বেগম খালেদা জিয়ার জানাযায় ভেঙে পড়লেন সাবেক তিনবারের এমপি কলিমউদ্দিন আহমদ মিলন
ষ্টাফ রিপোর্টারঃজাতীয়তাবাদী দলের ক্ষমতাশীন প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাযায় হৃদয়বিদারণ মুহূর্তে ভেঙে পড়েছেন তার অত্যন্ত বিশ্বস্ত, আস্থাভাজন কর্মী ও সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য জননেতা কলিমউদ্দিন আহমদ মিলন।
গত ৩১ ডিসেম্বর বুধবার দুইটায় রাজধানীর (জানাযা অনুষ্ঠিত স্থান) মুসলিম কবরস্থানে বিশাল্ সংখ্যক নেতাকর্মী,শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন। জানাযা অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের ঢল নেমে আসে।
জানাযার মঞ্চে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি চলাকালীন, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মিলন দৃশ্যে অসহায়, মাতৃস্নেহহীন একজন ছেলে যেন তার প্রিয় নেত্রীর পাশে থেমে দাঁড়িয়েছেন – এমনই করুণ দৃশ্যের জন্ম হয়।
এই দৃশ্যটি অনেকের চোখে জল ফোটাতে বাধ্য করে। রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকা, দলের কাজে নিরলস কাজ করা ও খালেদা জিয়ার প্রতি প্রবল আস্থা রেখে কাজ করার কারণে কলিমউদ্দিন আহমদ মিলন বুকে অনুভূত গভীর বেদনা প্রকাশ করতে পারছিলেন না।
জানাযা শেষে, স্থানীয় সহকর্মী ও দলের শত শত নেতাকর্মী তাকে হাত ধরে ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অনেকের কাছেই মিলনের যেমন রাষ্ট্রনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি অগাধ নিবেদিত ভক্তি ছিল, তেমনি সাধারণ মানুষের চোখেও তিনি ছিলেন এক নম্বর জননেতা।
ছাতক-দোয়ারাবাজার উপজেলার মানুষ বহুবার তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। ২ তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কাজ করেছেন এলাকাবাসীর কল্যাণে। বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি তার গভীর আস্থা ও আনুগত্য ছিল অতুলনীয়।
জানাযার পর, সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথোপকথনে মিলন জানান, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি আমাদের মা, ও পথপ্রদর্শক। আমি তার কাছে সব সময় নিজেরকে শিষ্য হিসেবে মনে করেছি। আজ যখন তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি, তখন মনে হল যেন আমার মাকে আজ হারালাম। তাঁর সঙ্গে অতিবাহিত স্মৃতিগুলো চিরদিন আমার হৃদয়ে বেঁচে থাকবে ।
এদিন মিলন সভায় উপস্থিত ছিলেন না শুধু রাজনৈতিক সহকর্মীরূপে, তিনি ছিলেন একমাত্র অনুরাগী, যিনি বেদনার কাছে মাথা নত করেছেন। সংবাদ সংগ্রহকালে উপস্থিত অনেকে বলেন, “মিলন ছিলেন সব সময় দেশের নেত্রীর প্রতি নিবেদিত। নেত্রীর দেওয়া দিকনির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কাজ করেছেন। এমন একজনকে এমন কঠিন সময়ে আবেগপ্রবণ দেখে আমাদেরও চোখ ভিজে গেছে।”
ছাতক দোয়ারাবাজার বাসীর প্রতি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অতীতে একাধিক বার সমাবেশে ভাষণ দিয়েছেন। এক সমাবেশে তিনি সরাসরি এলাকাবাসীকে বলেছেন, ‘আমার মিলন নম্র, ভদ্র ও ভালো একজন মানুষ; তাকে আপনারা ভোট দিয়ে জয়ী করবেন। সে নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেলে ছাতক দোয়ারাবাজার উপজেলার উন্নয়ন ঘটবে,ইনশাআল্লাহ।’ এই কথাগুলো আজও এলাকাবাসীর হৃদয়ে অম্লান অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়রা মনে করেন, কলিমউদ্দিন আহমদ মিলনের মতো নিবেদিত রাজনীতিবিদের পদচারণা ছাতক দোয়ারাবাজারে রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কাজে নতুন উৎসাহ যোগাবে এবং তিনি দেশনেত্রীর স্বপ্নের পথেই এগিয়ে যাবেন। বিভিন্ন অনলাইন ও প্রকাশনায় উঠে আসা এই করুণ, আবেগঘন সেই দৃশ্যটি রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মনে একটি গভীর ছাপ ফেলেছে, যা সহজেই ভুলবার নয়।
Leave a Reply