স্বপ্ন পূরণের দ্বার উন্মোচন
ছাতকে এক লন্ডন প্রবাসীর উদ্যোগে কাচা রাস্তাকে পাকা সড়ক নির্মাণ—
ছাতক সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি,
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের নানশ্রী গ্রামের মির্জা বাড়ী দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তা–সংকটের কারণে ভোগান্তিতে ছিল হাজার হাজার মানুষ।
বর্ষা মৌসুমে হাঁটু–সমান কাদাজলে ডুবে যাওয়া কর্দমাক্ত পথ স্থানীয়দের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের নাম। বছরের পর বছর মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি স্থায়ী, টেকসই ও ব্যবহার–যোগ্য সংযোগ সড়কের। অবশেষে সেই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে লন্ডন প্রবাসী সমাজসেবক ও এলাকার কৃতি সন্তান মির্জা মইনুল ইসলামের নিজস্ব উদ্যোগ ও ব্যতিক্রমী মানবিকতায়।
গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারাদিন ব্যাপি নানশ্রী গ্রামের রাস্তার কাজ চলছে।সাধারন মানুষদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে তিনি তার নিজ অর্থায়নে প্রায় ৪ হাজার ফুট দীর্ঘ একটি সংযোগ পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে । তার তত্ত্বাবধানে বর্তমানে সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে ইতিবাচক সাড়া।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশেষ করে বর্ষাকালে রাস্তার করুণ অবস্থা চলাচলের পথকে সম্পূর্ণ অচল করে দিত। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আনতে বা রোগী পরিবহনে পড়তে হতো ভয়াবহ দুর্ভোগে। শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়া, কৃষকদের পণ্য আনা–নেওয়া—সব কিছুর ওপরই নেমে আসত স্থবিরতা। কিন্তু মির্জা মইনুল ইসলামের এই মহৎ উদ্যোগ গ্রামবাসীর কাছে পুনর্জাগরণের আলোকচ্ছটা হয়ে এসেছে।
উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করতে গিয়ে অনেকেই বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এত বড় পরিসরের একটি সড়ক নির্মাণ সত্যিই নজির বিহীন। এ ধরনের কাজ করার সামর্থ্য সবার থাকলেও ইচ্ছাশক্তি, আন্তরিকতা ও মানবিক মূল্যবোধই একজন মানুষকে আলাদা করে তুলে।
লন্ডন প্রবাসী মির্জা মইনুল ইসলাম সেই বিরল উদাহরণ।সড়ক নির্মাণের সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা মির্জা সিদ্দিকী, মির্জা বায়জিদ, ছাত্রদল নেতা মির্জা সাফয়ান, জাউয়া বাজারের ব্যবসায়ী সোহাব আহমদ, সাবেক সভাপতি এম. এ. মুত্তালিব মির্জা নাহিদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা বলেন, স্বপ্নের এই রাস্তা নির্মাণ শেষ হলে শুধু মির্জা বাড়ী নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষও উপকৃত হবে। এটি একটি সম্পূর্ণ মানবিক কাজ, যা মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেবে। এলাকাবাসী জানান, প্রবাসে সফলতার পাশাপাশি জন্মভূমির মানুষদের কথা ভুলে না গিয়ে তাদের সুবিধা–অসুবিধা বিবেচনা করে উন্নয়নের কাজ হাতে নেওয়া সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তারা মির্জা মইনুল ইসলামের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করেছেন।
অনেকেই আরও বলেন, এই সড়কটি নির্মিত হলে কয়েক দশকের চলাচল সংকট কাটবে, বাড়বে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং বদলে যাবে গোটা এলাকার চিত্র। স্থানীয়দের অভিমত—গ্রামাঞ্চলে এমন উদ্যোগ সামাজিক উন্নয়নকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।
নানশ্রী গ্রামের এই সড়ক নির্মাণ কাজটি শুধুই একটি রাস্তা নয়—এটি মানুষের শক্তি, ঐক্য, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতীক। প্রবাস থেকে দেশের উন্নয়নে হৃদয়ে দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে আসা মির্জা মইনুল ইসলাম নিঃসন্দেহে হয়ে উঠেছেন এলাকার মানুষের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।###
Leave a Reply