সংবাদকমীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সীমান্ত চোরাচালানের অভিযোগ: ইসলামপুরে নাজমুল হাসান জুয়েলকে ঘিরে ক্ষোভ
ষ্টাফরিপোটার
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, সীমান্ত চোরাচালান, অবৈধ বালু উত্তোলন এবং নিরীহ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে নাজমুল হাসান জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইসলামপুর ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, নাজমুল হাসান জুয়েল ওই চক্রের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে কাজ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা মদ, ফেনসিডিল, হেরোইন, গরু, মহিষ এবং বিভিন্ন নিষিদ্ধ কসমেটিকসসহ নানা পণ্যের চোরাচালানে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।
শুধু চোরাচালানই নয়, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার (স্থানীয়ভাবে লিস্টার) মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বালু ব্যবসায়ী এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হয়। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ, বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ পাঠানো কিংবা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এতে অনেকেই বাধ্য হয়ে অর্থ দিতে সম্মত হন।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এলাকায় ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধ সৃষ্টি হলে কিংবা কেউ তার দাবির কাছে নতি স্বীকার না করলে নানা ধরনের অভিযোগ তুলে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের নাম ব্যবহার করেও ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের একটি অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে। তাদের দাবি, কাউকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয়, আবার মামলার নাম কেটে দেওয়া বা অব্যাহতি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও অর্থ নেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি এলাকায় এক ধরনের “মামলা বাণিজ্যে” রূপ নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা ব্যবসা করে শান্তিতে থাকতে চাই। কিন্তু সামান্য বিষয় নিয়েও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। টাকা না দিলে সংবাদ প্রকাশ, অভিযোগ দায়ের কিংবা নানা ধরনের হয়রানির ভয় দেখানো হয়। অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে চান না।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সাংবাদিকতা একটি সম্মানজনক পেশা। কিন্তু কেউ যদি সেই পরিচয়কে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করেন, তাহলে প্রকৃত সাংবাদিকদেরও সম্মান ক্ষুণ্ন হয়। আমরা চাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হোক।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকতা সমাজের অন্যায়-অনিয়ম তুলে ধরে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি সেই পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অবৈধ আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেন, তাহলে তা শুধু সাংবাদিকতার ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করে না, আইনের শাসনের প্রতিও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের দাবি, উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়েও কার্যকর নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এব্যাপারে অভিযুক্তের নাজমুল ইসলাম জুয়েল তার বক্তব্য বলেন এসব অভিযোগ সঠিক নয়,একটি চত্রু তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।
Leave a Reply