ছাতক – দোয়ারাবাজারের
হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক
ষ্টাফরিপোটারঃ
নেশার বড়ি ইয়াবা ট্যাবলেট পাচারের নতুন পথ হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার সীমান্ত
এলাকা। ভারতের মিজোরাম রাজ্য থেকে আসাম ও মেঘালয় হয়ে সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ঢুকছে ছাতক ও দোয়ারাবাজারের বিভিন্ন এলাকায়।
এছাড়া ছাতক ও দোয়ারাবাজার সীমান্তের ওপারে (ভারতের অংশে) গড়ে উঠেছে ইয়াবা তৈরির ছোট ছোট কারখানা। বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র বলছে, দুই দেশের সীমান্তে আগে যারা হেরোইন, মদ ও ফেনসিডিল আনা-নেওয়া করত, তারা এখন বেশি লাভের আশায় ইয়াবা কারবার করছে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে স্থানীয় কিছু রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছাতক ও দোয়ারাবাজারে মাদকের সহজলভ্যতায় শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা ঝুঁকে পড়ছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে তথা ফেসবুকের মেসেঞ্জারে অর্ডার দিয়ে বিকাশে টাকা পরিশোধ করে এ অঞ্চলে মাদক বেচাকেনা অতি সহজলভ্য হয়ে পড়েছে। সিলেটের নিকটতম দুই উপজেলা ছাতক ও দোয়ারাবাজার। প্রবাসী অধ্যুষিত এ দুই উপজেলায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা, গাঁজা, বাংলামদসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে উপজেলা দুটিতে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এখন আসক্ত হয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসা ও সেবনে। মরণনেশা ইয়াবায় ডুবে থাকছে উপজেলার উচ্চবিত্ত থেকে নিুবিত্ত শ্রেণির হাজারো শিশু, কিশোর, তরুণ, যুবক ও বৃদ্ধ। মাদকাসক্তের কারণে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, পারিবারিককলহ, খুনের মতো ঘটনাও বেড়ে চলছে। দুই উপজেলায় মাদকাসক্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এ নিয়ে অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠায় আছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভৌগলিক কারণে ছাতক দোয়ারাবাজার একদিকে পদ নদী হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা নৌ রুট হিসাবে এ পথটি ব্যবহার করেন। বিশেষ করে দোয়ারাবাজারের
বাংলাবাজার,বোগলা,নরসিংপুর,শ্রীপুর ও ইছামতি নদী দিয়ে মাদকের বড় বড় সব চালান প্রবেশ করে। এরপর তা ডিলারদের মাধ্যমে ছাতক -দোয়ারাবাজার হয়ে সড়ক পথে ছাতক সুরমা নদী সেতু,ও সিমেন্টকারখানা হয়ে নোয়ারাই বাজার থেকে পৌর শহবের শিববাড়ি দক্ষিন বাগবাড়ি,পেপার মিল মিনি মাকেট হয়ে পাগল হাসান চত্বর থেকে গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট হয়ে বিশ্বনাথ থেকে সিলেটসহ আশপাশের উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে। অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামীলীগের আমলে ইয়াবা ব্যবসায়,দোয়াবাজার বিএনপি ও যুবদল,ছাত্রদলের দায়িত্বশীল একাধিক নেতাকমীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। কালারুকা,নুরুল্লাপুর,রামপুর দীঘলী,এলাকার এখন সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী জায়েদ নামে গড় ফাদার। এদিকে ছাতক ও দোয়ারাবাজারে অভিযানের পরও বন্ধ হচ্ছে না সর্বনাশা ইয়াবা পাচার। নিত্যনতুন কৌশলে আসছে মাদক। ইয়াবার শীর্ষ গডফাদাররা গা-ঢাকা দিলেও অক্ষতই রয়েছে তাদের নেটওয়ার্ক। সহযোগীদের মাধ্যমে তারা অব্যাহত রেখেছে এ অবৈধ ব্যবসা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে প্রায়ই ধরা পড়ছে ইয়াবার চালান। আবার বিভিন্ন সময় অভিযানে বন্ধ হওয়া তার মাদক বিভিন্ন স্থানে পাচার করতে গিয়ে একাধিক স্লালা্ইকারি মামলায় একাধিকবার কারাবরণ করলেও ফের সস্ত্রীকসহ জড়িয়ে পড়েছে এ ব্যবসায়। কৌশল হিসাবে মাঝে মাঝে ভাঙ্গারী ব্যবসার আড়ালে অটো রিকশা চালিয়ে পুলিশ প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে অবাধে ইয়াবা ব্যবসা চলছে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায়।তারা কখনো ভাঙ্গারি,কালো বোরকা,অটো রিকশাচালক এমন দাবি করলেও তার প্রধান কাজ মাদক ব্যবসা। প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত এবং রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত মাদকসেবীদের ভিড় লক্ষ করা যায়,গোবিন্দগঞ্জ,লালপুর,গোবিন্দনগর কোনাপাড়া একটি বাড়িতে মোটরসাইকেল যোগের গিয়ে ইয়াবা বিত্রিু করে,একাধিক মোটর সাইকের দিয়ে নিয়ে আসছে। এছাড়া এলাকার অন্যতম মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন আওয়ামীলীগের সাবেক ইউপির চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদের কনিষ্ট সহযোগি সাবাজ আলী, সাজু, টুটুল সূত্রধর, অনিক হালদার, শামীম, লিটন হালদার, ও মানিক। এছাড়া সাদা পুলের নিচে বটের গাঙ্গেপাড়ের একাধিক মাদক ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। সূত্র মতে, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত পথে মাদকের চালান ঢুকে সড়ক নৌপথ ও রেল পথে হয়ে রাজধানীর ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে যায়। সুনামগঞ্জ সিলেট সীমান্ত দিয়ে ফেন্সিডিল, গাজা, ইয়াবা, ভারতীয় বিভিন্ন ব্রান্ডের মদ এসে থাকে। ব্যবসায়ীরা ছাতক গোবিন্দগঞ্জ সড়ক,ও ছাতক জাউয়াবাজার সড়ক নিরাপদ ‘ট্রানজিট’ হিসেবে বেছে নিয়েছে। এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মাদক কারবারি, নারী, ট্রাক চালক, জনপ্রতিনিধি এমনকি পুলিশ সদস্য ছাতক দোয়ারাবাজার উপজেলায় শতাধিক পয়েন্ট বাজার,নদী ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে চলছে মাদক কেনাবেচা। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, শুধু পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদক নির্মূল করতে হলে সব পেশার মানুষকে সচেতন হতে হবে। দেখা যায়, পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের আদালতে প্রেরণ করলে উকিলরা সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে যায় তাদের জামিন করাতে। টাকার বদৌলতে জামিনও পেয়ে যায় তারা। ফিরে এসে পুনরায় নতুন উদ্যমে মাদক ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু উকিল যদি জামিন না করাত তাহলে কারাবাসের ভয়ে অনেক অপরাধী মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিত। এভাবে সমাজের প্রতিটি নাগরিক ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে দেশ থেকে মাদক নির্মূল সম্ভব। অন্যথায় কোনো কর্মসূচিই কাজে লাগবে না। এ বিষয়ে সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. মোঃ মুরসালিন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ছাতক দোয়ারাবাজার প্রায় দিনই আমাদের অভিযান থাকে। মাদক বিক্রেতা বা সেবনকারীকে আমরা গ্রেফতার করে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠাই সেখান থেকে তারা কৌশলে বের হয়ে এসে আবার মাদক বিক্রি-সেবন করতে থাকে। এভাবে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।
Leave a Reply