সাধক, আফজল শাহ, দুর্ব্বিন শাহ, এর গান যেন হৃদয় তবিত। ¯্রষ্টা ঘিরে কখনো তারা বিগদ্ধ অন্তর বিদ্রোহে উর্চ্চকিত, কখনো ¯্রষ্টার প্রেমে আত্মহারা সান্নিধ্য কামনায় সমন্বিত পণ। আবার কখনো ¯্রষ্টার উদ্দেশ্য তারা জিজ্ঞাসা। আফজল শাহ, জ্ঞানের সাগর দুর্ব্বিন শাহ, মরমী কবি গিয়াস উদ্দিন আহমদ, সিলেটের সুুফি সাধক হিসেবে বহি বিশে^ সু-পরিচিত। তারা বেশী সংখ্যক গান তৈরি করেছেন মুর্শেদী শানে এবং তারা ফকির, দরবেশ, সাধু সন্নাসীর আখড়ায় তারা ব্যথিত হৃদয় খুজে পায় সুশীতল ছায়া। তখন থেকেই তাদের সঙ্গীত সাধনা শুরু করেছেন। কালক্রমে তারা ইসলামীক সুফি মতবাদের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন। ইসলামী ভাব সাধনার পথে অগ্রসর হয়েছেন। সুফিবাদের ভিত্তিতে আধ্যাত্মিক সাধনায় তারা ¯্রষ্টার স্বরূপ উপলব্ধির চেষ্টা করেন। সঙ্গীত সাধনায় বিচিত্র স্তর এবং ধারা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জনের পিপাসা তাদের মুর্শেদী ও মারিফতি সঙ্গীতের অনুগামী করে তোলে। সুফিবাদ হলো ইসলামের মরমীত্রেই মরমী বানানটি অশুদ্ধ নয়। ভাষ্য যা বাংলাদেশে একটি বহুল পরিচিত ‘শব্দ’ শরিয়ত হল ইসলামের কর্মমুখী আচরণবাদী দিক। আর মারেফাত হল ইসলামের মর্মমুখী বা মরমী দিক। তবে সুফি মতবাদটি টিক মৌলিখ নয় তার মানে ইসলামের এই মরমী যার ফলে সুফিরা ইসলামী বিশ^াস থেকে সরে এসছেন বলে সুফিবাদের বিরুদ্ধে ইসলামী শান্ত্রবাদী গুলেমারা সংস্কার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়নি। মতবাদটি দু’বার গতিতে প্রথমে পারস্যে-পরবর্তীকালে পারস্যে থেকে উত্তর ভারত এবং বাংলায় এসে পৌছে ঁছিল। কি ছিল সেই মরমী সুফিদের প্রাণ শক্তি উৎস ? এসব প্রশ্নে আজ ও আমরা বিস্মিত হই, পাশাপাশি বিচিত্র সুফি মতবাদের কারণে আজও সুফিবাদ নিয়ে আমাদের কৌতুহলের যেন কমতি নেই। কিন্তু সুফিবাদ নিয়ে বিতর্ক শেষ নেই। এসব সত্বেও বাংলার জন সমাজে প্রায় হাজার হাজার বছর ধরে মতবাদটি দারুন জনপ্রিয় ও গ্রহণীয়। বাংলার সুফি দরবেশদের চিন্তা ধারা আজ বাঙ্গালী মুসলমানের মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে আছে। প্রাথমিক যুগের সুফিদের অনুপ্রেরণা ছিল কোরআন শরীফ এর বিশেষ বিশেষ আয়াত। পরবর্তীকালে অবশ্য সেই আদি সুফিমত অনেকটা বিকৃত হয়ে পড়েছিল এবং সর্বশে^রবাদী ধ্যান ধারণার আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। পারস্যে, ভারত বর্ষে ও মধ্যযুগের বাংলার সু-প্রাচীনযুগ ও তন্ত্রের প্রভাবে সুফিবাদ ব্যাপক ভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায়। এভাবে উদ্ভব ঘটেছিল “লৌকিক ইসলাম” এর মূলে রয়েছে বেদাত ও শিরক এর মতো ইসলাম বিরোধী ধ্যান ধারণা। প্রভাবিত করেছিল বাংলার বাউল দর্শনকে। পরিশেষে সুফিবাদ থেকে বাংলার উদ্ভব ঘটে পীবোদ বা ইসলামের আমূল বিকৃতি কোষ্ঠের থাকবে। কেননা গবেষকগণ এ বিষয় একমত নয়। কারও মতে ইসলামের প্রাথমিক যুগে যে সমস্ত দরিদ্র মুসল্লী মসজিদের প্রাঙ্গণে বসে নামাজীদের কাছ থেকে ভিক্ষা গ্রহণ করতেন তারাই সুফি। ফয়লসুফ এর মানে দার্শনিক। ফয়লসুফ শব্দ থেকে সুফি শব্দের উৎপত্তি। আরবি পন্ডিতদের মতে আরবি ‘ইসমু জামিদ’ শব্দ থেকে সুফি হল ইসলামের প্রাথমিক যুগ যে উদাসীন মানুষ পশমের জামা পড়ে সংসার থেকে নিলিপ্ত থাকবার চেষ্টা করতেন তারাই সুফি। ওরা জামা পরিধান করতেন। সাম্যবাদী খলিফা উমর (রাঃ) পরতেন লম্বা ঢোলা পশমী জোব্বা। আমরা জানি মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ও চার খলিফার শাসন ব্যবস্থার অবসানের পর ইসলামী বিশে^ রাজতন্ত্রের উদ্ভব স
ইরাকী শাহ
