Breaking News

আদাল‌তে আ‌দেশ মান‌ছেন না কতৃপক্ষ ২৩ জন প‌রিবহন শ্রমিক বেতন ভাতা পা‌চ্ছেন না

Print Friendly, PDF & Email

আদাল‌তে আ‌দেশ মান‌ছেন না কতৃপক্ষ ২৩ জন প‌রিবহন শ্রমিক আট বছরে ও বেতন ভাতা পা‌চ্ছেন না

ছাতক প্রতি‌নি‌ধি,
আদাল‌তে আ‌দেশ মান‌ছেন না ছাতকে লাফার্জ সুরমা হোলসিম বাংলাদেশ( লাফার্জ এর সুপারক্রীট সিমেন্ট) কারখানার কতৃপক্ষ। হাইকোর্ট বিভাগে আদাল‌তে রায়ের আ‌দেশ মান‌ছেন না লাফার্জ সুরমা সি‌মেন্ট কোম্পানীর কতৃপক্ষ ও ঠিকাদা‌রি প্রতিষ্টান এইচ আর এন্টারপ্রাইজের মা‌লিক হারুনুর রশিদ।কিন্তু আপিল ট্রাইব্যুনালে শুনাণী শেষে পরিবহন শ্রমিকদেরকে সুযোগ- সুবিধা দেয়ার জন্য নিম্ন আদালতের দেয়া রায় বহাল রাখেন ট্রাইব্যুনাল। তবুও আদালতের এসব রায় কে তোয়াক্কা করেনি লাফার্জ ‌সি‌মেন্ট কোম্পানীর কতৃপক্ষ।
২৩ জন প‌রিবহন শ্রমিক আট বছরে ও বেতন ভাতা পা‌চ্ছেন।
পরিবহন শ্রমিকরা তাদের চাকুরির নিয়োগপত্র বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়ে আসলেও তাদের দাবির এ বিষয়টি আমলে নেয়নি লাফার্জ সুরমা সি‌মেন্ট কোম্পানীর কতৃপক্ষ। এ রায় বাস্তবায়ন না করায় লাফার্জ কতৃপক্ষ ও ঠিকাদা‌রি প্রতিষ্টানে মা‌লিক হারুনুর রশিদ না‌মে শ্রমিক নেতা খালেদ মিয়া বাদী হ‌য়ে থানায় সাধারন ডা‌য়েরী ক‌রেন এবং হারুনুর রশিদকে এডভোকেট সুখময় চক্রবর্তী কর্তৃক একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রেরন করে লাফার্জ সুরমা সি‌মেন্ট কারখানার দালালী থেকে মুক্ত থাকার অনুরোধ ক‌রা হয়।
পরিবহন শ্রমিকরা তাদের চাকুরির নিয়োগপত্র বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়ে আসলেও তাদের দাবির এ বিষয়টি আমলে নেয়নি লাফার্জ সুরমা সি‌মেন্ট কোম্পানীর কতৃপক্ষ।

