সুনামগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের
অভিযানে ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক ও তাহিরপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পৃথক অভিযানে গাঁজা ও চোলাইমদসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও মাদক তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। গত ৩ ও ৪ জুন পরিচালিত এসব অভিযানে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় সুনামগঞ্জ সূত্রে জানা যায়, ৪ জুন ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জাউয়া ইউনিয়নের কোণাপাড়া গ্রামের মৃত ইসকান্দার আলীর ছেলে আব্দুল মোনাফ (৭০)-কে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ১৫টি পুড়িয়ায় সংরক্ষিত মোট ৫০ গ্রাম শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
একই দিনে সন্ধ্যায় ছাতক বাসস্ট্যান্ড এলাকার আফসর মার্কেটের একটি ভাঙারি দোকানে অভিযান চালিয়ে কালারুকা ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের মৃত হাদিস আলীর ছেলে মো. ফারুক মিয়া (৩৯)-কে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে তার হেফাজত থেকে ২২০ গ্রাম শুকনা গাঁজা জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এর আগে ৩ জুন তাহিরপুর উপজেলার রতনশ্রী গ্রামে পরিচালিত আরেকটি অভিযানে মৃত রামজি রবিদাসের ছেলে বিমল রবিদাস ওরফে ছানা (৪৯)-কে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার বসতঘর ও রান্নাঘরে তল্লাশি চালিয়ে ৬ লিটার চোলাইমদ এবং চোলাইমদ তৈরির কাজে ব্যবহৃত ১০০ লিটার ওয়াশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহের পর অবশিষ্ট ওয়াশ বিধি মোতাবেক ধ্বংস করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত ও নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় সুনামগঞ্জের পরিদর্শক মোহাম্মদ আমিনুল কবির বলেন, “মাদক নির্মূল এবং মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে ভবিষ্যতেও আরও জোরালোভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকের বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
Leave a Reply