হযরত শাহ সৈয়দ ইউসুফ (রঃ) এর ৩৬০ জন সগ্ংীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন ইরাকী শাহ।তিনি ইরাকের হুসেনী সৈয়দ বংশে জন্ম গ্রহন করেন। ইরাক থেকে হযরত শাহজালাল (রঃ) এর সঙ্গী হন বলে তাকে ইরাকী বলে ডাকা হয়। ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের সৈয়দ গ্ওা গ্রামে বসতি স্থাপন করে ধর্ম প্রচার করেছিলেন।তার নামানুসারে এই গ্রামের নাম সৈয়দ গ্ওা নামকরন হয়।সেখানে তার মাজার অবস্থিত আছে। এই গ্রামে তার বংশধরগন আজো ও বসবাস করছেন।
খাজা সিরাজ শাহ (রঃ)
হয়রত শাহজালাল মুজররত ইয়ামনি (রঃ) সফর সঙ্গীর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন হযরত খাজা সিরাজ (রঃ) সিলেট থেকে বাদশা নিদেশে ইসলাম প্রচার উদ্দ্যেশে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের আলোকিত সিরাজ পুর নামে
সরকারি ভাবে একটি মৌজার নামানুসারে এ বাড়ীর নামকরন করা হয়েছে ”কাজী বাড়ী”। কিন্তু তিনশো ষাটজন আউলিয়াদের মধ্যে ১২জন খ্যতিমান অলি মধ্যে অন্যতম ছিলেন খাজা সিরাজ উদ্দিন (রঃ)। খ্যাতিমান অলি সিরাজ উদ্দিনের নামে পরিচিত লাভ করলে ও সুরমা নদীর তীরে তার মাজার রয়েছে। সিরাজপুর গ্রামে আলোকিত মানুষ আধ্যাতিœক দরবেশ’র মাজার অন্ধকার রেখে তার চেরাগী ভুমি সম্পতি দখল করে লুটপাট করা হয়েছে বলে এলাকাবাসি অভিযোগ করেন। তার মাজার’কাজী বাড়ির পিছনে সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে অবস্থিত থাকায় তার মাজার প্রাঙ্গনে
নদীর কোন ভাঙ্গন নেই। মাজারের পুব ও পশ্চিম নদী ভাঙ্গনে কবলে পড়েছে অলৌকিক ভাবে মাজার প্রাঙ্গনে নদীর বালুচর জেগে উঠেছে। এ মাজার সমান না করায় প্রতিনিয়ত ভাবে সড়ক দুঘটনা ঘটছে বলে গত মঙ্গলবার রাতে একজন জনৈক কামেল পীর এ প্রতিনিধি’র কাছে মন্তব্য করেছেন।
মাজার প্রাঙ্গনে কেউ সেবা না করলে অলৌকিক ভাবে মাজার প্রতিনিয়ত ভাবে পরিস্কার কে বা কারা করছে। ইতিহাস পাতা পযালোচনা করলে ও একটা কাজী বাড়ী নয়,এ বাড়ীর নামক করন করা হলো একজন আধ্যাতিœক দরবেশ খাজা সিরাজ উদ্দিনের নামে পরিচিত লাভ করছে।এ ওলির নামে একটি মৌজা নামানুসারে নামকরন করে বিট্রিশ সরকার। এই ওলির নামে ’’চেরাগী” নামেই অনেক ক্ষেতে জায়গা ছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে এলাকায়।আজ দীর্ঘদিন ধরে ওলির মাজার টি অযন্ত্রে-অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছেন । সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের কাজীবাড়ি নামক এলাকায় প্রতিনিয়ত ভাবে ভারি কোষ্টার মিনিবাসসহ নানা ধরনের গাড়িগুলো মুখামুখি দুঘটনায় মানুষ মরার সংখ্যা বৃদ্ধির খবর গনমাধ্যমে প্রচার করছেন সাধারন মানুষ। একজন চালক জানায়,এ স্থানে গাড়ি নিয়ে আসা মাত্র কে বা কারা জোর করে গাড়ি খাদে ধাক্কা মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। এসব সময় গাড়ির ব্যাগ নিয়ন্ত্রনে রাখা কষ্ট হয়।এভাবে এ স্থানে বড় বড় সড়ক দুঘটনা ঘটছে। কেন ঘটছে এসুত্রের ধারার খবর কেউ রাখছে না । গোলচন্দ বাজার থেকে গোবিন্দগঞ্জ সাদা পুলের মুখ এলাকায় সড়ক দুঘটনা মানুষ মরছে।

হযরত খাজা সিরাজ শাহ ইয়ামনি (রঃ)
হয়রত শাহজালাল মুজররত ইয়ামনি (রঃ) সফর সঙ্গীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন খাজা হযরত সিরাজ (রঃ) বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের সিরাজ পুর নামে সরকারি গ্রেজে প্রকাশিত হলে এ বাড়ী নামকরন করেন ”কাজী বাড়ী”।কিন্তু ৩৬০জন আউলিয়ার মধ্যে ১২জনের মধ্যে অন্যতম ছিলেন খাজা সিরাজ (রঃ) ইয়ামনি। কাজী বাড়ির পিছনে সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে অবস্থিত রয়েছেন মাজারটি।কেউ মাজার সেবা না করলে অলৌকিক ভাবে মাজার পরিস্কার হয়ে যায়। ইতিহাস পযালোচনা করলে একটা কাজী বাড়ী নয়,এ বাড়ীর নামক করন হলো একজন ওলি নাম দিয়ে সিরাজ পুর নামে পরিচিত।এ ওলি নামে একটি মৌজা নামকরন করা হয়। এ ওলি ’’চেরাগী” নামেই অনেক ক্ষেতে জায়গা ছিল বলে জনশ্রæতি রয়েছে।আজ দীর্ঘদিন ধরে ওলি মাজার টি অযন্ত্রে-অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।
