নারী–তরুণ ভোটারই হবে গেমচেঞ্জার!
সুনামগঞ্জ–৫ আসনে উত্তাপ বাড়ছে:
বিএনপি মাঠে এগিয়ে, নীরবে শক্তি সঞ্চয় জামায়াত ও জাপা।
ছাতক সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি,
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সুনামগঞ্জ–৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।একাধিক দলের প্রার্থী মাঠে থাকলেও বর্তমানে ভোটের বাস্তব সমীকরণ মূলত ত্রিমুখি শিবিরে সীমাবদ্ধ—বিএনপি,জাপা ও জামায়াতে ইসলামী। বিশ্লেষকদের মতে, ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে থাকায় বিএনপি চারিদিকে সুবাতাস বইছে।
তবে জামায়াতের সংগঠিত কাঠামো ও নিভৃত ভোটব্যাংক থাকলে ১১দলীয় জোটের দুজন প্রাথী মাঠ থাকার কারনে শেষ মুহূর্তে জামায়াতের যে কোনো চমক সৃষ্টি করতে পারতো। দুজন প্রাথী থাকার কারনে জামায়াত ও কওমীপন্থী আলেমদের মধ্যে দুভাগে হয়ে গেছে। ভোটার কাঠামো: নারী–তরুণ ভোটেই নির্ধারিত বেশি ভাগ সৎ যোগ্য প্রাথী তিনবারে জনপ্রিয় সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন মিলনের পক্ষে চলে গেছে।পীর ফুলতলী মশলক,সুন্নি আলেম ও জমিয়ত ও আওয়ামীলীগের সাধারন ভোটাররা প্রকাশ্যে বিএনপির প্রচার প্রচারনা,উঠান বৈঠক,প্রচার মিছিলে চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বলছেন বিএনপির প্রাথী মিলন বিশাল ভোটের ব্যবধান জয়লাভ করবেন বলে নিশ্চিত করেন। নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৮। এর মধ্যে– পুরুষ: ২,৭০,৬২০– নারী: ২,৫৬,০০০– হিজড়া: ২ জন ২২টি ইউনিয়ন ও ১৭০টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে নারী ভোটারের উপস্থিতি প্রায় সমান হওয়ায় প্রার্থীরা নারী ভোটারদের প্রতি আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
পাশাপাশি বিপুল তরুণ ও প্রথমবারের ভোটার এ আসনের ফল পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। ভোটারের প্রধান ইস্যু: উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান স্থানীয়দের মতে, কর্মসংস্থান, সড়ক–যোগাযোগ উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা ও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা—এসবই ভোটারদের প্রধান চাহিদা। বিএনপি ৩১ দফা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার সামনে রেখে প্রচারণা চালাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মহসিন হলেন আইন সম্পাদক ছাত্রদলের নেতা লন্ডন প্রবাসী তরুন ব্যরিষ্টার ছাতকে কৃতি সন্তান আব্দুল রকিব,বলেন এবারে নিবাচনে বিএনপির প্রাথী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের পক্ষে গনজাগরন সৃষ্টি হয়েছে। মিলনের বিকল্প কেউ নেই। মাঠে নবীন আর প্রবীনদের ভোট যুদ্ধ হচ্ছে।
অন্যদিকে জামায়াত তুলে ধরছে ‘বৈষম্যহীন ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি। বিএনপিতে ভাঙন নয়—ঐক্যের শক্তি মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়িয়ে বিএনপি প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান। তার এই সিদ্ধান্তে বিএনপির ভেতরের বিভক্তি কাটতে শুরু করে এবং ধানের শীষের পক্ষে তৃণমূল নেতৃত্ব আরও উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রার্থী কলিম উদ্দিন মিলন বলেন, “সুনামগঞ্জ–৫ বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি। ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে আমরা বড় ব্যবধানে জয় পাব। জেলা বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম বলেন ছাতক ও দোয়ারাবাজারে ধানের শীষের পক্ষে গনজাগরন সৃষ্টি হয়েছে। ছাতক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শামছু বলেন, “ধানের শীষের পক্ষে ছাতক–দোয়ারায় গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াত ও খেলাফত মজলিস দুজন জোটের প্রাথী থাকায় ভোট ব্যাংক দুভাগ হয়েছে। কিন্ত নীরব ধারাবাহিক প্রচারণা চালাচ্ছেন জাতীয় পাটির জাহাঙ্গীর আলম।
১১ দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল কাদির (দেয়াল ঘড়ি) ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রচার প্রচারণা চলছে। গ্রামেগঞ্জে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, ঘরোয়া বৈঠক ও ফেইসবুকে অনলাইন প্রচারণার ওপর ভর করে জামায়াত ও খেলাফত মজলিস মাঠে অবস্থান মজবুত করছে।
ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা এডভোকেট সুফি আলম সোহেল বলেন, “এ আসনে নীরব ভোট বিপ্লব ঘটবে, দাঁড়িপাল্লাই চমক দেখাবে।” অন্যান্য প্রার্থীও আছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১১ দলীয় জোট সমর্থিত খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল কাদির (দেয়াল ঘড়ি) জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (লাঙ্গল)এনপিপির মো. আজিজুল হক (আম)তবে ভোটের মাঠের মূল লড়াইটি বিএনপি,জাতীয় পাটি ও জামায়াতেই সীমাবদ্ধ হয়ে আসছে। সমীকরণ পরিষ্কার—বিএনপি সংগঠনিক ঐক্য ও গণজোয়ারের কারণে এগিয়ে, তবে জাপা,খেলাফত মজলিস ও জামায়াতের নীরব ভোট ও নিবিড় মাঠ–সংগঠন ফলাফলে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এখন সব নজর নারী ও তরুণ ভোটারদের দিকে, যাদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে সুনামগঞ্জ–৫ আসনের আগামী দিনের সবার আগে বাংলাদেশ।
Leave a Reply