1. abuwakkas19@gmail.com : Abuwakkas :
  2. mrsdasiacasper1514@mailbab.com : bellewolff67 :
  3. rpop-test88@pocebo.ga : bettyeblodgett :
  4. barrettwilkin@qiott.com : bradfordnanya :
  5. admin@chhataknews24.com : admin :
  6. chelseatenney3055@1secmail.com : cletatye8701527 :
  7. marcosmann1266@mailbays.com : deeledger837115 :
  8. donniemeece@1secmail.org : dustinfalk647 :
  9. menmuqad@maillsk.com : ellietelfer3109 :
  10. kinglow@1secmail.org : helentorrence04 :
  11. josephtaylor696m6iz@b.gsasearchengineranker.com : jaimehartley :
  12. eulakirkwood5698@tokyoto.site : jefferyodriscoll :
  13. vedapost@1secmail.net : jolenerignall28 :
  14. theronwildman5056@1secmail.net : jonihartmann :
  15. carissajonathan8844@dcctb.com : kathringulley :
  16. uwvvdsuk@maillsk.com : katrinafuentes5 :
  17. makaylaadamsdds1576@mailbays.com : libbycato97 :
  18. louise_leavens-2935@smass.store : louiseleavens58 :
  19. troi@tolink.pw : ltbwyatt689 :
  20. profmalachistoltenberg1640@mailbab.com : martybussey1 :
  21. mohammedajijurrahman17@gmail.com : Ajij Ur Rahman : Mohammed Ajij Ur Rahman
  22. abj@poochta.ru : nataliafiedler :
  23. barrettgascoigne@1secmail.org : nathanielcremor :
  24. lachlanperryman5472@1secmail.org : ndejoseph2991 :
  25. rajikul.islam95@gmail.com : Rajikul Islam :
  26. clinton996712@mybestemailproviders.com : raymondchildress :
  27. sar4u.tk@gmail.com : rony :
  28. ambermosier@1secmail.org : serenascully :
  29. hz_hadrius_ecdicius@tb-ndfl1.ru : sherlyncaraballo :
  30. susanspaull1654@1secmail.com : soila66u537815 :
ছড়াকার মিলু কাসেম: সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতির উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের বিদায় - ছাতক নিউজ ২৪ ডট কম
মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
পাউবোর আশীর্বাদে বিতর্কিত উত্থান স্বপন হাজিকে ঘিরে ঠিকাদারি সাম্রাজ্য, টেন্ডারবাজি ও বালু–পাথর সিন্ডিকেটের অভিযোগ বিস্মৃত শহীদ বুদ্ধিজীবী মাওলানা ওলিউর রহমান ধর্ম, রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য অধ্যায় ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত এরশাদ আলী গীতিকার মুস্তাফিজুর রহমান স্মরণ এই পৃথিবীর পরে কত ফুল ফোটে আর ঝরে নিজ হাতে পোস্টার–ফেস্টুন নামালেন খেলাফত মজলিসের এমপি প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আব্দুল কাদির সুনামগঞ্জ–৫ আসনে আচরণবিধি মানতে ধানের শীষের প্রার্থীর উদ্যোগে ব্যানার–পোস্টার অপসারণ কার্যক্রম সিলেট নগরের জলাবদ্ধতা:দেড় যুগের প্রকল্প—হাজার কোটি টাকা ব্যয়, তবুও নাগরিক ভোগান্তি বহমান আগামী নির্বাচন সামনে—গণতান্ত্রিক ইসলামি দলগুলোর সামনে কঠিন পরীক্ষার সময়: পরস্পর শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও উন্নয়নপন্থী রাজনীতির উপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা ছাতক–দোয়ারাবাজার আসনে ধানের শীষে ভোট চান কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন ঐক্যবদ্ধ বিএনপি বিজয়ের জন্য মাঠে প্রস্তুত মুক্তিযুদ্ধ : ছাতকের ‘শিখা সতেরো’—৫৪ বছরের রহস্য আজও উন্মোচিত হয়নি

ছড়াকার মিলু কাসেম: সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতির উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের বিদায়

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩৯ বার ভিউ

ছড়াকার মিলু কাসেম: সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতির উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের বিদায়