সৈয়দ শাহ আমীর ওরফে মীর শাহ (রঃ)
মীর শব্দটি আরবি থেকে এসেছে । আরবি শব্দ আমীর”এর সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে মীর। সেই অর্থে মীর অর্থ দলপতি বা নেতা প্রধান ব্যক্তি সরদার ইত্যাদি।জিতে নেয়া বা জয়ী হওয়া অর্থে মীর শব্দের ব্যবহার হতো । তবে মীর বংশীয় লোককে সন্ত্রান্ত এবং সৈয়দ বংশীয় পদবীধারীর একটি শাখা বলে গবেষকরা মনে করেন।দরবেশ শাহজালাল (রঃ) বইয়ের লেখক এস এম শরিয়ত উল্লাহ ১২৪ পৃষ্টা পষালোচনা করলে মীর শব্দ ব্যাখা করলে তিনশ’ষাট আউলিয়ার সফর সঙ্গী হিসেবে নামে তালিকা মেলে হযরত সৈয়দ আমির (রঃ) নামে একজন আউলিয়া। আজো রয়েছেন অজানা অচেনা মীর শাহ মাজারটি । হযরত শাহ সৈয়দ মীর শাহ (রঃ) নামে তালিকা মিলে তার মাজার কোথায় অবস্থিত তার সঠিক ইতিহাস শ’শ’বছর ধরে কেউ খোজে পাচ্ছেন। প্রায় সাত শত বছর ধরে সুদূর ইয়ামন থেকে সিলেটে পদার্পন করেছিলেন।
শাহজালাল (রঃ) এর সফর সাথীরা কে কোথায় অবস্থান নিয়েছেন ছাতকে। তাদের সর্ম্পকে একটু ধারনা দিতে পারি। দোলারবাজার ইউনিয়নের জাহিদ পুর গ্রামে তিনশ” ষাট আউলিয়ার সফর সঙ্গী হযরত শাহ সৈয়দ আমির ওরফে মীর শাহ(রঃ) মাজার অবস্থিত আছে। এ মাজার পাশে ছিল বন জঙ্গল ঘেরাও ছিল। পশু-পাখির গুন-গুন সুরে সাধারন মানুষের ঘুম ভেঙ্গে যেত। গভীর রাতে আকাশ-বাতাশ গাছ-গাছালি আল্লাহ জিকির ধ্যান মগ্ন ”লা লাহা ইল্লা শব্দ” সুর শুনা যেত বলে জনশ্রæতি রয়েছেন এলাকায়।দীর্ঘ দিন ধরে ওলি মাজার অবহেলিত রয়েছে । এ মাজার বিশাল একটি গাছ ছিল এ গাছে পাশে একটি ছোট নালা ছিল। এ নালা দিয়ে এলাকাবাসী গাভী দুধ দিতেন। এ মাজারে দুধ দিলে এ এলাকায় কখনো পশু-পাখি গরু মহিষের রোগ বালাই আসতো না । এ ভাবে কেটেছে যুগের পর যুগ।সিলেটের শাহজালাল নিয়ে প্রচুর বই বের করা হলে ও এখন ৩৬০জন ওলি জীবন কর্ম উপর সঠিক ইতিহাস খোজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু আমাদের ছাতকের ইসলাম প্রচার করার জন্য ৩৬০ আউলিয়ার বাদশা শায়খুল শাহ হযরত শাহজালাল ইয়ামনি (রঃ) ইশারায় পশ্চিম দিকে যেখানে হিন্দু বসতি স্থাপন করে সেখানে গিয়ে আউলিয়া ধর্ম প্রচার করেছেন বলে ইতিহাসে প্রমান মেলে।
মোকাম আরবি শব্দ। মোকাম শব্দ অর্থ হলো ”ঘর” । তৎকালিন সময়ে সবত্রই বন জঙ্গল ছিল। ওলি আউলিয়া দরবেশ ফকির সেখানে অবস্থান করতেন এবং এটাই ছিল তাদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র। আজ মোকাম গুলো একটি মহল্ল সংরক্ষন করে রেখেছেন।এসব সরকার ভুমি জায়গাকে মোকাম বাড়ী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাক,তৌজি,পরচা, দলিল,খতিয়ান, মৌজা,জেএল,পররগনা ইত্যাদিতে উল্লেখ্য করেন। এ উপজেলায় অসংখ্যা মোকাম বাড়ীর নামে শব্দটি বিভিন্ন গ্রামে পাড়া মহল্লায় হদিস পাওয়া যায়। অধিকাংশ মোকামবাড়ীতে রয়েছে ওলি আউলিয়া ফকির দরবেশ আস্তানা বিদ্যমান রয়েছে। গভীর রাতে গাছ-পালা বৃক্ষ গুলো লা-লা শব্দ সুর পাওয়া গেলে সেখানে গেলে পশু-পাখি মেলে এ জঙ্গলে।চারিদিকে সুগন্ধে সু-বাতাশ ছড়াচ্ছে মোকাম বাড়ী স্থান গুলোতে।কি যেন জিকির পড়ছে প্রভুর নামেই গাছ-পালা বৃক্ষ পশু পাখি’ তাদের লা-লা শব্দের সুর কোকিল কন্ঠকে হার মানায়।এসব মোকাম বাড়ী গুলো আজ কালে পরিবতে এ গুলো হারিয়ে যেতে বসেছে।
