ছাতকে মাত্র দু শত টাকা পাওনা নিয়ে যুবক অপহরণ ও মা-ছেলেকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৬ দিনেও মামলা হয়নি!
ছাতক প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় মাত্র দুই শত টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবককে অপহরণ করে আটকে রেখে নির্যাতন এবং পরে তার মাকে ডেকে এনে মারধর ও কুপিয়ে আহত করার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে এখনো মামলা রেকর্ড না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের তকিপুর গ্রামের বাসিন্দা জাকারিয়া এবং একই এলাকার প্রবাসী জুনাব আলীর স্ত্রী সুলতানা বেগমের মধ্যে প্রায় দুইশত টাকা পাওনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ২৭ মে রাত প্রায় ৮টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের একটি স্থান থেকে জাকারিয়াকে কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে কৌশলে জাকারিয়ার মা কুলসুম বেগমকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। সেখানে মা-ছেলেকে জিম্মি করে মারধর করা হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ সময় জাকারিয়ার কাছে থাকা নগদ দেড় লাখ টাকা এবং তার মায়ের গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পাশাপাশি এ বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
পরে স্থানীয়রা আহত মা-ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তা অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় আহত জাকারিয়ার বাবা সেলিম উদ্দিন ২৯ মে রাতে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে আবুল হোসেনকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সুলতানা বেগম, তার মেয়ে তানিয়া বেগম, মাসুমসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ৩০ মে ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ গোলাম সারোয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এদিকে অভিযুক্তদের পক্ষের কয়েকজন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও গ্রামবাসী অভিযোগের কিছু অংশ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত কুপ্রস্তাব বা অনৈতিক আচরণের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে দুইশত টাকা পাওনা নিয়ে সুলতানা বেগম ও জাকারিয়ার মধ্যে বিরোধ এবং মারামারি ঘটনা ঘটেছিল বলে তারা স্বীকার করেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা ও গ্রামবাসী জানান, ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তারা বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হলে এলাকাবাসীর মধ্যেও বিভ্রান্তি দূর হবে।
এব্যাপারে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি ও আঘাতের আলামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়রাও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।###!
Leave a Reply