আনোয়ার হো‌সেন র‌নি,
সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত প্রিয়মুখ, প্রগতিবাদী কবি, লেখক, সাংবাদিক, শিশু ও ভ্রমণ সাহিত্যিক, সংগঠক সৈয়দ আবুল কাসেম মিলু আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সাহিত্যজগতে তিনি সমধিক পরিচিত ছিলেন ‘মিলু কাসেম’ নামে। তাঁর অকস্মাৎ প্রয়াণে সিলেটসহ পুরো সাহিত্য অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
শৈশব-কৈশোরের শুরু খাসদবীর-বড়বাজারে
মিলু কাসেমের জন্ম সিলেট নগরের খাসদবীরে। তবে তাঁর শৈশব-কৈশোর কেটেছে পাশের বড়বাজার এলাকায়। দুটি মহল্লা কাছাকাছি হওয়ায় তিনি ছিলেন একইসাথে দুই এলাকার আপন মানুষ। পাড়ার বড় ভাই হিসেবে তিনি কিশোরদের কাছে ছিলেন রহস্যময় এবং খানিকটা ভীতিকর—রাশভারী চেহারা, কম কথার মানুষ, সকালে বেরিয়ে রাত গভীর করে ফেরা। আড্ডায় তাকে দেখা যেত না প্রায়ই। সেই সময় পাড়ার কিশোরদের মনে মিলু ভাই হয়ে উঠেছিলেন এক ‘দূরের মানুষ’।
কিন্তু পরবর্তীতে যখন তাঁদের সাহিত্যচর্চার সূচনা হয়, তখনই আবিষ্কৃত হয় নতুন এক মিলু ভাই—সদালাপী, হাস্যোজ্জ্বল, আন্তরিক, উৎসাহদাতা। বাইরের কাঠখোট্টা ভাবের আড়ালে লুকানো ছিল এক উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত, উদার মানুষ।

যুগভেরী ও ছড়াসাহিত্য সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে সিলেটের প্রভাবশালী সাহিত্যপত্রিকা যুগভেরী–তে নিয়মিত লিখতেন মিলু কাসেম। সে সময় নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। তাঁর হাত ধরে গড়ে ওঠা শাপলার মেলা সংগঠনের অন্যতম সক্রিয় সদস্য ছিলেন মিলু কাসেম। তখন থেকেই ছড়া, কবিতা ও সাহিত্যচর্চায় তিনি নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে শুরু করেন। ছড়ার জগতে তাঁর আলাদা স্বাক্ষর তৈরি হয় খুব দ্রুত। ঢাকার প্রখ্যাত ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটনের সঙ্গে ছিল তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। সিলেটে যৌথ কাব্যগ্রন্থ ও ছড়াগ্রন্থ প্রকাশের যে প্রবণতা নব্বইয়ের দশকে তুঙ্গে ওঠে, তার আগেই মিলু কাসেম সেই ধারা তৈরি করেছিলেন।
সাংবাদিকতায় মনোযোগ যদিও তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান ছড়াকার ও সাহিত্যিক, কিন্তু জীবনের পরবর্তী সময়ে মূল পেশা হিসেবে বেছে নেন সাংবাদিকতাকে। নিয়মিত সংবাদপত্রে কাজের ব্যস্ততায় সাহিত্য থেকে কিছুটা দূরে সরে আসেন। তবুও তাঁর লেখা ছড়া পাঠকদের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।

প্রজন্মকে পথ দেখানো নবীন ছড়াকার ও লেখকদের প্রতি তাঁর ছিল আলাদা টান। একজন তরুণ সাহিত্যকর্মী যখন প্রথমবার সাহিত্যের চর্চায় নামেন, তখন মিলু ভাই-ই তাকে এগিয়ে দেন। যৌথগ্রন্থ প্রকাশের পরিকল্পনায় তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে লেখা দেন, আবার ঢাকার লেখকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে নিজের হাতে সুপারিশপত্র লিখে দেন।
সে সময় ঢাকায় গিয়ে আজিজ সুপার মার্কেটের ‘ছোটদের কাগজ’–এর অফিসে যখন তরুণরা লুৎফর রহমান রিটনের হাতে মিলু ভাইয়ের লেখা চিঠি তুলে দেন, তখনই তাঁদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায় ঢাকার খ্যাতনামা লেখক-সাহিত্যিকদের দরজা। এরই সূত্রে পরিচয় ঘটে রফিকুল হক দাদু ভাই, শিশুসাহিত্যিক আলী ইমামসহ প্রখ্যাত অনেকের সঙ্গে। সেই বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার সূচনাকারী ছিলেন মিলু কাসেম।

