কৈতক হাসপাতালের সরকারি ভূমি রক্ষা ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ছাতকে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালের সরকারি ভূমি রক্ষা এবং এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী নিরীহ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাঙ্গনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও হাসপাতাল রক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা হাসপাতালের সরকারি ভূমি রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মানববন্ধনের মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ জানান। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল হাসপাতাল এলাকা প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।
বিশিষ্ট মুরব্বি হাজী আব্দুস ছোবহানের সভাপতিত্বে এবং সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রহিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রাজ উদ্দিন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সমাজসেবক আলহাজ মুক্তার মিয়া তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কদর মিয়া, গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ শাহ শফিকুল আলম মতি, সমতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সাউথ ওয়েস্ট সালেহ আহমেদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. রুহুল আমিন তালুকদার, ট্রাস্টি সদস্য মো. কয়েছ মিয়া, বিশিষ্ট মুরব্বি আদরিছ আলী, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালিক, অ্যাডভোকেট মো. শাহাব উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মো. কবির উদ্দিন সাজু, সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন, লিলু মিয়া তালুকদার, শামসুল কবির মুহিত, মাস্টার দেওয়ান আবুল কালাম, ব্যবসায়ী আবুল হোসেন, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শামীম আলম, বিএনপি নেতা আলী হোসেন মানিক, এস এম মাহমুদ, শাহজাহান হোসেন, আইয়ুব আলী, হাজী এখলাছ মিয়া, ঈমান আলী ও শিহাব উদ্দিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে অভিযোগ করেন, কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে হাসপাতালটি স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসাস্থল হিসেবে কাজ করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্র হাসপাতালের সরকারি ভূমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, হাসপাতালের জমি রক্ষায় এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার রয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে স্থানীয় জনগণ প্রতিবাদ জানালে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্নভাবে আন্দোলনকারীদের দমন করার চেষ্টা করছে। তারা অভিযোগ করেন, ভূমি দখলচেষ্টার সঙ্গে জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত লন্ডনপ্রবাসী কবির আহমদ ও নজির আলী দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের ভূমির ওপর অবৈধ দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
বক্তারা আরও বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে স্থানীয় জনগণ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পর প্রতিহিংসামূলকভাবে কয়েকজন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে জড়িয়ে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেন তারা। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রহিম, মো. রাজ উদ্দিন, আব্দুল গফুরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেন বক্তারা।
সমাবেশে বক্তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হাসপাতালের সরকারি ভূমি রক্ষার বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে নিরপরাধ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং হয়রানি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে এলাকাবাসী তাদের দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠিত একটি হাসপাতালের ভূমি দখল করার যেকোনো অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। হাসপাতালটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং হাজারো মানুষের চিকিৎসাসেবার আশ্রয়স্থল। তাই হাসপাতালের জমি রক্ষা করা মানে জনস্বার্থ রক্ষা করা। এ কারণে সাধারণ মানুষ দল-মত নির্বিশেষে হাসপাতাল রক্ষার আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
সমাবেশে উপস্থিত বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বলেন, কৈতক হাসপাতালের জমি রক্ষার প্রশ্নে পুরো এলাকার মানুষ ঐক্যবদ্ধ। হাসপাতালের সরকারি ভূমি দখলের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন। তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
অনুষ্ঠান শেষে আন্দোলনকারীরা হাসপাতালের সরকারি ভূমি দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশের শেষাংশে বক্তারা বলেন, কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালের সরকারি ভূমি রক্ষার আন্দোলন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি ন্যায্য আন্দোলন। এ আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তাই হাসপাতালের জমি রক্ষার দাবিতে এলাকাবাসী শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং কোনো ধরনের আপস করবে না।
Leave a Reply