ছাতকে সংরক্ষিত বন ধ্বংস করে অবৈধ বালু উত্তোলন: দেড় কোটি টাকার ক্ষতির মামলায় ১৪ আসামির জামিন
ছাতক প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সংরক্ষিত বনভূমি ধ্বংস করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, বনভূমি দখল এবং বিপুল সংখ্যক গাছের চারা বিনষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১৪ আসামি আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
বন বিভাগের দাবি, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডে সরকারি বনভূমি ও পরিবেশের প্রায় ১ কোটি ৪১ লাখ ৫৮ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
গত বোরবার (১৯ জুলাই) দুপুরে সুনামগঞ্জের ছাতক হাকিম আদালতে মামলার ১৪ জন আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নুর আলম তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল জলিল আদালতে জামিন আবেদন উপস্থাপন করেন।
জামিনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আমির হোসেন (৩৪), আরকান মিয়া (৪৭), বদরুল ইসলাম (৪৬), আব্দুস সোবহান (৪০), দুলু মিয়া (৩৯), আফছার (২৫), হেলাল (৩৪), সোহেল (৪৮), কাওসার (৩২), আয়না (৫৮), জয়নাল (৪৫), জাহাঙ্গীর (৩৫), জয়নুল (৩৪) ও ইমরান (৩২)সহ ১৪জন ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই রাতে ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের হাদাটীলা ফরেস্ট ক্যাম্পের আওতাধীন নাজিমপুর মৌজার সিএস ১৫০৬ নম্বর দাগভুক্ত সংরক্ষিত বনভূমিতে সংঘবদ্ধ একটি চক্র রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে। ছাতক রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা কে. বি. এম. ফেরদৌসের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ছাতক থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে মামলা (নং-২২) দায়ের করা হয়।
মামলাটি বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং বন আইন, ১৯২৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বন বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সৃজিত ৫০ হেক্টর সংরক্ষিত বনভূমিতে নিয়মিত টহলের সময় বনকর্মীরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। সেখানে টর্চের আলোয় দেশীয় অস্ত্রধারী কয়েকজনকে বালু উত্তোলনের কাজে জড়িত অবস্থায় শনাক্ত করা হলেও বন বিভাগের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা নৌকাযোগে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে তদন্ত ও পরিমাপে বন বিভাগ জানায়, অভিযুক্তরা প্রায় ৫০ শতাংশ বনভূমি থেকে আনুমানিক ৩ লাখ ৪০ হাজার ২০০ ঘনফুট বালু উত্তোলন করেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮ হাজার টাকা। এছাড়া বালু উত্তোলনের সময় প্রায় ৭০০টি বিভিন্ন প্রজাতির বনজ চারা ধ্বংস হয়েছে, যার ক্ষতির পরিমাণ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরিবেশগত ক্ষতি হিসেবে আরও ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংরক্ষিত বনভূমি থেকে এভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতিই নয়, বরং পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বনভূমির দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্বের জন্যও মারাত্মক হুমকি। তারা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন।###
Leave a Reply