হযরত শাহ আরেফিন (রঃ)
হযরত শাহজালাল (রঃ)এর অন্যতম সঙ্গী ছিলেন হযরত শাহ আরেফিন ওরফে শারফিন (রঃ) গৌড় বিজয়ের পর সিপাহসালার নাছির উদ্দিন সহ বারজন আউলিয়াকে তরফ অভিযানে প্রেরন করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শাহ আরেফিন (রঃ)ওরফে শারফিন শাহ। তরফ বিজয়ের পর শাহ আরেফিনকে ”লাউড় রাজ্যে” প্রেরন করা হয়।যাত্রা কালে হযরত শাহ আরেফিন (রঃ) তরফের অর্ন্তগত দিনারপুর এলাকার গোপলা নদীর তীরে দরগাহ টিলা নামক স্থানে উপস্থিত হয়েছিলেন। কয়েক দিনের জন্য চিল্লা গ্রহন করেন। এ টিলায় আজ ও পুরনো একটি রাজবাড়ির ধব্বংসারশেষ দেখতে পাওয়া যায়। কেউ কেউ মনে করেন এখানে রাজা ভগদত্তের উপ-রাজধানী ছিল। আবার কেউ কেউ মনে করেন এখানে রাজকীয় জাকজমকে রাজা ভগদত্তের ফুল টঙ্গী বা হাওয়াখানা ছিল। এ টিলায় এ সাধু সন্ন্যাসী শাহ আরেফিন (রঃ) উপস্থিতিতে রাজা ভিষন বিরক্তবোধ মনে করেন,কিছুদিন অবস্থান করার পর হযরতের নুরানী ফয়েজের অলৌকিক তজল্লার মুখে ঠিকতে না পেরে রাজা তার এ সৌখিন হাওয়াখানাটি অন্যত্র স্থানান্তরি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এ টিলার নাম হলো দরগা টিলা বা শারফিনের টিলা নামে সু-পরিচিত লাভ করেন।এখানে আজ ও অনেক অরক্ষতি পুরনো নিদেশন পরিলক্ষিত বিদ্যামান রয়েছেন। কিছুদিন পর
শাহ আরেফিন (রঃ)উত্তর মুখি যাত্রা করে এক সময় সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে যাত্রা করে এক সময় ছাতক উপজেলার ফকির টিলা নামক স্থানে অবস্থান গ্রহন করেন।সেখানে কিছুদিন অস্থায়ী অবস্থান কালে সেখানে হুজরা স্থাপন করেছিলেন। আজ পযন্ত এখানে শারফিন টিলা মাঝে একটি মোকাম নামে পরিচিত রয়েছে।এ মোকামিিটতে প্রতিবছর নিদিষ্ট তারিখে ভাবুকদের ওরুস আয়োজন করা হয়। যে টিলায় শাহ আরেফিন (রঃ) অবস্থান করেছিলেন সেই টিলাকে ফকির টিলা নামে ডাকা হতো। এ টিলার নামানুসারে একটি গ্রাম ফকিকের টিলা বলে ফকির নামকরন করা হয়। ফকির টিলা থেকে একটু পশ্চিম উত্তরে কিছু দুরে টিলাগাও নামক স্থানে আস্তানা স্থানান্তর করেন। সেখানে শারপিনের নামে টিলার নামকরন করা হয়।। কিন্ত সেখানে বেশী দিন অবস্থান না করে উত্তর পুবদিকে রওয়ানা হয়ে বিন্দিয়া নামক স্থানে আস্তানা স্থাপন করেন। সেখানে বেশ কিছুদিন অবস্থান করেনি তিনি। তার নামানুসারে এ টিলা শারপিনের টিলা নামে পরিচিতি লাভ করেন। শারপিন টিলায় সরেজমিনে গেলে দেখা যায় টিলার পাদদেশে দক্ষিন প্রান্তে পাথর পরিবেষ্টিত দুটি মোকাম রয়েছে। এলাকাবাসী জানায় এ মোকামটি শারপিন শাহ মাজার বলে পরিচিত। কিন্ত এখানে শারপিন শাহ শায়িত আছেন কি না তারা জানেন না । তাদের পূর্ব পুরুষগন এ মোকামটিকে শারপিনের সমাধিস্থান মনে করে আসছেন। কিন্তু শাহ আরেফিন (রঃ)ওরফে শারফিন শাহ যে যে স্থানে অবস্থান নিয়েছিলেন । সেই স্থানে টিলায় মাটি সব পাথর বনে গেছেন। বর্তমানে এ টিলার মুল্য হাজার হাজার কোটি টাকা বলে তাদের বিশ্বাস। পাথর গুলোর উপর জ্বলন্ত মোমবাতির ভগ্নাবশেষ এবং আতর গোলাপজল পরিত্যত্ত বোতল ও শিশির সমাহার দৃশ্য বাস্তবে রয়েছেন এখানে। আদিবাসীরা জানায় এখানে শারফিন শাহ’র মোকাম অবস্থিত। এ মোকাম আশে-পাশে বাঘদের বিচরন বেশী ছিল,এমনি বাঘেরা পালাত্রæমে মোকামটি পাহারা দিত বলে জনশ্রæতি আছে। বাঘরা কখনো মানবকুলের কোন ক্ষতি করতো না । এ মোকাম একটি পাথর তিনটির উপর একটি গাছ রয়েছে। এ গাছটির পাতা নিয়ত অনুসারে ভক্ষন করলে রোগ –ব্যাধিতে উপকার পাওয়া যায়। আজ পযন্ত আদিবাসীরা শাহ আরেফিন (রঃ) মোকামটিকে শ্রদ্বা করে থাকে। প্রতিবছর মাঘ মাসের ৭ তারিখে এ মোকাম ও মাজারে পবিত্র ওরুস মোবারক অনুষ্টিত হয়। ফকির টিলা থেকে তিনি গোবিন্দ নগর গ্রামে মোকাম বাড়ীতে তিনদিনের একটি চিল্লা এসেছিলেন শাহ শারফিন (রঃ)।