আমার দেখা এক অবিসংবাদিত নেতা :
জননেতা কলিমউদ্দিন আহমদ মিলন
আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক (সুনামগঞ্জ) থেকে :
বিগত ১৬ বছর রাজপথ যার ঠিকানা, দুঃসময়-দুর্দিনে যিনি দলের পতাকা হাতে নিয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, তিনি শুধু একজন রাজনীতিক নন — তিনি ছাতক-দোয়ারাবাজারের মানুষের ভালোবাসার অন্য নাম।
তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ), সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং তিনবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য — জননেতা কলিমউদ্দিন আহমদ মিলন। উন্নয়নের প্রতীক মিলন ভাই
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল — এই পাঁচ বছরে ছাতক ও দোয়ারাবাজারের চেহারাই বদলে যায়। সুরমা নদীর ওপর নির্মিত ব্রীজ, নোয়ারাই থেকে বাংলা বাজার হয়ে বাঁশতলা-হকনগর পর্যন্ত সড়ক, ফকিরটিলা থেকে সোনালীচেলা পর্যন্ত রাস্তা, ছাতক আনদাইরগাঁও থেকে আমবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ থেকে বসন্তপুর পর্যন্ত সড়ক নির্মাণসহ অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগ নেন তিনি।
রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, রাবার ড্যাম থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ — উন্নয়নের ছোঁয়া ছাতক-দোয়ারাবাজারের প্রতিটি কোণে পৌঁছে দেন মিলন ভাই। স্থানীয়দের মুখে মুখে এখনো শোনা যায়— “ছাতক-দোয়ারায় এমন কোনো গ্রাম নেই, যেখানে মিলন ভাইয়ের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।”
এই বিপুল উন্নয়নের পরও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন একেবারেই সাদামাটা। সরকারি অর্থ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো অভিযোগ কখনোই ওঠেনি তার বিরুদ্ধে। দলীয় নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল— সবাই বলেন, “মিলনকে সত্যিকারের একজন ভালো মানুষ, যার তুলনা মেলা ভার।”
অভিযানেও অমলিন সততা ২০০৭ সালের ১/১১ এর জরুরি সরকার দেশে চালায় “চিরুনি অভিযান”। বহু মন্ত্রী-এমপি দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন, সাজা পান। কিন্তু সেই সময়ও কলিমউদ্দিন আহমদ মিলনের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ পায়নি তদন্ত সংস্থাগুলো।
রাজনীতি তখনও ছিল তার কাছে জনগণের সেবা আর নৈতিক দায়িত্বের প্রতীক।।২০০৮ সালের নির্বাচন: ভালোবাসার প্রমাণ ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ একতরফাভাবে ক্ষমতায় এলেও, সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে মিলন ভাই জনগণের কাছ থেকে প্রায় এক লক্ষ ভোট পান। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও এই বিশাল ভোটই ছিল ছাতক-দোয়ারাবাজারবাসীর উন্নয়নের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও মিলনের প্রতি অগাধ ভালোবাসার প্রতিফলন।
আন্দোলনের অগ্রভাগে ২০০৮ সালের পর থেকে শুরু হয় আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন। গুম-খুন, মামলা-হামলার ভয়াবহ সময়ে সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীরা যখন গোপনে অবস্থান নিচ্ছিলেন, তখন কলিমউদ্দিন আহমদ মিলন রাজপথে অটল থাকেন।
