জনগণের মিলন : নেতৃত্বে প্রজ্ঞা,
সংগ্রামে সাহস, জনআস্থার প্রতীক
ছাতক প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র রাজনীতিতে সুনামগঞ্জের একটি পরিচিত নাম—কলিম উদ্দীন আহমেদ মিলন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতার রাজনৈতিক পথচলা একাধারে সংগ্রামের, ত্যাগের এবং জনআস্থার প্রতীক। তার নেতৃত্বে ছাতক-দোয়ারাবাজারের রাজনীতি পেয়েছে নতুন গতি, নতুন দিশা।
শৈশবের প্রেরণা ও রাজনৈতিক সূচনা
১৯৮৮ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন মিলন। সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল জটিল ও অস্থির, কিন্তু তরুণ এই নেতা জনগণের ভালোবাসা ও আস্থার জায়গা দখল করতে সক্ষম হন নিজের সততা, সাদামাটা জীবনধারা ও অঙ্গীকারবদ্ধ নেতৃত্বের কারণে। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন। সেই সময় থেকেই শুরু হয় তার অক্লান্ত সংগঠনমূলক যাত্রা—গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, মানুষ থেকে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেন ধানের শীষের বার্তা।
সংগঠনের ভিত্তি গড়ে তোলেন তৃণমূল থেকে
ছাতক-দোয়ারাবাজারের প্রায় ১৩০০ গ্রামের মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—“রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের অধিকার ও সম্মানের জন্য।”
এই মন্ত্রেই তিনি বিএনপির সংগঠনকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করান। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে যে বিএনপি ছাতক-দোয়ারায় মাত্র ১৩ হাজার ভোটে সীমাবদ্ধ ছিল, সেই ভোট তিনি পরবর্তী নির্বাচনে (২০০১) বৃদ্ধি করে আনেন ১ লক্ষ ৩৩ হাজারে—যা নিজেই একটি রাজনৈতিক রেকর্ড।
২০০১: উন্নয়ন ও সফলতার স্বর্ণযুগ ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কলিম উদ্দীন আহমেদ মিলন। তাঁর উদ্যোগে ছাতক-দোয়ারাবাজার এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম।রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ, সেতু, স্বাস্থ্যকেন্দ্র—প্রত্যেক খাতে তিনি রেখে যান দৃশ্যমান সাফল্যের ছাপ।
যখন অনেকে ক্ষমতার সুযোগে নিজেদের স্বার্থে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তখন মিলন ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি বিশ্বাস করতেন—“ক্ষমতা মানে দায়িত্ব, সুযোগ নয়।”এই নীতিতে অবিচল থেকে তিনি জনগণের আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেন।
নেতৃত্বের ধাপে ধাপে উত্থান রাজনৈতিক দক্ষতা, সাংগঠনিক প্রজ্ঞা ও কর্মীদের প্রতি গভীর ভালোবাসা—এই তিন গুণে মিলন ধীরে ধীরে উঠে আসেন জেলা ও কেন্দ্রীয় রাজনীতির মূলধারায়।
তিনি প্রথমে দায়িত্ব পান সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে, পরবর্তীতে দুই মেয়াদে নির্বাচিত হন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক। ২০১১ সালে তার নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি যুক্ত হন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে। পরবর্তীতে দলের জাতীয় কাউন্সিলে নির্বাচিত হন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে—যা একজন তৃণমূলনির্ভর নেতার জন্য বড় অর্জন।
ওয়ান-ইলেভেনের কঠিন সময়ে জনগণের পাশে
২০০৮ সালের ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে বিএনপি যেখানে দমন-নিপীড়নের শিকার, সেখানে কলিম উদ্দীন আহমেদ মিলন জনগণের সঙ্গে ছিলেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। সেই নির্বাচনে তিনি পান ৮৭ হাজার ভোট, যা সুনামগঞ্জ জেলায় ধানের শীষের সর্বোচ্চ ভোট হিসেবে রেকর্ড হয়। এই ফলাফল প্রমাণ করে—বাধা, ভয়ভীতি বা প্রশাসনিক চাপ কিছুই জনগণের “মিলনের প্রতি আস্থা” কে দুর্বল করতে পারেনি। জেলা বিএনপিতে নতুন উদ্দীপনা ও ঐক্যের প্রতীক বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি দায়িত্ব পান সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি হিসেবে।
তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয় নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ে একটি লড়াকু ও আপসহীন জেলা কমিটি, যা রাজপথে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন ও সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে দৃঢ় ভূমিকা রাখে।
এই কমিটি শুধু সংগঠন নয়, ছিল এক রাজনৈতিক চেতনার প্রতীক।
মিলন বিশ্বাস করেন—“নেতৃত্ব মানে একা এগিয়ে যাওয়া নয়, বরং সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।”
সংগ্রামী রাজপথের রাজনীতি বর্তমান সময়ে যখন দেশে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, মামলা-হামলা, গুম-খুনের রাজনীতি চলছে—তখনও মিলন রয়েছেন রাজপথে সক্রিয়।ছাতক-দোয়ারাবাজার থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত বিএনপি’র প্রতিটি কর্মসূচিতে তার নেতৃত্বে থাকে জনগণের উপস্থিতি ও উদ্দীপনা। তাঁর নেতৃত্বে একের পর এক সফল আন্দোলন কর্মসূচি প্রমাণ করেছে—তিনি কেবল রাজনীতিবিদ নন, বরং এক আদর্শনিষ্ঠ জননেতা।
অর্থনৈতিক চিন্তা ও উন্নয়ন দর্শন
কলিম উদ্দীন আহমেদ মিলন শুধুমাত্ররাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নন, তিনি উন্নয়নের একটি বাস্তব চিন্তা-দর্শনও উপস্থাপন করেছেন। তার মতে, ছাতক-দোয়ারার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো—
১️⃣ স্থানীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার,
২️⃣ দক্ষ মানবসম্পদ গঠন,
৩️⃣ শিক্ষা ও শিল্পায়নের সমন্বয়,
৪️⃣ কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ।
এই চিন্তাধারাকে কেন্দ্র করে তিনি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে একটি অর্থনৈতিক স্বনির্ভর ছাতক-দোয়ারা গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। আদর্শে আপসহীন, জনগণের বন্ধু
দলের নেতাকর্মীরা একবাক্যে বলেন—মিলন সাহেবের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর আদর্শিক দৃঢ়তা ও মানবিকতা। তিনি দলের ভেতর ও বাইরে সব সময় তরুণদের এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করেন।
কর্মীরা বলেন, “আমরা মিলন ভাইয়ের ভরসায় রাজনীতি করি, তিনি মাঠে থাকলে সাহস পাই।”
তাঁর এই নেতৃত্বের কারণেই সুনামগঞ্জ বিএনপি
আজ সংগঠিত ও আন্দোলনমুখী।
নতুন লক্ষ্য : ২০২৬ সালের নির্বাচন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কলিম উদ্দীন আহমেদ মিলন এখন ছাতক-দোয়ারাবাজারবাসীর দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করছেন। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে জনগণের সমর্থন নিয়ে আবারও ছাতক-দোয়ারার উন্নয়নযাত্রা শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। তার অঙ্গীকার—
“আমি রাজনীতি করি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের অধিকার ও ভবিষ্যতের জন্য। নতুন প্রজন্মের হাতে দিতে চাই একটি মর্যাদাবান, মুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।” কলিম উদ্দীন আহমেদ মিলন—এই নামটি আজ ছাতক-দোয়ারাবাজারে নেতৃত্ব, সততা ও সাহসের প্রতীক। তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি যে নিষ্ঠা, আত্মত্যাগ ও আদর্শিক অবস্থান ধরে রেখেছেন, তা রাজনীতিতে বিরল উদাহরণ। জনগণের ভালোবাসা ও আস্থায় তিনি আজ “জনগণের মিলন”—একজন আপসহীন জাতীয়তাবাদী সৈনিক, যিনি বিশ্বাস করেন
“দেশ বাঁচাতে হলে আগে মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।”নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে তাঁর এই যাত্রা অব্যাহত থাকুক—জনগণের মিলন হয়ে মানুষের কল্যাণে।
Leave a Reply