কামরুজ্জামান কামরুল ও কিছু কথা… দলীয় রাজনীতির নেপথ্যের এক অদেখা বাস্তবতা
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের রাজনীতির মাটিতে তৃণমূল পর্যায়ের এক নিবেদিত, কর্মীবান্ধব, সংগঠক ও দূরদর্শী রাজনীতিকের নাম কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি নন—তিনি দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা এক প্রজন্মের প্রতীক। অথচ এই দীর্ঘ সময়ের আত্মত্যাগ, পরিশ্রম ও ত্যাগ-তিতিক্ষার পরও তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন পাননি। প্রশ্ন উঠছে—এটাই কি রাজনৈতিক মূল্যায়ন? ১৫ বছরের হিসাব: অংকে মেলে না ত্যাগের মান যদি কেবল আর্থিক দিক থেকে হিসাব করি—রাজনৈতিক মাঠে দাঁড়িয়ে একজন নেতার মাসিক ব্যয় কমপক্ষে ১ লক্ষ টাকা ধরা যায়। সেই হিসেবে বছরে ১২ লক্ষ, আর টানা ১৫ বছরে দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। কিন্তু এটিই কি সব? রাজনীতিতে শুধু টাকার হিসাব চলে না। মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রম, পারিবারিক কষ্ট—এসবের মূল্য কি কোনো অংকে মাপা সম্ভব? দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর তিনি রাজনীতির মাঠে থেকেছেন। প্রায় ৫ হাজার ৬০০ দিনেরও বেশি সময়, প্রতিদিন ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা—গ্রেফতার আতঙ্ক, মামলার ভয়, রাতের অন্ধকারে পুলিশি হয়রানি। কখনো বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেছেন, কখনো মিছিলে হামলার মুখে নিজের কর্মীদের আগলে রেখেছেন।আজো সেই দিনগুলোর স্মৃতি তাকে কাঁদায়, আবার গর্বেও ভরিয়ে দেয়। কারণ, সেই দিনগুলোই প্রমাণ করেছে—তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শে আপসহীন এক সৈনিক।
তৃণমূলের নেতা, কর্মীদের আপনজন রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা আসে মানুষের ভালোবাসা থেকে। কামরুজ্জামান কামরুল সেই ভালোবাসা পেয়েছেন সীমাহীনভাবে। তিনি যখন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, তখন তাঁর বিজয় ছিল জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেটের ফসল। মানুষ তাঁকে বেছে নিয়েছিল কারণ তিনি বিএনপির তৃণমূল রাজনীতিকে নতুন প্রাণ দিয়েছেন, কর্মীদের পাশে থেকেছেন ছায়ার মতো। কেউ অসুস্থ হলে পাশে থেকেছেন, কেউ নির্যাতিত হলে ছুটে গেছেন থানায়, আবার কেউ বিপদে পড়লে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে সাহায্য করেছেন। রাজনীতিতে এমন মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে দিনদিন। অথচ আজ এই নিবেদিতপ্রাণ মানুষটিই যখন এমপি নির্বাচনের মনোনয়ন পেলেন না, তখন তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর হতাশা।
মনোনয়ন না পাওয়ার বেদনা—তৃণমূলে ক্ষোভ বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে। আন্দোলন, গ্রেফতার, মামলার ঝড় পেরিয়ে এই দলের নেতাকর্মীরা টিকে আছেন কেবল বিশ্বাসের জোরে। আর সেই বিশ্বাসের শিকড় তৃণমূলেই—যেখানে কামরুজ্জামান কামরুলের মতো মানুষরা দিনরাত লড়েছেন।
