চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও ফেসবুকে অপ প্রচার
ছাতকে চাদার টাকা না দেয়ায় অপপ্রচারে
শিকার ব্যবসায়ি দুলু মিয়া!
ষ্টাফরিপোটারঃ
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচারের অভিযোগে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুইজনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বিশিষ্ট পাথর ও বালু ব্যবসায়ী মো. দুলু মিয়া।এই অভিযোগের ঘটনায় দুই দিন ব্যাপি ব্যাপক নানা আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে জেলাজুড়েই।
অভিযোগকারী ব্যবসায়ি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গণেশপুর নোয়াগাঁও গ্রামের মো. দুলু মিয়া।
লিখিত অভিযোগে অভিযুক্ত করেন— মো. নাজমুল হাসান জুয়েল (৪২), সাজ্জাদ মাহমুদ মনির (৩৬), অজিত কুমার দাশ (৪২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে।
অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে ইসলামপুর ইউনিয়নের মরাচেলা নদীর পাশে অভিযোগকারীর বৈধ মালিকানাধীন জমিতে শ্রমিকরা সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের কাজ শেষ করে সরঞ্জাম গুছানোর সময় অভিযুক্তরা নৌকাযোগে সেখানে উপস্থিত হন।
এ সময় তারা প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা এবং মাসিক ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তাদের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ না করলে ওই স্থান থেকে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, পরিচয় জানতে চাইলে অভিযুক্তরা নিজেদের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন।
ব্যবসায়ি দুলু মিয়া চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি এবং এক দিনের মধ্যে টাকা না দিলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চাঁদা না পেয়ে অভিযুক্তরা অভিযোগকারীর অনুমতি ছাড়াই তার ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা, মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছে। এতে তার সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম এবং ব্যবসায়িক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতা ভুগছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।
ব্যবসায়ি দুলু মিয়া অভিযোগের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনানুগ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এব্যাপারে নাজমুল ইসলাম জুয়েল উল্লেখ্য, অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন,তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি সঠিক নয়।
পুলিশ জানায়,উভয় পক্ষে মধ্যে থেকে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে জুয়েল দুলু মিয়ার ছবি ব্যবহার করে নানা অপ প্রচার করছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করছেন।
এ ব্যাপারে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”##
Leave a Reply