সুনামগঞ্জ ৫
কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে
মন্ত্রী চান সুনামগঞ্জবাসী
ছাতক সুনামগঞ্জঃ
সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় জেলা সুনামগঞ্জ—হাওর, খনিজ ও প্রকৃতির বর্ণিল ঐশ্বর্যে ঘেরা এই জনপদে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন শুধু এক নামকে ঘিরেই কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ঐতিহাসিক বিজয়ের পরদিন থেকেই জেলাজুড়ে প্রশ্ন— “এবার কার ভাগ্যে জুটছে মন্ত্রিত্ব?”এক ভোটেই বদলে গেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সুনামগঞ্জের ২০ লাখ ৮০ হাজার ভোটারের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন চারবারের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।
ছাতক দোয়ারাবাজার নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ–৫ আসন। ৫ লাখ ২৭ হাজার ভোটারের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৯১৫ ভোট—যা জেলাজুড়ে রীতিমতো উচ্ছ্বাস তৈরি করেছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত আবু তাহির মোহাম্মদ আব্দুস সালাম আল মাদানী পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ১২১ ভোট। জ্যেষ্ঠতা, সৎ দক্ষ যোগ্যতা আর সংগ্রামের মূল্যায়ন চাইছেন নেতাকর্মীরা। জেলার দুই জ্যেষ্ঠ এমপির একজন নাসির উদ্দিন চৌধুরী শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় জেলার নেতৃত্বে এখন সব চাপ পড়ে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের ওপর।
তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় ছাত্রনেতা মিলন ১৬ বছরের আন্দোলন–সংগ্রামে বারবার কারাবরণ, হামলা দেড়ডজন মামলার আসামী ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। দুর্দিনে মিছিলে থেকে স্লোগান তোলা, টিভি টকশোতে দলকে দক্ষতার সঙ্গে উপস্থাপন—সব মিলিয়ে দলের ভরসার জায়গায় তিনি অনন্য।
রাজনীতির তিন দশকের অভিজ্ঞতা ছাত্রজীবনে জাসদের রাজনীতি, ১৯৮৮ সালে প্রথমবার এমপি, এরপর ১৯৯৬ সালের সংকটময় নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়—পরবর্তী সময়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে ২০০৩ সালে বিএনপির ১লাখ ১৫হাজার ভোটে নিবাচিত হয়েছেন।
বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক—সবখানেই মিলন ছিলেন পরিশ্রমী, পরিচ্ছন্ন ও নিবেদিত প্রাণ একজন রাজনীতিবিদ।
স্থানীয় নেতাকমীদের সুস্পষ্ট দাবি: মিলনকে মন্ত্রী করুন। এব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সামসুল হক নমু বলেন দলের দুঃসময়ে মাঠে মিলনই ছিলেন একমাত্র ভরসাস্থল। তাঁর ত্যাগের মূল্যায়ন হওয়া উচিত জাতীয় পর্যায়ে।
জেলা বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সামছুর রহমান সামছু ও একই সুরে বলেন—সুনামগঞ্জের উন্নয়ন, হাওরাঞ্চলের স্বার্থ—সবকিছুর জন্যই মিলনকে মন্ত্রিসভায় প্রয়োজন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল রহমান ও লন্ডন প্রবাসী বিএনপির নেতা আবদুস দয়াস বলেন—“বৃহত্তর সিলেটের জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের মধ্যে মিলন সবার শীর্ষে।
চারবারের এমপি, দলের দুর্দিনের লড়াকু সৈনিক—তাকে ছাড়া সুনামগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব অসম্পূর্ণ।”শেষ কথা কার? একটাই নাম—দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বললেন, কে মন্ত্রী হবেন-এটি দলের চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমান ছাড়া কেউ জানেন না। তবে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন যতটুকু জানি ‘গুডলিস্টে’ তার নাম ও আছেন।
দলীয় সুত্রে জানা যায়, মিলন ‘গুড লিস্টে’ তার নাম ও আছেন। সুনামগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা স্পষ্ট—হাওরের উন্নয়ন, অবহেলিত অঞ্চলের পুনর্জাগরণ, আর দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে এবার মন্ত্রিসভায় দেখতে চান তাদের জনপ্রিয় নেতা কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনকে।###
Leave a Reply