সুনামগঞ্জে চেতনানাশক খাইয়ে চুরির ঘটনায় গৃহকর্মীসহ দুইজন গ্রেফতার — স্বর্ণ ও নগদসহ উদ্ধার পৌনে চার লক্ষাধিক টাকার মালামাল
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
**সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে চেতনানাশক খাইয়ে সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে মূল আসামী গৃহকর্মী শিপা বেগম এবং তার সহযোগী নেছার আহমদকে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে স্বর্ণালঙ্কার, গলানো স্বর্ণের পিণ্ড, নগদ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ মোট ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫৮৭ টাকার চোরাই মালামাল।
ঘটনাটি ঘটে জগন্নাথপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কেশবপুর পশ্চিমপাড়ায়। গত ৪ মে দায়ের হওয়া ওই মামলায় পেনাল কোডের ৩২৮, ৩৮১ ও ৩৪ ধারায় চেতনানাশক প্রয়োগ করে চুরি, বিশ্বাসভঙ্গ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।
ডিবি পুলিশের ওসি’র নেতৃত্বে তদন্ত শুরুর পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪ মে রাতে সুনামগঞ্জ পৌরসভার মালিকপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় গৃহকর্মী শিপা বেগম ও তার সহযোগী নেছার আহমদকে। গ্রেফতারের পর শিপার হেফাজতে থাকা ক্রিম রঙের একটি ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়— ৬৬,০০০ টাকা নগদ, ২০ পাউন্ডের দুইটি বৈদেশিক নোট, একটি সিটি ব্যাংকের চেকবই, ১০ পাতার জমির মূল দলিল, এবং চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ডিসোপ্যান-২ ওষুধের খালি পাতা।
পরবর্তীতে ওই রাতেই শিপাকে সঙ্গে নিয়ে ডিবির দল যায় সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানাধীন জিন্দাবাজারের হক সুপার মার্কেটে থাকা ছুম্মা আমিন জুয়েলার্সে। সেখানে বিক্রি করা চোরাই স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে থেকে উদ্ধৃত হয় তিন আনা পাঁচ পয়েন্ট ওজনের এক জোড়া সোনার দুল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৮,১৮৭ টাকা।
তদন্ত দল এখানেই থেমে থাকেনি। ধারাবাহিক অনুসন্ধানে ১২ মে আবারও অভিযান চালানো হয় একই জুয়েলার্সে। দোকান মালিকের তথ্য ও জার্নাল মিলিয়ে পাওয়া যায় বাদীর গলানো স্বর্ণের চেইন— যা পুনরুদ্ধার করা হয় ২২ ক্যারেটের ১ ভরি ৪ আনা ২ রতি ওজনের স্বর্ণের পিণ্ড হিসেবে। এর বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এসআই আব্দুর রহিম জিবান জানান, আদালতে প্রেরণের পর দুই আসামীই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “শিপা বেগম একজন পেশাদার চোর। নিজের পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন এলাকায় গৃহকর্মীর ছদ্মবেশে কাজ নিতো। এরপর সুযোগ বুঝে পরিবারের খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে সবাইকে অজ্ঞান করে আলমারি ভেঙে স্বর্ণ–টাকা লুট করাই ছিল তার মূল কৌশল।”
ডিবি পুলিশ মনে করছে— এদের পেছনে আরও বড় কোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকতে পারে। সে সম্ভাবনা মাথায় রেখে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। চেতনানাশক দিয়ে চুরি সংঘটনের এই ভয়ঙ্কর পদ্ধতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।
চাঞ্চল্যকর এই চুরির ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের শাস্তির পাশাপাশি অসতর্কতার সুযোগে বাড়িতে অপরিচিত গৃহকর্মী নিয়োগের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।
Leave a Reply