মাদক ব্যবসায়ী আলোচিত ইলিয়াছ-রয়েলের বিরুদ্ধে মারধর ও ছিনতাইয়ের মামলা দায়ের
দিরাই প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের সাদিরপুর গ্রামে এক ব্যক্তিকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ধান বিক্রির ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মাদক বিক্রেতা ইলিয়াছ মিয়া ও রয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারী ও আহত ব্যক্তি ছালিক মিয়া (২৮) উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াছ মিয়া (৩৫) ও রয়েল মিয়াকে অভিযুক্ত করে দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
লিখিত অভিযোগে ছালিক মিয়া দাবি করেন, অভিযুক্তরা এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ছালিক মিয়া তার বোনের কাছ থেকে ধান বিক্রির ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথে করিমপুর ইউনিয়নের সাদিরপুর গ্রামে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা অভিযুক্তরা তার পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ছালিক মিয়ার অভিযোগ, তার ভাগনে আলী হোসেনকে ডিবি পুলিশের সদস্য সন্দেহ করে অভিযুক্তরা কয়েকদিন ধরে তাকে ও তার ভাগনেকে অনুসরণ করছিলেন। ঘটনার দিন পথরোধ করে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালান।
অভিযোগে বলা হয়, ইলিয়াছ মিয়ার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করা হলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ছালিক মিয়ার ডান কাঁধে আঘাত লাগে। অপর অভিযুক্ত রয়েল মিয়া কাঠের বস্তু দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া চোখে আঘাত করে আহত করার অভিযোগও রয়েছে।
মারধরের একপর্যায়ে ছালিক মিয়ার প্যান্টের পকেটে থাকা ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয় বলেও লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ছালিক মিয়াকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান আসামি ইলিয়াছ মিয়ার বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আইনত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
Leave a Reply