এক ভিন্ন মানুষ ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বন্ধুবৎসল, বিনয়ী, অসাম্প্রদায়িক চেতনার মুক্তমনা এক মানুষ। পাড়ায়-প্রতিবেশে তিনি সকলের প্রিয় ছিলেন। তবে ছোটবেলার সেই ভয় মেশানো শ্রদ্ধা অনেকের ভেতরই আজীবন রয়ে গেছে।
সাহিত্য অঙ্গনে শূন্যতা সিলেট ইতোমধ্যেই হারিয়েছে সাংবাদিক মহিউদ্দিন শীরু, সাইফুল চৌধুরী, ফতে ওসমানী, আজিজ আহমদ সেলিম, অজয় কুমার পাল (অজয় পাল), আনফর আলী প্রমুখকে। তাঁদের হারানোর শোক কাটতে না কাটতেই বিদায় নিলেন ছড়াকার মিলু কাসেম। সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে, তা পূরণ হবে কি না, সে প্রশ্ন এখন সর্বত্র।
মৃত্যু: চিরন্তন সত্য মৃত্যু অনিবার্য, জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে—সবই বিধাতার হাতে। কিন্তু কিছু মৃত্যু থাকে, যা শুধু পরিবার বা আত্মীয়-স্বজনকে নয়, পুরো সমাজকে কাঁদায়। মিলু কাসেম ছিলেন তেমনই এক ব্যক্তিসম্পন্ন মানুষ। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সংবাদমাধ্যমে নেমে আসে শোকের ছায়া।

সাক্ষাৎকার নেওয়ার অসম্পূর্ণ ইচ্ছে সিলেটের সাহিত্যের এক সমৃদ্ধ সময়ের পথিক ছিলেন তিনি। তাঁর দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়ে রাখার ইচ্ছে বহুবার জেগেছিল অনেকের মনে, কিন্তু নানা কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। আর হঠাৎ তাঁর প্রয়াণে অপূর্ণ রয়ে গেল সেই ইচ্ছে।
বিদায় প্রিয় ছড়াকার সাহিত্যপ্রেমীরা বলছেন—কৈশোরের তারকাদের ভিড়ে মিলু ভাই ছিলেন তাঁদের অন্যতম প্রিয় ছড়াকার। তাঁর মতো লিখতে চেয়েছিলেন, তাঁর মতো হতে চেয়েছিলেন। আজ তাঁকে সরাসরি আর বলা সম্ভব নয়, তাই লিখিত স্মৃতির পাতায় রয়ে গেল সেই ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।
সমবেদনা সৈয়দ আবুল কাসেম মিলুর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা। মহান আল্লাহ তাঁর পরিবারকে শোক সইবার শক্তি দান করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।