তিনদিনের চিল্লা শেষ করে আবার চলে যান ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের শারফিন টিলায় গেলে দেখা যায় এ টিলার পাদদেশে প্রান্তে পাথর পরিবেষ্টিত দু’মোকাম রয়েছে। এখানে হাদার পাহাড় নামে একটি বিশাল টিলা রয়েছে। অরিন বনজঙ্গল গাছ-গাছালি প্রকৃতি সবুজ সমাহার মনোরম পরিবেশ ঘেরাও ছিল। এখানে দিনের বেলা কেউ বাঘ সিংহ মানুষ ভয়ে যেতে না । প্রায় রাতে বাঘের বিচরন অবাধে ছিল। কিন্তু বাঘ মানুষের কোন ক্ষতি করতো না বলে জনশ্রæতি রয়েছেন। যেখানে শাহ আরেফিন (রঃ) অবস্থান নিয়েছিলেন সেই মাটি আজ পাথরের সমাহার হয়ে গেছেন। শারপিন শাহ পদভারে এই এলাকার মাটি আজ পাথরের রুপান্তরিত হয়েছেন। কিছুদিন পর শারফিন টিলা ছেড়ে পশ্চিমমুখী হয়ে হাটতে শুরু করেন। এ টিলাটি ছাতক ও কোম্পানী গঞ্জ থানায় অবস্থিত। এখানে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে অহরত দুঘটনায় মানুষ মারা যান। এসময় দোয়ারা বাজার উপজেলার বাশতলা নামক স্থানের অদুরে ভারতের সীমান্ত অভ্যন্তরে গারো উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় একটি অরিন বন জঙ্গলে ছোট টিলার উপর খানিকক্ষন যাত্রা বিরতি করেন। সেখানে ছোট একটি টিলার উপর একত্রে তিনটি পাথর (ঝাওয়া)মধ্যে দাগ রয়েছেন।
এছাড়া এখানে একটি জনশ্রæতি রয়েছেন যে ’শারপিনের দোহাই’ দিলে বাঘ-ছাগলে নাকি একি ঘাটে ছাগল আর বাঘ মিলে পানি পান করতো ।লাউড় রাজ্য ও তার আশপাশ রাজ্যে সমুহে বাঘের অবাধ বিচরন উপদ্রব ও অত্যাচার সে সময়ে খুব বেশী ছিল।বাঘের আগমন অত্যাচার,কিংবা বাঘ দেখলেই-বাবা ”শারপিনের দোহাই”,বাবা ”শারপিনের দোহাই” বলে মানুষের চিৎকার করতো ।মানুষের চিৎকার আওয়াজ শুনে বাঘ শারপিনের দ্হোাইকে মান্য করতেন বলে জনশ্রæতি আজ ও রয়েছেন এসব এলাকায়। এখান থেকে ভোলাগঞ্জ হয়ে লাউড়ের পাহাড়ে তাহির পুর উপজেলায় চলে যান।লাউড়ের পাহাড়ে তার মাজার অবস্থিত আছে।এখানে তার অনুসুরিরা আস্তানা স্থাপন করে বসবাস করেন। তারা হলেন সাইয়্যেদ পেয়ার মোহাম্মদ (রঃ) সাইয়্যেদ ইয়ার মোহাম্মদ (রঃ) সাইয়্যেদ শাহ মোহাম্মদ (রঃ) ছাতক শহরে নাগড়া মহল নামেই একটি ছোট মসজিদ প্রতিষ্টাতা করেন।সেই সময় গভীর জঙ্গলে সুরমা পাড়ে বসতি স্থাপন করেন।এ স্থানে নামকরন হয় ”দারুস সালাম” প্রতি সপ্তাহে একবার মজলিস বসতো দারুস সালাম নামক স্থানে। তিনি স্থায়ী ভাবে বসতি স্থাপন করেছিলেন মল্লিক পুর গ্রামে। তখন জাওরিয়া খানকাহ সৃষ্টি করেছেন আধ্যাত্বিক রাজধানী সিলেটের বিভিন্ন জেলায় ও উপজেলায় মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্টা করে গেছেন। তিন ওলি’র ছায়াঘেরা করে রেখেছেন। ছাতক, সিলেট ও সুনামগঞ্জ সহ হযরত শাহ আরেফিন (রঃ) প্রায় দেড় শতাধিক বসার আসনের অবস্থান খোজে পাওয়া যায় । প্রতি আসনে ফয়েজে বিদ্যামান আছেন কেবা কারা এখানে মোমবাতি জ্বালায় কেউ বলতে পারেনি। অলৌকিক ভাবে শারপিন শাহ ও হযরত গায়েবী পীর (রঃ) নামে আরেক সাথী ছিলেন লাউড় রাজ্য। তাদের আসনে মোমবাতি জ্বলছে ছাতক,সিলেট,কোস্পানি গঞ্জ গোয়াইনঘাট সহ এলাকায় অরিন বনজঙ্গলে। ছাতক উপজেলার অধিকাংশ মোকাম বাড়ী ছিল শাহ আরেফিন (রঃ)ও হয়রত গায়েবী পীর (রঃ) অনুকুলে।
