অসমর্থিত সূত্রে ফাইনাল—যে কোনো দিন ঘোষণা!
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে নতুন সূর্যের অপেক্ষায় জনতা
মেঘালয়ের উত্তরের হিমেল বাতাসে ভোরের কুয়াশা নেমে আসে ধীরে ধীরে। সবুজ ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির বিন্দু যেন নতুন সময়ের আগমনী বার্তা দেয়। শীতের সেই শান্ত সকালেই চারদিকে ফিসফাস— “ফাইনাল—যে কোনো দিন!”অপেক্ষা শুধু ঘোষণা নয়, এক রাজনৈতিক নবযাত্রার। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে যেন নতুন সূর্যোদয়ের প্রতীক্ষা। অন্ধকার পেরিয়ে আলোয় ফেরার স্বপ্ন। বহুদিনের সংগ্রামের শেষে জনতার বিশ্বাস—এই সূর্য নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী হবে। ১৬ বছরের লড়াইয়ের নাম—নুরুল ইসলাম নুরুল অসমর্থিত সূত্রে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলছেন—এই আসনের অবধারিত সত্য নুরুল ইসলাম নুরুল।”খেটে খাওয়া মানুষের ভালোবাসা, হাজারো নিবেদিত কর্মীর অশেষ পরিশ্রম, আন্দোলন-সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস—সবকিছুর নিরীক্ষণেই উঠে আসে একটি নাম। নুরুল ইসলাম নুরুল কোনো একদিনের নেতা নন; একঘণ্টা, একমাস বা এক বছরের ফল নয় এই নেতৃত্ব। এটি দেড় যুগের পথচলার জমাট ইতিহাস। অসংখ্য চড়াই-উতরাই, ষড়যন্ত্র, হামলা-মামলা, অবরোধ-হয়রানি—সব পেরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক অদম্য মানুষ। রাজনীতির “দাবার বোর্ডে” সুদক্ষ চাল শিখেছেন তিনি মাঠেই। প্রতিকূলতা ছিল জ্বালানিহীন এক যন্ত্র; কূটোক্তি ছিল প্রতিদিনের ছায়া। কিন্তু পদে পদে প্রমাণ করেছেন—আস্থা, বিশ্বাস, ধৈর্য ও মানবিকতা দিয়েই নেতা হয়ে ওঠা যায় সময় আর সংখ্যার বিবেচনায় অদম্য সংগ্রামী ১৬ বছর—১৯২ মাস—৫,৭৭০ দিন—এই দীর্ঘ সময় সাধারণ মানুষের চোখে-চোখে, পরীক্ষায়-পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন নুরুল। ভালোবাসা, মানবিকতা, নেতৃত্বগুণ, দক্ষতা, জনপ্রিয়তা—সবকিছু কষ্টিপাথরে পরীক্ষিত।
জনসমর্থন, জনসংযোগ, আচরণ, শৃঙ্খলা—সব মিলিয়ে তিনি এখন কর্মীবান্ধব জননেতা হিসেবে পরিচিত। দলীয় হাইকমান্ডও দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সাংগঠনিক মূল্যায়ন করেছে।
কারণ রাজনীতিতে জনতার রায়ই সর্বোচ্চ। ছাত্রদল থেকে মূল দলের দায়িত্বে—দুর্লভ পথচলা ছাত্রদল থেকে সরাসরি মূল দলের সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন—বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন দৃষ্টান্ত বিরল। যোগ্যতা, মেধা, দক্ষতা এবং মননশীলতার সমন্বয়েই সম্ভব হয়েছে এমন অর্জন।
সাধারণ কর্মী থেকে নেতা হয়ে ওঠার এই গল্প সংগঠনের হাজারো তরুণকে স্বপ্ন দেখায়—ত্যাগই নেতৃত্বের আসল পরিচয়।
আদালত, চিকিৎসা, মামলা—সবই ইতিহাসের দলিল
দীর্ঘদিন নীরব অপেক্ষা যেন এখন ফেটে পড়ার অপেক্ষায়।
১৬ বছরের খতিয়ান— আন্দোলনের কাগজ, মামলার নথি, চিকিৎসার রিপোর্ট—সবই ত্যাগের কঠিন দলিল। এই আসনের ভোটাররা চান— মানবিক, আপোষহীন, ত্যাগী একজন সংসদ সদস্য। আর সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রে নুরুল ইসলাম নুরুল।
রাজপথে ৮ বার মুখোমুখি সংঘর্ষ—বিরল ইতিহাস
তপ্ত দুপুরে পিচঢালা রাস্তায় দেড় যুগের সংগ্রাম। হামলা, মামলা, গ্রেফতার, হয়রানি—রাষ্ট্রযন্ত্রের চাপে কেউ হয়তো থেমে যেত।
কিন্তু নুরুল ভেঙে দিয়েছেন “দানবীয় শক্তির বিষদাঁত।”
রাজপথে ৮ বার মুখোমুখি সংঘর্ষ—সুনামগঞ্জের রাজনীতিতে যা প্রায় নজিরবিহীন। তার নেতৃত্বে জনতার বিক্ষোভ মিছিল শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে ট্রাফিক পয়েন্ট, ডিএস রোড, শিল্পকলা হয়ে পুরো শহর প্রদক্ষিণ করে সমাবেশে রূপ নেয়। সেখানে ছিল না ভাড়াটে জনতার ভিড়— ছিল ত্যাগী মানুষের বিশ্বাস। টাকা নয়—বিশ্বাস ও মায়ার রাজনীতি
আওয়ামী লীগের বিলাসী রাজনীতির বিপরীতে নুরুল দাঁড়িয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন জায়গায়। না টাকা, না গাড়ি, না প্রভাবশালী ক্ষমতা—মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান নুরুলের ছিল শুধু একটি জিনিস— মানুষের অগাধ ভালোবাসা।
একচিলতে অন্ধকার জায়গায় জরাজীর্ণ অফিস—
প্লাস্টিকের চেয়ার, একটি টেবিল, কয়েকটি ছবি।
কিন্তু সেই অফিসই ছিল হাজারো মামলা-হয়রানির শিকার কর্মীদের মানসিক আশ্রয়। বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নুরুল। পরিবহন, ব্যানার, খরচ—তবু কাউকে ভাড়া করতে হয়নি আধুনিক রাজনীতিতে সমাবেশ মানে খরচ।
নৌযান, মিনিবাস, ইজিবাইক, খাবার-পানি—অগণিত ব্যয়।
কিন্তু নুরুলের কর্মসূচিতে কাউকে ভাড়া করে আনতে হয়নি।
হাওর, নদী, সীমান্তঘেঁষা লোকালয়— সুরমা, রক্তি, আবুয়া, রূপসা—সব দিক থেকে মানুষ ছুটে এসেছে নিজের ইচ্ছায়।
কারণ— নুরুল মানেই আস্থা। জনতার প্রত্যাশা—শেষ অপেক্ষা ঘোষণার এখন প্রশ্ন একটাই— কবে ঘোষণা? অসমর্থিত সূত্রের ফিসফাস স্পষ্ট—ফাইনাল যে কোনো দিন। জনতা প্রস্তুত। কর্মীরা উন্মুখ। ১৬ বছরের রক্ত-ঘাম-ত্যাগের গল্প যেন শেষ পর্যন্ত পরিণতি পেতে যাচ্ছে। মেঘালয়ের শীতল বাতাসে ভাসছে নতুন ভোরের গুঞ্জন— সুনামগঞ্জ-৪ আসনে সূর্যোদয় অনিবার্য।
Leave a Reply