তাহিরপুরে ওসি আমিনুলের বিরুদ্ধে
ঘুষ–চাঁদাবাজির অভিযোগে তদন্ত শুরু
স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদাবাজি, চোরাচালান সিন্ডিকেট গঠন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক গুরুতর অভিযোগে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।
সূত্র জানায়—সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে রয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার (তাহিরপুর–জামালগঞ্জ সার্কেল) ও জেলা পুলিশের একজন পরিদর্শক। কমিটি ইতোমধ্যেই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
অর্ধকোটি টাকা মাসোহারার অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে—তাহিরপুর থানায় যোগদানের পর ওসি আমিনুল বিভিন্ন চোরাচালান চক্র, মাদক ব্যবসায়ী ও অবৈধ বালু–পাথর উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ‘মাসোহারা’ নেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ এসআই পংকজ দাস, এসআই দীপক চন্দ্র দাস, টেকেরঘাট ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রিপন, বাদাঘাট তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মালেকসহ কয়েকজন সোর্সকে দিয়ে একটি চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে।
ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভারতীয় মাদক–ইয়াবা, গাঁজা, বিদেশি বিড়ির হাট, কয়লা, কসমেটিকস, হরেক রকম ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন চোরাই মালামাল সীমান্ত দিয়ে ঢুকানোর বিনিময়ে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
বালু–পাথর লুটে মিলেছে কোটি টাকার রমরমা কারবার
ইজারাবিহীন পাটলাই ও মাহারাম নদীসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতদিন চলে আসছিল পরিবেশবিধ্বংসী সেইভ ও ড্রেজার দিয়ে বালু–পাথর উত্তোলন। অভিযোগ আছে—ওসি আমিনুল এসব বালু খেকো চক্রের কাছ থেকে সোর্সদের মাধ্যমে আগাম প্রায় ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নেন এবং পরবর্তীতে নিয়মিত ভাগ নিতেন। গ্রেপ্তার–ফাঁসানোর পুরোনো অভিযোগও উঠল আলোচনায় তদন্ত সূত্র বলছে, হবিগঞ্জ ডিবিতে কর্মরত থাকার সময় ওসি আমিনুল প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে শতাধিক ইয়াবা দিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছিলেন। পরে আদালত মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওই ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেন। ক্ষুব্ধ ওই প্রবীণ ব্যক্তি আইজিপি বরাবর অভিযোগ করলে আমিনুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
টেলিভিশন উপহারের অভিযোগ তাহিরপুরে যোগদানের পর একাধিক মামলার আসামির ভাইকে ভয় দেখিয়ে একটি দামি রঙিন টেলিভিশন উপহার নেওয়ার অভিযোগও তদন্ত কমিটির নথিতে রয়েছে। ওসির দাবি—সবই সাজানো নাটক অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি আমিনুল বলেন,শুনেছি আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি হয়েছে। যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, তার সবই ভিত্তিহীন। আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেউ অযথা মুখ খোলার সাহস করবে না। কারণ আমি এসব ঘটনার সাথে জড়িত নই।”
তদন্ত কমিটির অবস্থান সহকারী পুলিশ সুপার (তাহিরপুর–জামালগঞ্জ সার্কেল) প্রণয় রায় জানান—কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। বস্তুনিষ্ঠভাবে সব দিক যাচাই করে খুব দ্রুতই প্রতিবেদন জেলা পুলিশ সুপার ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পাঠানো হবে।” স্থানীয় জনমহলে আলোচিত এই দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে এখন দৃষ্টি পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে।
Leave a Reply