ছাতকে আদালতের ডিক্রি অমান্য করে সীমানা পিলার উপড়ে ফেলার অভিযোগ, থানার নীরবতায় ক্ষোভ
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভার বাগবাড়ি এলাকায় আদালতের চূড়ান্ত রায় ও ডিক্রি বাস্তবায়নের পর স্থাপিত জমির সীমানা পিলার, লাল পতাকা ও ব্যানার উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে সংঘটিত এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বাদির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কাওসার হোসেন অমিত ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও অভিযোগের পরও থানার পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কঠোর আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের মাননীয় যুগ্ম জেলা জজ (১ম আদালত)-এর রায় ও ডিক্রি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আদালতের নিযুক্ত নাজির, দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার ও ছাতক থানা পুলিশের উপস্থিতিতে সরেজমিনে জমির সীমানা নির্ধারণ করে লাল পতাকা ও খুঁটি স্থাপন করা হয় এবং মৃত তালেব আলীর মেয়ে মোছা. তামান্না পারভীন ওরফে কামনা বিবির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কাওসার হোসেন অমিতকে আনুষ্ঠানিকভাবে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সে সময় উভয় পক্ষ উপস্থিত থেকে সীমানা নির্ধারণে সম্মতি দিলেও অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার সকালে প্রতিপক্ষ পৌর শহরের বাগবাড়ী গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মনু মিয়া, চান মিয়ার ছেলে শাহরিয়ার তারেক শাহরিয়ার তারেকসহ আরও কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় আদালতের নির্দেশে স্থাপিত সীমানা পিলার, লাল পতাকা ও ব্যানার জোরপূর্বক উপড়ে ফেলে এবং পুনরায় জমিটি দখলের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি আদালতের রায় ও আইনের শাসনের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন আদালতের রায় কার্যকর হওয়ার পরও যদি প্রকাশ্যে সীমানা পিলার উপড়ে ফেলা হয় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে সাধারণ মানুষ আইনের শাসনের প্রতি কতটা আস্থা রাখবে? স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করার সাহস না পায়। তবে ছাতক থানার এসআই মো. মনিরুজ্জামান সজল জানান, আদালতের রায়ের ভিত্তিতে জায়গা নির্ধারণের সময় তিনিও উপস্থিত ছিলেন এবং অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিপক্ষরা সীমানা পিলার ও লাল পতাকা উপড়ে ফেলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বিষয়টি না বুঝেই তারা এ কাজ করেছে। অন্যদিকে ছাতক থানার ওসি (তদন্ত) রঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ীই থানা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং আদালতের নির্দেশনার কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।##
Leave a Reply