জানা যায় গত ২০১৩ সালের ৯ডিসেম্বর নিজেদের অধিকার বাস্তবায়নের দাবী‌তে চট্টগ্রাম ২য় শ্রম আদালতে ২৩টি মামলা(নং৩০ থেকে ৫২) (আইআর) দায়ের করেন এসব পরিবহন শ্রমিকরা। এ মামলার পর ২০১৪ সালে কোন কারণ না দেখিয়ে আদালতের কাছে বিচার চাওয়া ২৩ পরিবহন শ্রমিককে একযোগে দালাল হারু‌ন র‌শি‌দের কু মতল‌বে ছাটাই করে দেয় লাফার্জ কতৃপক্ষ। পাশাপাশি কোম্পানির পক্ষ থেকে আদালতে মামলা খারিজের আবেদন করেন। শুনানী শেষে আদালত ২০১৪ সালের ১০ মার্চ শ্রমিকদের মামলার বিপরিতে লাফার্জের মামলা খারিজের আবেদনটি নামঞ্জুর করা হয়। কিন্তু আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ আবারও ঢাকা শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল মামলা(নং ৭২ থেকে৯৪) দায়ের করে। আপিল চলাকালীন অবস্থায় আদালত ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া অব্দি শ্রমিকদের সকল সুযোগ- সুবিধা বহাল রাখার আদেশ প্রদান করেন আদালত। এ আদেশের বিরুদ্ধেও লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট (লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ) কোম্পানী হাইকোর্ট বিভাগে ২০১৪ সালে একটি রিট মামলা(নং৩৫৩৯) দায়ের করে।
সর্বশেষ আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধেও আবারও এই কোম্পানী ২০১৪ সালেই হাইকোর্ট বিভাগে আরও একটি রিট মামলা (নং- ৮৬৭২ থেকে ৮৬৯৪)দায়ের করে। এই রিট মামলায় ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ রুল ডিসচার্জ করে ও ভেগেট করে মূল মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশসহ লাফার্জের করা ২০১৪ সালের রিট মামলা(নং৩৫৩৯) ননপ্রসিকিউশন হেতুতে ডিসচার্জ করে দেন আদালত।
পরে পুনরায় মুল মামলা চালুসহ শ্রমিকরা তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য চট্টগ্রাম ২য় শ্রম আদালতে আবেদন করলে ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট লাফার্জ হোলসিম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা ২৩ পরিবহন শ্রমিককে বেতনভাতা প্রদানসহ চাকুরিতে যোগদানের আদেশ প্রদান করেন।শ্রমিকদের ন্যায্য পাওয়া না দিয়ে এই কোম্পানী আবারও ২০১৮ সালে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আরও একটি রিট মামলা (নং৮৩১) দায়ের করে। পাশাপাশি শ্রমিকরাও তাদের অধিকার পেতে রীট মামলাটি স্থগিত আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে লিভ টু আপিল মামলা(নং১১৭৩) দায়ের করে। শুনানী শেষে আদালত চলতি বছরের ১১ মার্চ পরিবহন শ্রমিকদের সকল সুবিধা বহাল রাখার আদেশ প্রদান করেন। এরপর লাফার্জ একই কোর্টে আদেশ মর্টিফিকেশন চেয়ে আবেদন করলে তা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ২০ মে মহামান্য প্রধান বিচারপতির কোর্টের ফুল ব্রাঞ্চ শ্রমিকদের পক্ষে চেম্বার জজ এর আদেশ বহাল রাখেন। কিন্তু এ আদেশকেও তোয়াক্কা করছেন না
লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ। আদালত অবমাননা করে পরিবহন শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা না দেয়ার পক্ষেই অটল লাফার্জ। তারা চাকুরিতে ফিরতে না পাওয়ায় চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন ২৩জন পরিবহন শ্রমিক।
এ বিষয়ে লাফার্জ পরিবহন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি মো. খালেদ মিয়া বলেন ‘ আমরা কোম্পানীর বেশকিছু গাড়ি চালাতাম, তারা আমাদেরকে চাকুরি দিয়েছে অনেকদিন, কিন্তু চাকুরি নামমাত্র, কোন নিয়োগপত্র দিতে নারাজ। এক সময়ে আমাদেরকে চাকুরি থেকে দালাল হারুন রশী‌দের কুপরাম‌শে অমানবিকভাবে ছাটাই করে দেয়, আমরা আদালতের কাছে বিচার চেয়েছি, আদালত বার বার আমাদের পক্ষে রায় দেয়, কিন্তু লাফার্জ সুরমা সি‌মেন্ট কারখানার ও ঠিকাদা‌রি প্রতিষ্টান এইচ আর এন্টারপ্রাইজের মা‌লিক হারুনুর রশিদ এসব আদালতের রা‌য়ের নির্দেশ তারা মানছেন না। মামলা নিষ্প‌তি না হওয়া পর্যন্ত তা‌দের বেতন ভাতা পরিশোধ করার আ‌দেশ দেন আদালত।
এব‌্যাপা‌রে ঠিকাদা‌রি প্রতিষ্টান এইচ আর এন্টারপ্রাইজের মা‌লিক হারুনুর রশিদ মোবাইল রি‌সিভ ক‌রে ব‌লেন শ্রমিক নি‌য়োগের প্রস‌ঙ্গে কোন বক্তব‌্য দি‌তে পার‌বেন না ব‌লে মোবাইল কে‌টে দেয়।
এব‌্যাপা‌রে হেড অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অপারেশনস ও সুরমা প্ল্যান্ট ম্যানেজার হারপাল সিং জানান,আদাল‌তে রা‌য়ের বিরু‌দ্ধে আবা‌রো ও লাফাজ কর্তৃপক্ষ আ‌পিল ক‌রে‌ছেন ব‌লে দা‌বি ক‌রেন। ##

About admin

Check Also

ছাতকে দেয়া‌লের নামে সরকা‌রি জমি দখল নিয়ে গ্রামবাসীর ম‌ধ্যে উত্তেজনা

ছাতকে দেয়া‌লের নামে সরকা‌রি জমি দখল নিয়ে গ্রামবাসীর ম‌ধ্যে উত্তেজনা ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ছাতক উপজেলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!