ছাতকে ৩জন সংবাদকমীর
বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ
ষ্টাফরিপোটারঃ
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ব্যবসায়ি দুলু মিয়া।
তিনি তার অভিযোগে দাবি করেছেন যে বৈধ মালিকানাধীন ফকির টিলা মৌজার জমি থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন।
তাদের চাহিদা মতো চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ফেসবুকে মিথ্যা ও অনলাইন কয়েকটি পোটালে মানহানিকর অপ প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
গত ১৯ জুলাই রাতে ছাতক উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মোঃ দুলু মিয়া (৪০) বাদী হয়ে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেছে।
অভিযোগে অভিযুক্ত করেন উপজেলা ইসলামপুর ইউপির বাহাদুর গ্রামের মোঃ নাজমুল হাসান জুয়েল (৪২), লাফার্জ ফেরীঘাট এলাকার ইয়াবা খেকো সাজ্জাদ মাহমুদ মনির (৩৬), চরমহল্লা ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের দুষোর,দুনীতিবাজ,ধান্দাবাজ অজিত কুমার দাশ (৪২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুইজন আসামী করা হয়।
তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে ইসলামপুর ইউনিয়নের মরাচেলা নদীর পাশে নং-২৪ দাগভুক্ত রেকর্ডীয় জমিতে ঘটনাটি ঘটেছে।
অভিযোগকারী মোঃ দুলু মিয়া দাবি করেন, তিনি দলিল নং-১২৪৬/২২ অনুযায়ী ওই ভূমির একজন বৈধ অংশীদার এবং দীর্ঘদিন ধরে আইনগত অধিকার অনুযায়ী সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন শ্রমিকরা সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজ শেষ করে ব্যবহৃত সরঞ্জাম পরিষ্কার করছিলেন। ঠিক সেই সময় অভিযুক্তরা একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে ঘটনাস্থলে এসে নিজেদের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক পরিচয় দেন। পরে তারা বালু উত্তোলনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হলে প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।
এব্যাপারে দুলু মিয়া অভিযোগ করেন, তিনি অবৈধ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে চলে যাওয়ার আগে তারা এক দিনের মধ্যে দাবিকৃত টাকা পরিশোধ না করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এতেই শেষ নয়, অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, এ ঘটনার পর থেকে তার ব্যক্তিগত ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ও অনলাইন পোটালে ধারাবাহিকভাবে মানহানিকর, কুরুচিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
এসব পোস্ট ও মন্তব্যের মাধ্যমে তাকে সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি তার ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে তিনি, তার পরিবার এবং ব্যবসায়িক সহযোগীরা চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, এ ঘটনার পরপরই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা এবং সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোনো ইতিবাচক ফল না পাওয়ায় এবং অপপ্রচার অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তিনি ।
এ কারণেই অভিযোগ দায়েরে কয়েক দিনের বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। অভিযোগকারী দুলু মিয়া লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, সাংবাদিকতার মতো সম্মানজনক পেশার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করে, তাহলে তা শুধু একজন ব্যক্তির জন্য নয়, গোটা সমাজ ও গণমাধ্যমের ভাবমূর্তির জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর।
তাই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এব্যাপারে থানার ওসি মিজানুর রহমান অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,অভিযোগটি তদন্তপুবক আইনানুগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।####
Leave a Reply