সুনামগঞ্জ–৫ আসনে
রাজনীতির মুখ, উন্নয়নের আস্থা প্রতীক
কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন
আনোয়ার হোসেন রনি:
সুনামগঞ্জ–৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। নদী, পাহাড় ও খনিজ সম্পদের পাশাপাশি এই আসনের মানুষ যেমন পরিশ্রমী, তেমনি রাজনৈতিকভাবে সচেতনও। প্রতিটি নির্বাচনে এখানে নতুন নেতৃত্ব, নতুন আশার বার্তা নিয়ে মাঠে নামে তরুণ–বয়োজ্যেষ্ঠ নেতারা।এবার সেই আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম—সাবেক সাংসদ কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সুনাম ও সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি তিনি সাম্প্রতিক বছর গুলোতে স্থানীয় রাজনীতিতে যে ধরণের ইতিবাচক বার্তা ও সংগঠিত কর্মকাণ্ড দেখিয়েছেন, তা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে “আস্থার প্রতীক” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ছাতক–দোয়ারাবাজার রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব সুনামগঞ্জ–৫ আসনের রাজনীতিতে এক সময়ের শীর্ষ নাম ছিল জাতীয় নেতাদের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এ অঞ্চলে দেখা দিয়েছে নেতৃত্বের ঘাটতি, যা জনগণের রাজনৈতিক প্রত্যাশা পূরণে অনেক সময় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বাস্তবতায় কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে ঘিরে তরুণদের মধ্যে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা এই আসনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুনভাবে নাড়া দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—“মিলন ভাইয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর যোগাযোগ ও গ্রহণযোগ্যতা। তিনি রাজনীতিকে ব্যক্তিগত স্বার্থের জায়গা নয়, বরং জনগণের সেবার ক্ষেত্র হিসেবে দেখেন।”
আন্দোলন, রাজপথ ও দলের প্রতি আনুগত্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন দীর্ঘ সময় ধরে দলের নানামুখী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।২০০৬ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম কিংবা স্থানীয় সংগঠন পুনর্গঠন—সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সামনের সারির সংগঠক।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি একধরনের ‘রাস্তায় নেমে কাজ করা কর্মী’— যিনি শুধুমাত্র সভা-সমাবেশের রাজনীতি নয়, মাঠ পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে বিশ্বাসী। তাঁর এই ‘গ্রাসরুট কানেকশন’-ই আজ তাঁকে করেছে জনপ্রিয় ও আস্থাভাজন।
রাজনীতি নয়, জনগণের উন্নয়নই লক্ষ্য দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন নিজের ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগে ছাতক ও দোয়ারাবাজারের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষা, ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত আছেন। বিশেষ করে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, মাদকবিরোধী প্রচারণা ও অসহায় পরিবারদের সহায়তায় তাঁর অংশগ্রহণ তাঁকে রাজনীতির বাইরেও মানবিক এক প্রতীক করে তুলেছে।
স্থানীয় তরুণ এক উদ্যোক্তা বলেন—“মিলন ভাই রাজনীতি করেন সেবা ও পরিবর্তনের জন্য। তিনি আমাদের মতো তরুণদের কথা শোনেন, উদ্যোগ নিতে উৎসাহ দেন, এটা খুবই বিরল।”
নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিবর্তনের ডাক আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সুনামগঞ্জ–৫ আসনে ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে নির্বাচনী আলোচনা। রাজনীতির মাঠে পুরোনো নেতাদের পাশাপাশি নতুন মুখ হিসেবে মিলনের নাম এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—“ছাতক–দোয়ারাবাজারে রাজনীতি হতে হবে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের হাতিয়ার। আমি রাজনীতি করি মানুষকে বাঁচানোর জন্য, বিভাজনের জন্য নয়।”এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতির দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও অন্তর্দ্বন্দ্বের বিপরীতে একধরনের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করছে।