অতঃপর সেখানে থেকে রওয়ানা হয়ে অনেক দুর লাউড়ের পাহাড়ে সুউচ্চ চুড়ায় তিনি স্থায়ী আস্তানা স্থাপন করেন এবং সেখানে ধর্ম প্রচারে আতœনিয়োগ করেন।সেখানে তার মাজার রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন শারপিনের মাজারে উঠতে হলে সমতল থেকে শুরু করে টিলা ও উর্চ্চ পাহাড় অতিত্রæম করে উপরের দিকে উঠতে হয়।হযরত শাহ শারপিন (রঃ) এ পাহাড়ের চুড়ায় উঠতে যে সমস্ত পাথর স্পর্শ করেছিলেন সে সমস্ত পাথরের গায়ে আজ ও পা এবং হাতের পাছ আংগুলির দাগ বিদ্যামান রয়েছে। তার প্রতি আজ ও হাজার হাজার মানুষের প্রগাঢ় শ্রদ্বা রয়েছে। শাহ শারপিন (রঃ) ব্যবহৃত জায়নামাজ ও ব্যবহৃত কুয়া কালে স্বাক্ষী হয়ে আজ ও বেচে আছে। তার পবিত্র ওরশ মোবারক উপলক্ষে দেশ বিদেশ থেকে লাখ-লাখ ভক্তবৃন্দরা সমাগম ঘটে বাংলাদেশ আর ভারতের সীমান্তে। লাখ-লাখ মানুষের ভিড়ের কারনে রয়ো-বৃদ্বরা উপরে উঠতে পারে না । পারে না মাজারের দৃশ্যটা সচক্ষে দেখে মনের তৃঞা নিবারন করতে। ওরশে সময় শারপিন টিলা ও উচ্চ পাহাড় দলবেধে পিপীলিকার মতো পাথর বেয়ে বেয়ে শারপিন ইয়া শারফিন বলে জয়ধবনি তুলে উপরে উঠছে। সবাই একই কায়দায় নিচে নামছেন।কিন্ত পা পিছলে কেউ হতাহত হচ্ছে না । সকল ধর্মের সকল বর্নের মানুষের আগমন লক্ষ্য করা যায়। সবার উদ্দেশ্য একটা শারপিন বাবা ফয়েজ ও দোয়া নেওয়া জন্য এখানে এসেছেন। ওরশে থেকে ফেরার পথে মনের বাসনা পুর্ণেও উদ্দেশ্য কিংবা রোগ মুক্তি কামনায় ভক্তি বিশ্বাস প্রেম ভাবে তার ব্যবহৃত কুয়াটি পানি উঠিয়ে নেন । পরিবার পরিজন সহকারে তাবারুক হিসেবে পান করতে হয়। এ কুয়া আরবের আবে ঝম ঝম কুয়ার সাথে সংযুক্ত রয়েছেন বলে মানুষের ভক্তি ও বিশ্বাস করেন। এ আধ্যাত্বিক ক্ষমতাধর দরবেশ ওলি আউলিয়ার মাজারটি ভারতে লাউড়ের পাহাড়ে অবস্থিত।
লোক সাহিত্যের উজ্জল নক্ষত্র
দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ
দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ জাতীয় অধ্যাপক লোক সাহিত্যে উজ্জল নক্ষত্র । জাগতিক আধ্যাত্বিক চেতনার মধ্যদিয়ে মানুষ জীবন যাপন করেছেন। মানুষ স্বাপ্নিক। যার অন্তদৃষ্টিতে কিছু দেখেন তিনি দার্শনিক। তেমনি আমাদের মনোজগতে এক আন্দোলিত ও আলোকিত মানুষের নাম দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, তবুও এক অসম্ভব অনুভব। তার উপস্থিতি প্রতিনিয়ত আমাদের মনকে দোলা দিয়ে যায়।তিনি আমাদের দর্শন আকাশে ধ্রæবতারা হয়ে বেচে রয়েছেন । তিনি আমাদের সংস্কৃতির উঠোনে প্রাজ্ঞ অভিভাবক হয়ে। দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ আমাদের জাতীয় জীবনে এক নক্ষত্র পুরুষ এবং উপমহাদেশের অন্যতম দার্শনিক ছিলেন। তিনি যে, সামগ্রীক জীবন দর্শনের মখোমুখি হয়েছিলেন, তা হচ্ছে ইসলামী বিশ্ব জনীন জীবন দৃষ্টি। এ দৃষ্টি ভঙ্গিতে মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল কর্মকান্ডে একাগ্রচিত্তে মনোনিবেশ করেছিলেন। তিনি স্বীয সম্প্রীতি ও উদারতার মাধ্যমে সকল ধর্মাবলম্বী মানুষকে তার আলিঙ্গনে আনেন। ইসলামের প্রতি তার অগাত অনুরাগ তাকে সংকীর্ণতার উর্ধেŸ এনে সর্বজন শ্রদ্ধের করে তুলেছিল। তার জীবন দর্শন সচেতন মানুষের মানবিক কল্যাণের আলোকে বর্তিকা। দেওয়ান মোহাম্মদ আজরক বাংলা ১৩১৩সনে ৯ কার্তিক শুক্রবার ইংরেজী ১৯০৬সালে ২৫ অক্টোবর ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পদ ও সৌন্দর্যের প্রতিক, হাজার বছরের শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র ভুমি হযরত শাহজালাল (রঃ) স্মৃতি বিজড়িত ধন্য পুর্ণভূমি সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামে তার নানা মরমী কবি হাসান রাজার বাড়ীতে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম দেওয়ান মোহাম্মদ আসক। তিনি ছাতক দোয়ারা বাজার উপজেলার দোহালিয়ার একজন জমিদার এবং তাসাউফ হাজী বুযুর্গ ব্যক্তি ছিলেন তিনি। মাতার নাম রওশন হোসেন বানু(হাসন রাজার জেষ্ট কন্যা) । তিনি একজন