দোয়ারাবাজারে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত ১৫
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার চেলা নদীতে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর ও পূর্বচাইরগাঁও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চেলা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর জের ধরে মঙ্গলবার শ্রীপুর গ্রামের মো. আছন আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (২৫) ও পূর্বচাইরগাঁও গ্রামের রমিজ উদ্দিনের ছেলে আরশাব উদ্দিন (৩২)-এর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। কিন্তু বুধবার সকালে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।
বুধবার সকালেই চেলা নদীর তীরে একা অবস্থায় আরশাব উদ্দিনকে দেখে শ্রীপুর গ্রামের নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আরশাবের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার পরপরই দুই গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে শ্রীপুর ও পূর্বচাইরগাঁও গ্রামের দুই পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। পূর্বচাইরগাঁও গ্রামের আহতদের মধ্যে রয়েছেন—মঈনউদ্দীন (২৫), শাহিন মিয়া (২৩), সাগর মিয়া (২৭), দেলোয়ার হোসেন (২৩), মমিন মিয়া (৪৮), আমীর হোসেন (৩৮), সরাজ মিয়া (৪৮) ও শমশের আলী। অন্যদিকে শ্রীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম (২৫), সাদ্দাম হোসেন (৩০), নুর উদ্দিন (২৫), মোহাম্মদ আলীসহ বেশ কয়েকজনও বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পরে তারা উভয় পক্ষকে শান্ত করার পাশাপাশি উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করেন। ঘটনার খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার সংঘর্ষের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের শ্রমিকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।” তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে পরিস্থিতি যেন পুনরায় উত্তপ্ত না হয় সে জন্য পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দ্রুত একটি গ্রাম্য সালিশ ডেকে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন। চেলা নদীতে অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন ও নদীর পাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। প্রশাসনের তদারকি না থাকায় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে এ ধরনের বিরোধ ও সংঘর্ষ প্রায়ই ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা।
সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তবে বিকেলের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের কেউই গুরুতর নয় বলে প্রাথমিক চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে।
Leave a Reply