ছাতকে প্রবাসীর পক্ষে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: আদালতের আদেশে দুই দোকানঘর জব্দ
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
ছাতকের জাউয়াবাজারে প্রয়াত লন্ডন প্রবাসী শিক্ষা–উদ্যোক্তা হাজী ওয়াশিদ আলীর কোটি টাকার মূল্যের দুটি দোকানঘর জবরদখলের প্রচেষ্টা ও হামলা–লুটপাটের অভিযোগে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কেয়ারটেকার পরিচয়ে দোকানঘর দখলের চেষ্টা, তালা ভাঙচুর ও প্রবাসীর ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতের নির্দেশে অবশেষে দোকানঘর দুটি জব্দ করেছে পুলিশ প্রশাসন। একইসঙ্গে আদালত প্রবাসীর পক্ষে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে সংশ্লিষ্ট ভূমিতে অভিযুক্তদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
এঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। জাউয়াবাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা দ্বন্দ্বের পর আইনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে।
দীর্ঘদিনের কেয়ারটেকার, এরপরই লোভের জন্ম স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাউয়া এলাকার মৃত হাজী ওয়াশিদ আলীর ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহজাহান হোসেন বহু বছর বিদেশে থাকায় তাঁর বাবার নামে থাকা দুটি দোকানঘরের দেখভালের দায়িত্ব একই গ্রামের আলমগীর হোসেনকে দেন। প্রথম দিকে আলমগীর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলেও সময়ের সঙ্গে দোকানদুটি দখলের লোভে পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল প্রবাসী শাহজাহান দোকানদুটি সুরক্ষার স্বার্থে তালাবদ্ধ করে রাখেন। কিন্তু এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে আলমগীর হোসেন। এরপর থেকেই শুরু হয় হুমকি–ধমকি, ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং হামলা-মামলার ভয় দেখানো। অভিযোগ রয়েছে—আলমগীর স্থানীয় ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে তালাবদ্ধ দোকানে হামলা চালায়, তালা ভাঙচুর করে, সিসি ক্যামেরা নষ্ট করে এবং জোরপূর্বক দখল নেওয়ার চেষ্টা করে।
প্রবাসীর ওপর হামলা, ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি দোকান রক্ষায় বাধা দিতে গেলে প্রবাসী শাহজাহান হোসেনকে হাতুড়ি, লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ আছে। ঘটনার প্রত্যক্ষ প্রমাণাদি স্থানীয়রা সংগ্রহ করেন এবং ভুক্তভোগী নিজেও এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।
আদালতে অভিযোগ, স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি ঘটনার পর প্রবাসীর মামাতো ভাই উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আজাদ মিয়া গত ২৩ এপ্রিল আদালতে আলমগীর হোসেন ও জুবেল আহমদকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগপত্র পর্যালোচনা শেষে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ্র প্রবাসীর পক্ষে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
আদালতের আদেশে অভিযুক্তদের নালিশাবহি ভূমিতে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। একইসঙ্গে দোকানঘর দুটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমানকে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল ফরম নং এম–১০৬ অনুযায়ী ভবন দুটি রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।পুলিশের অভিযান, দোকান দুটির পুনরায় তালাবদ্ধকরণ
এরপর আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে গত ২৮ এপ্রিল এসআই মনিরুজ্জামান সজলের নেতৃত্বে ছাতক থানা–পুলিশ জাউয়াবাজারে অভিযান চালায়। তারা দখলচেষ্টা প্রতিহত করে দোকানঘর দুটি জব্দ করে পুনরায় তালাবদ্ধ করে দেন।এসময় আইনগত সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।
এসআই সজল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন—“আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে দখল নেওয়ার চেষ্টা রুখে দিয়ে দোকানঘর দুটি জব্দ করা হয়েছে। আইনগত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই ভবন দুটিতে তালা দেওয়া হয়েছে।”
সত্যের জয় হয়েছে”—প্রবাসী শাহজাহান প্রবাসী শাহজাহান হোসেন বলেন—“দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ভেঙে কেয়ারটেকার পরিচয়ে দোকান দখলের চেষ্টা চলছিল। আদালতের নির্দেশে অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচারের জয় প্রত্যক্ষ করেছি।”
ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমানও ৩০ এপ্রিল সকালে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন—“আদালতের নির্দেশে প্রবাসী হাজী ওয়াশিদ আলীর দোকানঘর দুটি জব্দ করা হয়েছে। এখন থেকে এগুলো আদালতের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।”ঘটনাটি বর্তমানে পুরো উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধে আদালতের এই দৃঢ় অবস্থান ভবিষ্যতে এমন প্রতারণামূলক দখলচেষ্টা প্রতিরোধে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।###!
Leave a Reply