বিদুষী মহিলা ছিলেন। দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ দুহালিয়ার মধ্যে ইংরেজী স্কুল সুনামগঞ্জ জুবিলি হাইস্কুল সিলেট মুরাদী চাঁদ কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ক্রমে অধ্যায়ন করেন। ১৯২৫ সালে তিনি প্রথম বিভাগে ফারসিতে লেটার সহ জবেশিকা পরীক্ষা এবং ১৯৩৩সালে ডিষ্টংশনসহ ত্রি পরীক্ষা উত্তীর্ণ হন। ১৯৩২সালে তিনি দ্বিতীয় শ্রেণিতে দর্শন শাস্ত্রে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। অত:পর তিনি ৩-৪ বছর ভারত ভ্রমন করেন। দেওয়ান আজরক ১৯২৫সালে ফেব্রæয়ারী মাসে মরমী কবি হাসন রাজার দ্বিতীয় পুত্র গণিউর রাজার কনিষ্ঠা কন্যা সাজিদুন্নেসা খাতুন চৌধূরী রাণী সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
তিনি ৬পুত্র ও ২কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। সব্যসাচী লেখক হিসেবে রয়েছে তার সু:খ্যাতি। তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, দার্শনিক,ইসলামী চিন্তাবিদ, ও সুলেখক ছিলেন। শিয়াল মামা শীর্ষক গল্পের মাধ্যমে ১৯১৮সালে সাহিত্যঙ্গনে প্রবেশ করেন।
সূদীর্ঘ সাহিত্যিক জীবনে বিভিন্ন বিষয়ে তিনি ৫৫টি গ্রন্থ রচনা করে গেছেন। বাংলা ইংরেজীতে অনেক প্রবন্ধ লিখেছেন দেশ বিদেশের পত্র পত্রিকায়। দর্শনের নানা মাত্রিক আলোচনায় তিনি আপন যুক্তি উপস্থাপনে পারঙ্গম ছিলেন। ১৯৩৬সালে মুহাম্মদ নুরুল হকও অন্যান্যদের ঐকান্তিক সহযোগিতার দেওয়ান মোহাম্মদ আজরক ছিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ গঠন করেন। দেওয়ান একলিজুর রাজা এবং মোহাম্মদ নুরুল হক যথাক্রমে সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হন। দেওয়ান মোহাম্মদ আজরক ১৯৪০-৪৩সালে ঐ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। দেওয়ান মোহাম্মদ আজরক সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান করে বাংলােেশর স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খাঁন ভাসানীর একান্ত সহচরে পরিনত হয়েছিলেন। মাওলানা ভাসানীর ১৯৪৭খ্রিস্টাব্দে নির্বাচন ও ভোর্গ করেছেন তিনি। মাওলানা ভাসানীর ১৯৪৭খ্রিষ্টাব্দে আসামে লাইন প্রথর প্রতিবাদ যে আন্দোলন চাঙ্গাঁ করে তুলেন সেই আন্দোলন এক পর্যায়ে মাওলানার ডাকে বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত বড় বড় প্রতিবাদ সভায় দেওয়ান মোহাম্মদ আজরক তেজাদীপ্ত বক্তৃতা দিয়ে জনমনে নন্দিত নেতা হয়ে উঠেন।
সিলেটের পূর্ব পাকিস্তানে সঙ্গেঁ তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সব ধরনের শোষণ বঞ্চনার বিরোধী ও মানবতাবাধী । রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্ব পূর্ণ ঘটনা । সেই ঘটনা আজ সারা বিশ্বে স্বরণ করাহচ্ছে গৌরবের সাথে।সত্যি আমরা গর্বিত।
দেওয়ান মোহাম¥দ আজরফ ছিলেন একজন ভাষা সৈনিক । ভাষা আন্দোলন সর্বপ্রথম শুরু করে যে সংগঠন র তার নাম তমদুল মজলিম । তিনি ছিলের তমদুল মজলিসের সবাপতি ।
এছাড়া সিলেট থেকে প্রকাশিত নওবেলাল পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন তিনি । নওবেলাল পত্রিকা ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।
