শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর
রহমান— প্রতিচ্ছবি
আনোয়ার হোসেন রনি
সকালের নীরবতা তখনও ভাঙেনি,
ঢাকার শীতল হাওয়ায় ভেসে আসে শান্তি।
ছোট্ট চেয়ারে বসে কাগজে চোখ বুলিয়ে
রাষ্ট্রপতি যেন সাধারণ এক মানুষ,
কিন্তু চোখে দীপ্তি—
দেশের ভার, মানুষের আশা।
মাত্র কয়েক হাজার টাকার বেতনে
নিজেকে বেঁধেছিলেন শৃঙ্খলে,
১৫০ টাকা রাখতেন মানুষের জন্য,
বাকি দিয়ে চলত সংসার।
সততা ছিল তাঁর শক্তি,
সংযম ছিল তাঁর সৌন্দর্য।
বাড়ি ফিরলে সন্তানদের হাসি,
স্ত্রীর সঙ্গে ছোট ছোট গল্পে
তিনি খুঁজে পেতেন শান্তি।
“বাবা, তুমি কি রোজ এত ব্যস্ত?”—
ছোট ছেলের প্রশ্নে
তিনি হেসে দিতেন উত্তর,
“তবু তোমাদের সাথেই আমার আনন্দ।”
গ্রামের মাটিতে পা রাখলে
তিনি হয়ে যেতেন আপনজন—
বৃদ্ধের চোখের চিকিৎসা,
ছোট্ট মেয়ের হাতে বই,
আরেক শিশু জিজ্ঞেস করত,
“স্যার, আপনি কি রাজা?”
হাসিমুখে বলতেন—
“না, আমি তোমাদের সহচর,
গাইব গান, শিখব জীবন।”
যুদ্ধোত্তর ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে
কাঁধে নিলেন দায়িত্ব পাহাড়ের সমান।
প্রশ্ন এল—
“স্যার, এত চাপ, ক্লান্ত হন না?”
তিনি বললেন শান্তস্বরে—
“মানুষের জন্য কাজ করাই
সবচেয়ে বড় আনন্দ।”
সরলতার পথেই খুঁজে পেলেন শক্তি,
ক্ষমতার অহংকারে নয়,
মানুষের হৃদয়ে গড়লেন ঠিকানা।
প্রত্যক্ষদর্শীর কণ্ঠে ধ্বনিত সত্য—
“অনেক রাষ্ট্রপতি দেখেছি,
কিন্তু তাঁর মতো সরল, মানবিক,
পরিমিত আর কেউ নন।”
আজও স্মৃতিতে অম্লান—
সেই ভোর, সেই রাত,
সেই শিশুর বিস্ময়ভরা চোখ,
বৃদ্ধের কৃতজ্ঞতা।
শহীদ জিয়াউর রহমান—
এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি,
যেখানে সততা মানে শক্তি,
সরলতা মানে মহিমা,
আর মানবতা মানে রাষ্ট্রনেতার
চিরন্তন আলোকিত নাম।
Leave a Reply