নেতৃত্বে শৃঙ্খলা ও আধুনিক ভাবনা দলের ভেতরে মিলনের সবচেয়ে বড় পরিচয়—সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও আধুনিক চিন্তা। তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইউনিটগুলোর মধ্যে শৃঙ্খলা, নিয়মিত সভা ও সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম এখন উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এছাড়া তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন—যা রাজনৈতিক যোগাযোগের নতুন সংস্কৃতি তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে—“মিলন উদাহরণ দেখাচ্ছেন, কিভাবে তরুণ নেতৃত্ব প্রযুক্তি ও সংগঠনের সমন্বয়ে জনগণের কাছে রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে পারে।”জনগণের পাশে, প্রতিশ্রুতির রাজনীতি নয় মিলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি কথা দিয়ে কাজ করেন।
অনেক সময় দেখা গেছে, কোনো গ্রামীণ বিদ্যালয়ে টিন বা বেঞ্চের অভাব, অথবা কোনো রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কারহীন—এইসব বিষয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহায়তা দিয়েছেন তিনি।
তাঁর মতে, “জনগণের পাশে থাকা রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরিচয়।”
দোয়ারাবাজারের এক প্রবীণ শিক্ষক বলেন—“রাজনীতি এখন অনেকটাই প্রতিশ্রুতির খেলায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু মিলন ভাই যেভাবে কাজ করেন, তাতে মানুষ আবার রাজনীতিতে বিশ্বাস ফিরিয়ে পাচ্ছে।”
প্রতিপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা, ভদ্র রাজনীতির উদাহরণ
বর্তমান রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা অনেকের কাছে জনপ্রিয় কৌশল হলেও মিলনের পথ আলাদা। তিনি কখনোই ব্যক্তিগত বা অপমানজনক মন্তব্যে যান না। এমনকি প্রতিপক্ষ নেতার সাফল্যও তিনি খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেন— যা রাজনীতিতে এক ধরনের ‘নেতৃত্বের ভদ্রতা’ তৈরি করেছে।
একজন সাংবাদিক মন্তব্য করেন—“রাজনীতিতে এমন নম্র অথচ দৃঢ় ব্যক্তিত্ব এখন বিরল। মিলন সেই ব্যতিক্রম।” সুনামগঞ্জ–৫-এর জনগণের প্রত্যাশা ছাতক–দোয়ারাবাজার অঞ্চলের মানুষ উন্নয়ন চায়, কর্মসংস্থান চায়, শিক্ষার সুযোগ চায়।দশকের পর দশক ধরে অবহেলিত এই জনপদে মিলন সেই প্রত্যাশার নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
নির্বাচনের মাঠে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—প্রতিটি ইউনিয়নে টেকসই রাস্তা ও ড্রেনেজ উন্নয়ন,শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সরকারি নজরদারি বৃদ্ধি,তরুণদের জন্য কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গঠন,
প্রবাসী নির্ভর অর্থনীতিকে স্থানীয় উদ্যোগে রূপান্তর।
নির্বাচনের মঞ্চে “আস্থা বনাম বিভাজন”রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচনে ছাতক–দোয়ারাবাজারের ভোটাররা এবার “ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বাস”-এর ওপর বেশি গুরুত্ব দেবেন। বছরের পর বছর যারারাজনীতিতে বিভাজন সৃষ্টি করেছেন, তাঁদের তুলনায় মিলনের বার্তা অনেক বেশি ইতিবাচক।
তাঁর নেতৃত্বে দেখা যাচ্ছে ‘সংঘাত নয়, সহযোগিতা’—যা স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন ধারা। এক নতুন রাজনীতির প্রত্যাশা বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন নেতৃত্ব সংকট ও জনগণের আস্থা ফিরে পাওয়ার প্রশ্ন জোরালো, তখন কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের মতো পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও কর্মমুখী নেতাদের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তা বয়ে আনছে। তিনি এখন শুধু একটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী নন—তিনি এক নতুন রাজনীতির প্রতীক, যেখানে নেতৃত্ব মানে জনগণের পাশে থাকা, উন্নয়ন মানে মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন। সুনামগঞ্জ–৫-এর রাজনীতি তাই আজ নতুন এক সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে। আর সেই সম্ভাবনার নাম—কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।
Leave a Reply