সেই মানুষটি যখন মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন, তখন প্রশ্ন জাগে—দলের প্রতি তাঁর এতো বছরের ত্যাগ-নিবেদন কি মূল্যহীন? তৃণমূলের অনেকেই বলছেন, “কামরুল ভাই না থাকলে হয়তো এই এলাকায় বিএনপির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হতো।”এমন পরিস্থিতিতে তাঁর প্রতি দলের এমন সিদ্ধান্ত অনেককে ভেতরে ভেতরে কাঁদিয়েছে। সুনামগঞ্জ-১ আসনের কর্মীরা বলছেন, “এটা শুধু এক নেতার না পাওয়া নয়, এটা তৃণমূলের মানসিক ভাঙন।”
অজানা কারণে মূল্যায়নহীনতা দলের সিদ্ধান্ত সবসময় রাজনৈতিক কৌশলের ওপর নির্ভর করে—এটা স্বীকার করেই বলা যায়, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কখনোই ভাবেননি যে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে থাকা কামরুল মনোনয়ন পাবেন না।
তিনি ছিলেন সংগঠিত, জনপ্রিয় এবং আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠের সবচেয়ে সক্রিয় নেতা। যেখানে অন্যরা দূর থেকে রাজনীতি করেছেন, কামরুল সেখানে ছিলেন রাস্তায়, মানুষের মাঝে, কর্মীদের পাশে।এমন একজন মানুষকে উপেক্ষা করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, কতটা মানবিক—এ প্রশ্ন আজ সুনামগঞ্জ জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
দলের প্রতি তাঁর আস্থা অটুট সব হতাশার মাঝেও কামরুজ্জামান কামরুল কখনো দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেননি। বরং তিনি বলেছেন, “আমি বিএনপি করি আদর্শের জন্য, পদ-পদবির জন্য নয়।”এই বক্তব্যেই প্রতিফলিত হয় তাঁর রাজনৈতিক পরিপক্বতা। তিনি বিশ্বাস করেন, বিএনপি আজ নতুন রূপে পুনর্জন্ম নিচ্ছে জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে, আর সেই পুনর্জাগরণের অংশ হতে চান তিনি তৃণমূল থেকে। তাঁর একটাই প্রত্যাশা—দল যেন তৃণমূলের বিশ্বাস ও স্বপ্ন ভেঙে না দেয়। তৃণমূলের আবেদন: পুনর্বিবেচনা করুন সিদ্ধান্ত সুনামগঞ্জ-১ আসনের সর্বস্তরের বিএনপি নেতাকর্মীরা দলের উচ্চপর্যায়ের কাছে একটাই অনুরোধ জানিয়েছেন—“দয়া করে কামরুজ্জামান কামরুলকে পুনরায় মনোনয়ন দিন।” তারা বিশ্বাস করেন, এই আসনে যদি বিএনপি জয়লাভ করতে চায়, তবে তৃণমূলের নেতা কামরুলই সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন।
কারণ, তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো তৃণমূল কর্মীর আত্মত্যাগ, বিশ্বাস ও ভালোবাসা।
রাজনীতির মাঠে এক অনুপ্রেরণার নাম ১৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক জীবনে কামরুল শুধুমাত্র সংগঠক ছিলেন না—তিনি ছিলেন এক যোদ্ধা। যে মানুষটি দুঃসময়ে নিজের সবকিছু হারিয়ে দলের পতাকা উঁচিয়ে রেখেছেন, তিনিই পারেন আগামী দিনে বিএনপিকে তৃণমূল থেকে পুনর্গঠন করতে।
তাঁর ত্যাগ, ধৈর্য, নেতৃত্ব ও জনপ্রিয়তা আজও কর্মীদের অনুপ্রেরণার বাতিঘর।
রাজনীতি কোনো ব্যক্তির নয়, এটি আদর্শের যুদ্ধ। আর সেই আদর্শের যোদ্ধাদের মধ্যে অন্যতম নাম কামরুজ্জামান কামরুল। দল যখন মূল্যায়ন করে, তখন শুধু সংখ্যা নয়, ইতিহাসও বিবেচনায় আসে। এই ইতিহাসের পাতায় যদি একদিন লেখা হয়—“যিনি সব হারিয়ে দলকে বাঁচালেন”—তাহলে সেই নামটি হবে নিশ্চয়ই কামরুজ্জামান কামরুল।
তাই আজ সুনামগঞ্জ-১ আসনের তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের একটাই আর্তি—“দল আমাদের বিশ্বাস নষ্ট করবেন না। আমাদের প্রিয় নেতা কামরুজ্জামান কামরুলকেই দিন জাতীয় নির্বাচনের মনোনয়ন। আমরা বিশ্বাস করি, তিনিই হবেন ভবিষ্যতের বিএনপির গৌরব।”
Leave a Reply