ছাতক-দোয়ারায় দলীয় পতাকা উড্ডীন করে তিনি রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলেন। প্রতিটি হরতাল-অবরোধে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সামনের সারিতে ছিলেন তিনি।
২০১৩ সালের ডিসেম্বর: রাজপথে রণক্ষেত্র
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি যখন দেশব্যাপী অবরোধের ডাক দেয়, সেই সময় ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর ছাতকের রাজপথে নেমে আসে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ-যুবলীগের বাহিনী। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংঘর্ষ চলে।
৭১ জন বিএনপি নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হন। মিলন ভাই নিজেও রাজপথ ছাড়েননি এক মুহূর্তের জন্য।
এ ঘটনায় পুলিশের গুলিতে এক ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হন। ঘটনাটির পর মিলন ভাইকে প্রধান আসামী করে হত্যা মামলা, দ্রুত বিচার আইনের মামলা, পুলিশ এসল্টসহ তিনটি মামলা দেয়া হয় ছাতক থানায়।
তিনি ও তার শতাধিক সহযোদ্ধা দীর্ঘদিন ফেরারি জীবন কাটান। পরে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন।
সহযোদ্ধাদের পাশে মানবিক নেতা জামিনে মুক্তির পর অনেকেই জানতে পারেন, তাদের অনুপস্থিতিতে মিলন ভাই শুধু রাজনীতি নয়, সহকর্মীদের পরিবারগুলোর প্রতিও রেখেছেন দায়িত্বশীল নজর।
জেলে থাকা নেতাকর্মীদের পরিবারে নিয়মিত খবর নিয়েছেন, সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেছেন, চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছেন।
পৌর সভায় বিএনপির আহবায়ক সামছুল রহমান সামছু ও শামছুর রহমান বাবুল, উপজেলা বিএনপির নেতা নজির আহমদ,জেলা যুবদলের নেতা জহির আহমদ ও আবদুস সাক্তারসহ একাধিক সহযোদ্ধারা এসব কথা নিশ্চিত করে বলেন — “আমরা জেলে ছিলাম, কিন্তু আমাদের পরিবার একা ছিল না, মিলন ভাই ছিলেন ছায়ার মতো।”
দীর্ঘ ১৬ বছরের সংগ্রাম গত ১৬ বছর ধরে ছাতক-দোয়ারাবাজারের রাজনীতিতে বিএনপি টিকে আছে মিলন ভাইয়ের দৃঢ় নেতৃত্বের কারণেই। প্রশাসনিক দমন, মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি— কিছুই তাকে আন্দোলনের পথ থেকে সরাতে পারেনি।
তিনি একদিকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছেন, অন্যদিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন।
দল-মত নির্বিশেষে সম্মানিত একজন মানুষ
মিলন ভাই সম্পর্কে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাও বলেন — “তিনি শত্রুর প্রতিও কখনো বিদ্বেষ পোষণ করেননি।” তার আচরণে অহংকার নেই, কথায় শালীনতা আছে, জীবনে স্বচ্ছতা আছে। রাজনীতিতে তিনি সততা ও পরিশ্রমের এক প্রতীক।
ছাতক-দোয়ারাবাজারবাসীর হৃদয়ে মিলন ভাই
আজও যখন মানুষ ছাতক-দোয়ারার কোনো ব্রিজ বা রাস্তা পার হয়, তখন স্মরণ করে মিলন ভাইয়ের সেই সময়ের উন্নয়ন উদ্যোগকে।
যুবক থেকে প্রবীণ— সবাই বলেন, “মিলন ভাই আমাদের আশার নাম, উন্নয়নের জনক।”রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, প্রতিকূল সময়, ত্যাগ-তিতিক্ষার পরও তিনি আজও একইভাবে রাজপথে সংগ্রামী, যেমন ছিলেন ১৬ বছর আগে।
জননেতা কলিমউদ্দিন আহমদ মিলন শুধু একজন সাবেক সংসদ সদস্য নন, তিনি একজন প্রেরণা, একজন নৈতিক রাজনীতিকের প্রতিচ্ছবি। রাজনীতিতে যখন স্বচ্ছতা ও আদর্শ বিরল হয়ে যাচ্ছে, তখন তার মতো নেতারা প্রমাণ করে দেন — সততা, সেবা আর জনগণের ভালোবাসাই একজন রাজনীতিবিদের আসল শক্তি।
Leave a Reply