বিএনপি করার ‘অপরাধে’ ৬ বছর বাড়িছাড়া!
ছাতকে ৭২ বছরের মস্তাবের ঘর ভাঙচুর
ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
সাবেক এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের নাম জড়িয়ে বিস্ফোরক দাবি; ৭ সেপ্টেম্বর ফের ভিটায় ঘর তুলতে গিয়ে হামলার অভিযোগ, ১২ সেপ্টেম্বর থানায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
ছাতক প্রতিনিধি
নিজের বসতভিটা থাকলেও সেখানে ফিরতে পারছেন না ৭২ বছর বয়সী মো. মস্তাব আলী। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে বাড়িঘর ভাঙচুর করে স্ত্রী-সন্তানসহ তাঁকে উচ্ছেদ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রায় ছয় বছর ধরে বাড়িছাড়া জীবন কাটানোর দাবি করেছেন তিনি। এবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিজ বসতভিটায় ঘর নির্মাণ করতে গেলে ফের হামলার চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মস্তাব আলী।
এ ঘটনায় ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার রাতে ছাতক থানায় স্থানীয় সমুজ আলীসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে মস্তাব আলীর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ২৩ নভেম্বর ২০২০ তাঁর বসতঘর ও দরজা ভাঙচুর করে তাঁকে স্ত্রী-সন্তানসহ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি ছাতক থানায় অভিযোগ করেন এবং পরে ফেব্রুয়ারি ২০২১-এ ছাতক থানার মামলা নং ০৬(০২)২১ রুজু হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলা করার পর বিবাদীরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিতে থাকেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে এরপর থেকে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেননি। তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রেলওয়ের পরিত্যক্ত ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করেছেন বলে দাবি তাঁর।
বিএনপির কমী মস্তাব আলীর অভিযোগ,গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯টায় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে নিজের বসতভিটায় ঘর নির্মাণ করতে গেলে বিবাদীরা তাঁকে মারধরের উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে রক্ষা করেন। এরপরও তাঁকে সুযোগমতো মারধর ও খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান এবং সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাদাত মোহাম্মদ লাহিনের নাম রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের নির্দেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাঁকে হয়রানি ও বাড়িছাড়া করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেশ ছেড়ে পলাতক তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মস্তাব আলীর অভিযোগপত্রে তাঁর বসতভিটার তফসিলও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁও মৌজার জেএল নং-২৪২, হালে ১৭৩, খতিয়ান নং-২৭, নামজারি খতিয়ান নং-১৩, দাগ নং-১৫, হালে ৪৪ নম্বর দাগের ভূমির কথা বলা হয়েছে। তিনি ভূমিটি মৌরসি ও খরিদা সূত্রে দখলীয় এবং সম্প্রতি নিজ নামে নামজারি করেছেন বলে দাবি করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন —ছাতক উপজেলার সৈদেরগাও ইউপির ব্রাহ্মণগাঁও (তকিপুর) গ্রামের
সমুজ আলী (৪০), লায়েক (৩৫), রাসেল (৩২), মতছির (৫০), মর্তুজ আলী (৩৩) ও বুলবুল (৩০)।
অভিযোগের এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন মরম আলী, সজ্জাদ আলী, মুক্তা বেগম ও হুসনা বেগমসহ আরও কয়েক সত্যতা স্বীকার করছেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি পারিবারিক বিরোধ?
অভিযোগে একদিকে বিএনপির রাজনীতি করার কারণে বাড়িছাড়া ও রাজনৈতিক হয়রানির দাবি করা হয়েছে, অন্যদিকে অভিযুক্তদের কয়েকজনকে মস্তাব আলীর সৎভাই, চাচাতো ভাই ও ভাতিজা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, নাকি পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধ—তা তদন্তে পরিষ্কার হওয়ার দাবি রাখে।
পুলিশের বক্তব্য ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান মিজান এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,বিএনপির কমী মস্তাব আলীর লিখিত অভিযোগের প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে বলেন তদন্তপুবর্ক আইনানুগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশের তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ###
Leave a Reply