ছাতকে কৈতক হাসপাতালের সরকারি জমি রক্ষার আন্দোলন ঘিরে মামলাঃ কারামুক্তির পর আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতা আব্দুর রহিম
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের কৈতক হাসপাতালের সরকারি জমি রক্ষার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া চাদাবাজি মামলায় কারামুক্তির পর সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রহিম।
তিনি মামলাটিকে “মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” দাবি করে বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণেই ভুমিখেকো চত্রু
তাকে হয়রানির শিকার হচ্ছে।
গত শনিবার রাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রহিম বলেন, কৈতক হাসপাতালের সরকারি জমি দখলের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছে। তার দাবি, এ কারণে একটি ভুমিখেকো চত্রু স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়িয়েছে।
তিনি বলেন, “কারাভোগ করতে হলেও সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে কখনো সরে যাইনি। ভবিষ্যতেও সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে একইভাবে সোচ্চার থাকবে।
আবেগঘন বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, কারাগারে কাটানো সময়টি তার ও পরিবারের জন্য ছিল কঠিন পরীক্ষা। তবে এলাকাবাসীর ভালোবাসা, দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা এবং আইনজীবীদের প্রচেষ্টায় তিনি মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে পেরেছেন। সরকারি সম্পদ রক্ষা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে তার অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
কারামুক্তির পর পাশে দাঁড়ানো সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সংসদ সদস্য কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলন, ছাতক উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জাউয়াবাজার ইউনিয়ন ও কৈতক গ্রামের সর্বস্তরের জনগণ এবং মামলার আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতাকারী আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি তার বলেন, তাদের নৈতিক সমর্থন ও সহযোগিতা তাকে কঠিন সময় মোকাবিলার সাহস জুগিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জাউয়াবাজার ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুস ছালাম নোমান, সেলিম আহমদ, সাবেক ইউপি সদস্য এস. এম. মাহমুদ, যুবদল নেতা ছায়াদ মিয়া, কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছাদির মিয়া, যুবদল নেতা আব্দুল লতিফ ও বুরহান উদ্দিন। তারা দাবি করেন, কৈতক হাসপাতালের সরকারি জমি রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই আব্দুর রহিমকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মুখোমুখি হন।
এ সময় কৈতক গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি একলাছ মিয়া, ইমান আলী ও ফয়েজ আলীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তারা হাসপাতালের সরকারি জমি সংরক্ষণে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হাসপাতালের সরকারি জমি দখলের অভিযোগ যাচাই এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। ####
Leave a Reply