ছাতকে এলজিইডিতে ঘুষ–দুর্নীতির
অভিযোগে উপজেলা প্রকৌশলী বদলি
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এ ব্যাপক ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে এলজিইডির প্রধান কার্যালয় আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর থেকে প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) জোবেদ করিম স্বাক্ষরিত আদেশে তাকে ছাতক থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা এলজিইডিতে বদলি করা হয়। “জনস্বার্থে” এই বদলি কার্যকর করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ রয়েছে।
ছাতকে দায়িত্ব পালনের সময় রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিল অনুমোদনে অনিয়ম এবং ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছিল। সম্প্রতি উপজেলার ১৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে যৌথভাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে।
অভিযোগে বলা হয়—বিল ছাড়ের আগে প্রকৌশলী নিয়মিত ঘুষ দাবি করতেন এবং জিপিএস স্কুল প্রকল্পে ২ শতাংশ ঘুষ ছাড়া কোনো বিল অনুমোদন দিতেন না। এছাড়াএসডিআইআর আইআইপি-৩ প্রকল্পে উপসহকারী প্রকৌশলী সঞ্জয় সিংহের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়।
ঠিকাদাররা আরও অভিযোগ করেন, কাজ পরিদর্শনের নামে রফিকুল ইসলাম প্রতিবার গাড়ি ভাড়া বাবদ ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা করে আদায় করতেন। ঘুষ ছাড়া কোনো বিলের অনুমোদন না হওয়ায় ঠিকাদাররা নিয়মিত হয়রানির শিকার হতেন।
স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডি দপ্তরটি কার্যত ঘুষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল এবং প্রকৌশলীর ‘চাহিদা’ মতো টাকা না দিলে ঠিকাদারদের কাজ আটকে রাখা হতো।
স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, রফিকুল ইসলাম শুধু ছাতকেই নন, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলাতেই দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে একাধিকবার বদলি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সীমাহীন থাকা সত্ত্বেও বারবার সিলেট বিভাগেই পদায়ন করা কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয়রা। তাদের মতে, কঠোর বিভাগীয় শাস্তির পরিবর্তে কেবল বদলি করে দায় এড়ানোর প্রবণতা দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করছে।
এ বিষয়ে এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ছাতক উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামকে জনস্বার্থে বদলি করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় পাঠানো হয়েছে।###
Leave a Reply