মিলু কাশেম: সিলেটের ছড়াসাহিত্যের নীরব নক্ষত্র
অন্যরকম আলোয় ভেসে থাকা এক মানুষ চলে গেলেন চিরবিদায় নিয়ে। তিনি ছড়াকার, সাংবাদিক, প্রিয় বড়ভাই মিলু কাশেম। সিলেটের সাহিত্যের অঙ্গনে তাঁর পদচিহ্ন স্পষ্ট, অথচ তিনি ছিলেন নিভৃতচারী। আজ তাঁকে স্মরণ করতে গিয়ে ভেসে ওঠে এক কৈশোরের স্মৃতি, এক প্রজন্মের মুগ্ধতা।
শৈশবের স্মৃতি ও প্রথম পরিচয়
আমার জন্ম-বেড়ে ওঠা সিলেট নগরের খাসদবীর এবং বড়বাজার এলাকায়। জন্ম খাসদবীরে হলেও শৈশব-কৈশোরের বড় অংশ কেটেছে বড়বাজারে। দুটি পাড়া মূলত একই—মাত্র কয়েক মিনিটের পথ। আর এ সূত্রেই মিলু ভাই আর আমি এক পাড়ার মানুষ।
তাঁর সঙ্গে বয়সের অনেক ফারাক থাকায় প্রথমদিকে তাঁর সঙ্গে কোনো ঘনিষ্ঠতা ছিল না। বরং দূর থেকে একধরনের ভয়ভরা শ্রদ্ধা নিয়েই তাঁকে দেখতাম। রাশভারী চেহারা, কম কথার স্বভাব, সকালবেলায় ছোট ভাইদের মোটরসাইকেলে চড়ে বেরিয়ে যাওয়া আর রাত করে ফেরা—এসব মিলিয়ে তিনি আমাদের কিশোরদের কাছে ছিলেন রহস্যময় মানুষ।
পাড়ার আড্ডায় তাঁকে কখনো দেখিনি। তবে তাঁর ছোট ভাই মঞ্জু আমাদের খেলার সাথী ছিল। মাঠে ফুটবল খেলতাম একসঙ্গে। তবুও মিলু ভাইকে দূরত্ব থেকেই সম্মান জানাতাম—সামনে পড়লে সালাম দিয়েই দ্রুত সরে পড়তাম।
সাহিত্যপাড়ায় আগমন
গত শতকের শেষভাগে হঠাৎ করেই আমার মাথায় “সাহিত্যের পোকা” ঢুকে পড়ে। প্রথমে সায়েন্স ফিকশন লিখতাম, খেলাধুলা নিয়ে লেখালেখি শুরু করি, তারপর ছড়ার প্রতি প্রবল টান অনুভব করি। ছড়া লেখার সুবাদেই সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী, মুজিবুর রহমান শাহিন, জয়নাল আবেদীন জুয়েল, মোসলেহ উদ্দিন বাবুল, রনক আহমদ চৌধুরী, মহিউল ইসলাম মতিন, সিরাজ উদ্দিন শিরুলসহ অনেকের সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয়।
আমরা কয়েকজন উঠতি লেখক—ফজল, ফাজুল, ফরিদী—সিনিয়রদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠি। নামের মিল থাকায় সবাই আমাদের ছন্দ মিলিয়ে ডাকতেন। তখন সিলেটে যৌথ কাব্যগ্রন্থ, গল্পগ্রন্থ কিংবা ছড়াগ্রন্থ প্রকাশের প্রবণতা তুঙ্গে। সেই ধারায় আমাদের মাথায়ও যৌথগ্রন্থ বের করার চিন্তা আসে।
ফরিদী আর আমি তালিকা করতে বসি। আর সেখানেই প্রথম আসে এক নাম—মিলু কাশেম।
বিস্ময় ও আবিষ্কার
সিনিয়ররা জানালেন—সিলেটের ছড়াসাহিত্যিকের সংক্ষিপ্ত তালিকা করলে উপরের দিকেই থাকবে এই নাম। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, আমরা কেউ তাঁকে চিনিই না! দেখা হলো না কোনো সাহিত্যিক আড্ডায়। কারণ, তখন তিনি মূলত সাংবাদিকতায় ব্যস্ত। সাহিত্য থেকে দূরে সরে গেছেন বহু আগেই।
ঠিকানা জোগাড় করতে গিয়ে আরও অবাক হলাম—তিনি তো আমারই পাড়ার মানুষ, বড়বাজারে থাকেন! সেই রাশভারী সাংবাদিকই আসলে ছড়াকার মিলু কাশেম। মঞ্জুর কাছে বিষয়টি জানালাম। সে বিস্ময় নিয়ে বলল—“ভাইয়া তো লেখালেখি করেন, তুই জানিস না?” এরপর তার মাধ্যমেই মিলু ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়।
নরম-সরম মানুষটির সন্ধান ভয়ে ভয়ে তাঁর বাসায় যাই। কিন্তু যে মানুষটিকে বাইরে থেকে কাঠখোট্টা মনে হতো, তাঁর ভেতরটা একেবারেই আলাদা। তিনি হাসিখুশি, উষ্ণ, মমতাময়। আমি লেখালেখি করি শুনে খুশি হয়ে গেলেন। বই বের করতে চাই জানালে বললেন—“আমি তো লেখালেখি ছেড়ে দিয়েছি অনেকদিন। লেখাগুলো কোথায় আছে খুঁজে দেখতে হবে।” অবশেষে খুঁজে বের করে দিলেন দশটি ছড়া। পড়ে আমি অভিভূত! তাঁর লেখার শক্তি, কল্পনা ও ছন্দ আমার লেখা ছাইপাশ মনে হলো। একটি ছড়া এতটাই গভীর ছাপ ফেলেছিল যে এক পড়াতেই মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। আজও টুকরো টুকরো মনে আছে—