দেওয়ান মোহাম¥দ আজরফ জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহন করার পরও সহজ সরল ঝীবন জাপন করতেন । নীতির প্রশ্নে তিনি ছিলেন অটল ।সব সময় অন্যের বিরুদ্ধে কথা বলতেন । তিনি ছিলেন জমিদার প্রথার বিরোধী প্রজাদের ওপর জমিদারের জুলুম , নিপীড়ন ও শোষনের বিরুদ্ধে প্রথিবাদ কন্ঠ। জালিম জমিদারদের বিরুদ্ধে তিনি নামকার নামে একটি উপন্যাস লিখেছিলেন । তার এই নীতির কারণে স্বয়ং তার পিতা তার বিরোধি হয়ে উটেন ।একটি ঘটনা দেখা যায় তিনি তার পিতার বিরুদ্ধে সত্যের পথে দাঁড়ান । আদালতে মামলা ও পরিচালনা করেন । তিনি সত্যের পক্ষে ছিলাম এবং সত্য প্রতিষ্টা করেছি । দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ অনেক মানবীয় গুন ছিল । তিনি ছিলেন মহৎ হৃদয়ের অধিকারী , ছিলেন মানবতাবাধী । দল-মত,জাতী-ধর্ম নির্বিশেষে ধনী-নিধন সবাইতার কাছে বিড়তো । তিনি ছিলেন নিরস্কারী ।তাদের জমিদারির আওতাভূক্ত অনেক লোককে তিনি জমাজমি একে বারে দান করে দিছেন । মানবথা প্রতিষ্টার লক্ষে আজীবন সংগ্যাম করে গেছেন ।তিনি ইসলামের অনুসারি লোক। কেবল ইসলাম মানলেই মানুষ মানবতাবাধী হতে পারে ।
দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ছিলেন দর্শন তত্বের বিশারত।এজন্যে ব্যাখা দিয়ে সবার পরিবেশ বদলে দিতেন । ভাষা ছিল সহজ কিন্তু অর্তপুর্ন ।তিনি ছিলেন আজীবন একজন পুড়–য়া মানুষ ।পড়া ব্যতীত তিনি যেনো এক মুহূতে কাটাথে পারতেন না । তার রুমের চারপাশে থাকতো অজশ্র বই । বৃদ্বা বয়সে তিনি পড়ে কিছুদিন আগে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ।ভাষা সাহিত্য ও রাজনীতির সাথে তার সম্পর্কের জন্য ১৯৪৬ সালে আসাম আইন পরিষদের সদস্য নির্যাতিত হন ।তিনি ১৯৪৭ সালে আসাম সরকারের বাঙ্গাল খেদা অভিযানের বিরুদ্বে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং১৪৪ ধারা অমান্য কচর শীলচর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন । তিনি পাকিস্তান দর্শন সমিতির সদস্য পদ ১৯৫৪ সালে লাব করে দর্শনের আকাশে ধীর্ঘকাল বিচয়ন করেন । নিজের কাছে প্রশ্নের সম্মুখিন হয়ে তিনি জীবন প্রভাতেই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে,১৯৬২ সালে ইরাক সরকারের আমন্ত্রনে ইরাক যান । সেখানে বাগদাদ নগরীর সহস্র প্রতিষ্টা বাষিকী এবং দার্শনিক আল-জিন্দির সহস্র বার্ষিকী যোগদান করেন ।তিনি ১৯৮১ সালে ভারত সরকারের আমন্ত্রনে যোগদান করেন ।
দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ সাহিত্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবধানের জন্য বিভিন্ন সময়ে পুরস্কার লাভ করেন ।
তিনি ১৯৮১ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার,১৯৮৫ সালে আর্ন্তজাতিক মুসলিম সংহতি পুরস্কার,নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৮৪) ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ স্বর্ণ পদক,(১৯৮৯) মহান একুশে পদক, (১৯৯২) মাওলানা আকরাম খাঁ স্বর্ণপদক,(১৯৯৩) জালালাবাদ স্বর্ণপদক (১৯৯৪) কবি মোজাম্মেল হক,পুরস্কার (১৯৯৩) শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর এবং স্বনাবেশ পরস্কার ভূষিত হয়েছেন। ১৯৯৩ সালে সরকার এই মহান ব্যক্তিত্বকে শিক্ষা, সমাজ, সংস্কৃতি স্বরূপ জাতীয় অধ্যাপক নিযুক্ত করেন।এই মহৎ প্রাণ ব্যক্তি ধুলি মাটির সংসারের রৌদ্রজ্জ্বল মায়া কাটিয়ে অনন্তের শাশ^ত মহা পৃথিবীতে চলে গেছেন ১লা নভেম্বর ১৯৯১ সালে। নিভৃতে চির নিদ্রায় শায়িত আছেন কোলাহল মুক্ত পানাইল গ্রামে মসজিদের কাছে মায়ের কবরের পাশে। কিন্তু আমাদের জ্ঞানের এমন একটি দীপশিখা জ¦ালিয়ে গেছেন যা থেকে মানুষ যুগ যুগ উৎসাহ উদ্দীপনা পাবে। আমরা তাঁর পরকালীন জীবনে মুক্তি ও সম্মানিত স্থান কামনা করছি।

 

About admin

Check Also

এবার ছাতক সিমেন্ট কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন কারনে বন্ধ

এবার ছাতক সিমেন্ট কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন কারনে বন্ধ ছাতক প্রতিনিধি, এবার স্মরণকালের সবচেয়ে বড় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!