ছাতক–দোয়ারা বাজার আসনে গণফোরামের প্রার্থী সাংবাদিক ও গবেষক টি এইচ এম জাহাঙ্গীর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক–দোয়ারা বাজার) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য গণফোরাম প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছে বিশিষ্ট সাংবাদিক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক টি এইচ এম জাহাঙ্গীরকে। বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে ১২০টি নির্বাচনী আসনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এরই অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জ–৫ আসনে দলটির পক্ষ থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন পান কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক টি এইচ এম জাহাঙ্গীর।
দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা, গবেষণা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখা জাহাঙ্গীরকে সিলেট অঞ্চলের তরুণ ও প্রবীণ গবেষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং গুণীজনদের কাছে একজন প্রতিষ্ঠিত চিন্তাবিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সিলেট বিভাগের ইতিহাস–ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি ও গুণী ব্যক্তিত্বদের জীবনকর্ম নিয়ে তাঁর ধারাবাহিক গবেষণামূলক কাজ সারাদেশের গবেষক ও পাঠক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
টি এইচ এম জাহাঙ্গীরের রচিত ও সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা ১৯টি। তিনি সিলেটের গুণীজনদের স্বীকৃতি ও তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে ‘সিলেট রত্ন ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী সিলেটি সম্প্রদায়কে সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে একীভূত করার চেষ্টা করছেন। তাঁর উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণা, সেমিনার ও সম্মাননা কার্যক্রম ইতোমধ্যে দেশ–বিদেশে সুধীমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সিলেটের প্রবীণ গুণী ব্যক্তিত্বরা তাঁর এ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে “সিলেট রত্ন” উপাধিতে ভূষিত করেছেন।
শিক্ষা, গবেষণা ও গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে নিবেদিত এই ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্টের চীফ ফেলো এবং সিটিজেন রিসার্চ কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি বিভিন্ন জাতীয় সামাজিক সমস্যা, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, নাগরিক অধিকার, উন্নয়ন ব্যাধি, রাজনৈতিক সামঞ্জস্যহীনতা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং সেমিনারের মাধ্যমে সেগুলো প্রকাশ করে জনগণকে সচেতন করে থাকেন। তাঁর এসব গবেষণা সরকার ও নীতি-নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পেশাগত জীবনে টি এইচ এম জাহাঙ্গীর জনপ্রিয় ম্যাগাজিন বাংলা টাইমস-এর সম্পাদক, চ্যানেল এস-এর জয়েন্ট নিউজ এডিটর এবং জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই ব্যক্তিত্ব দেশের সাংবাদিক সমাজে একজন সম্মানিত সংগঠক হিসেবেও পরিচিত। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ রিপোর্টার্স কাউন্সিলের সভাপতি এবং প্রবাসী সাংবাদিকদের সংগঠন জালালাবাদ জার্নালিস্টঅ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা’র নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য এবং সুনামগঞ্জ সমিতি, ঢাকার সাবেক সাধারণ সম্পাদক। শিক্ষা উন্নয়নে তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তিনি দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সংগঠন “এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট ক্যাম্পেইন (ইডিসি)” এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আরও তিনি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিলের অভিভাবক কাউন্সিলেরও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা খাতে দুর্বলতা, অব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বিষয়ে তিনি গবেষণা, মতামত ও আন্দোলন কার্যক্রমে সক্রিয়। টি এইচ এম জাহাঙ্গীরের শেকড় ছাতকে। তিনি ১৯৭৬ সালের ২০ জুলাই সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চেচান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতি এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি যুব গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি পেশাগত কারণে ঢাকায় বসবাস করলেও তাঁর মন, চিন্তা ও গবেষণার বড় অংশজুড়ে রয়েছে ছাতক–দোয়ারা বাজারের উন্নয়ন, জনজীবন ও সম্ভাবনা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জ–৫ আসনের জনগণের সমস্যা, সংকট, দাবি–দাওয়া ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে আসছেন। তাঁর তৈরি ‘১১ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনা’ বাস্তবায়িত হলে সুবিধাবঞ্চিত ও অনুন্নত ছাতক–দোয়ারাবাসীর জীবনে মৌলিক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন। এই ১১ দফায় রয়েছে শিক্ষা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ, নদী ও পরিবেশ রক্ষা, কৃষি–বান্ধব নীতি, তরুণদের কর্মসংস্থান, ছাতকের শিল্প সম্ভাবনা উন্নয়নসহ নানা বিষয়। মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় টি এইচ এম জাহাঙ্গীর বলেন, “ছাতক–দোয়ারাবাসীর উন্নয়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার রক্ষাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। আমি বিশ্বাস করি, গবেষণা–ভিত্তিক পরিকল্পনা এবং গণমুখী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে উপযুক্ত নেতৃত্ব সৃষ্টি করা যায়। মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্যই আমি আমার পেশাগত জীবনকে আরও বিস্তৃত করেছি।” গণফোরামের ঘোষণায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সুনামগঞ্জ-৫ আসনে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও অনেক তরুণ, শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ের অনেকেই আশা করছেন, দীর্ঘদিন ধরে ছাতক–দোয়ারার পিছিয়ে থাকা বিভিন্ন খাতে নতুন পরিকল্পনা, গবেষণা ও উন্নয়নমূলক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। এই প্রেক্ষাপটে সুনামগঞ্জ–৫ আসনে গণফোরামের পক্ষ থেকে একজন গবেষক–সাংবাদিককে প্রার্থী ঘোষণা করাকে অনেকেই ইতিবাচক রাজনৈতিক বৈচিত্র্য হিসেবে দেখছেন।
Leave a Reply