মিটার পাঠক থেকে কোটিপতি!
ছাতকে বিউবোতে গোলাম রব্বানীর
অস্বাভাবিক উত্থান নিয়ে তোলপাড়!
(সুনামগঞ্জ)
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভাগের একজন সামান্য মিটার পাঠক কর্মচারীর অস্বাভাবিক সম্পদ গড়ার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিউবোতে (বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) মিটার পাঠক হিসেবে কর্মরত গোলাম রব্বানী এখন কোটি টাকার মালিক—এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ছাতক বিউবোতে মিটার পাঠক কর্মী হিসেবে যোগ দেন গোলাম রব্বানী। নোয়ারাই ও দোয়ারাবাজার ফিডারের লক্ষীবাউরসহ বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে প্রথমদিকে তার আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটানো সেই রব্বানী কয়েক বছরের ব্যবধানে হঠাৎ করেই বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান—যা এলাকাবাসীর দৃষ্টি এড়ায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, চাকরির সুবাদে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তামার ক্যাবল, খোলা তার, লাইন সরঞ্জামসহ বিভিন্ন সরকারি মালামাল আত্মসাৎ করে সিলেটের ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হতো। এছাড়া মিটার ইউনিট কারচুপি, ভুয়া মামলা দেখিয়ে গ্রাহকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ, বিল সংশোধন কিংবা মিটার সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় রব্বানীর সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে সেবা পাওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব। সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং ঘুষ ছাড়া কাজ না করার অভিযোগও দীর্ঘদিনের।
এদিকে, মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করেও ছাতকে ১৪ হাজার টাকা ভাড়ার বাসায় বসবাস, মাকে নিয়ে ওমরাহ হজ পালন, দেশে ফিরে ব্যয়বহুল মোটরসাইকেল ক্রয়সহ বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বত্র। অভিযোগ রয়েছে, নিজের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলে তা পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের নামে বণ্টন করে নিজেকে ‘নিঃস্ব’ হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল নিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি শুধু নিজের অবস্থানই সুদৃঢ় করেননি, বরং নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও প্রভাবিত করে গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন। ফলে একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী হয়েও কার্যত পুরো সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।
গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ দাখিল হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কিছু তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর এমন অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন কেবল ব্যক্তিগত দুর্নীতির বিষয় নয়, বরং এর পেছনে একটি বড় নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দেয়। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ঘটনায় ছাতকজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—একজন মিটার পাঠক কীভাবে হয়ে উঠলেন কোটি টাকার মালিক? তদন্তেই মিলবে সেই উত্তর।এব্যাপারে গোলাম রব্বানীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে রিং হচ্ছে কেউ রিসিভ করেনি।
Leave a Reply