নন্দলালের কাকার
গাছ ছিল এক-টাকার,
বর্ষাকালে সময় হতো
গাছের টাকা পাকার…
[স্মৃতির কারণে হয়তো শব্দে হেরফের থাকতে পারে।]
লুৎফর রহমান রিটনের কাছে যাত্রা
আমাদের যৌথগ্রন্থে ঢাকার বড় ছড়াকারদের লেখা রাখার প্রচলন ছিল। তখনকার সবচেয়ে আলোচিত নাম লুৎফর রহমান রিটন। তাঁর কাছে পৌঁছানোর একমাত্র সূত্র—মিলু কাশেম।
আমাদের অনুরোধে মিলু ভাই খুব আন্তরিকভাবে একটি চিঠি লিখে দিলেন। বললেন, “রিটনকে আমার কথা বললেই হবে। আমি টেলিফোনে পেলে আলাদা করেও বলে রাখব।”
চিঠি নিয়ে আমরা ঢাকার ট্রেনে চেপে বসলাম। পরদিন সকালে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের অফিসে গিয়ে হাজির হই। প্রথমে রিটন ভাই পাত্তা দেননি। কিন্তু চিঠি খুলেই বদলে গেল পরিবেশ—“ওহ, মিলু পাঠিয়েছে! বসো বসো।”
তিনি তখনই বললেন, “এখন দশটা ছড়া দেওয়া কঠিন। তবে মিলুর অনুরোধ মানতে হবে।” তারপর শুরু হলো তাঁদের বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ। আমরা বিস্মিত হয়ে শুনলাম—রিটন ভাই সিলেট গেলে মিলু ভাইয়ের বাসায় থেকেছেন।
সেই আড্ডায় আরও ছিলেন রফিকুল হক দাদু ভাই, আলী ইমামসহ অনেক নামী লেখক। আমাদেরকে তিনি তাঁদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন—“এরা ক্ষুদে ছড়াকার, সিলেট থেকে এসেছে।” আমরা কিশোররা অভিভূত হয়ে শুধু শুনতেই থাকলাম।
সম্পর্কের রূপান্তর এই একটি বইয়ের সূত্র ধরে মিলু ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বদলে গেল। তিনি আমাকে আলাদা চোখে দেখতে শুরু করলেন। পাড়ার ছেলেদের মধ্যে আমি তাঁর কাছে আলাদা হয়ে উঠলাম লেখালেখির কারণে। তবে সত্যি বলতে, আমি যতটা সহজ ছিলাম অন্য সিনিয়রদের সঙ্গে, মিলু ভাইয়ের সামনে কখনো পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ হতে পারিনি। ছোটবেলার সেই ভয়মিশ্রিত শ্রদ্ধা সারাজীবনই বজায় ছিল।
সাহিত্য থেকে সাংবাদিকতায় মিলু কাশেম সিলেটের সাহিত্যের সমৃদ্ধ সময়ের পথিক ছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি মূলত সাংবাদিকতায় মনোনিবেশ করেন। এ কারণেই হয়তো নতুন প্রজন্ম তাঁকে খুব কম চিনেছে ছড়াকার হিসেবে। কিন্তু যাঁরা তাঁর ছড়া পড়েছেন, তাঁরা জানেন—তাঁর লেখনী কতটা কল্পনাপ্রবণ, কতটা শিশুমননির্ভর। তিনি সিলেটের ছড়াসাহিত্যে এক নিরব নক্ষত্র। প্রভাবশালী হয়েও নিভৃতে ছিলেন।

অপূর্ণ স্বপ্ন আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল মিলু ভাইয়ের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নেওয়া। তাঁর সাহিত্যযাত্রা, সাংবাদিকতা, সমকালীনদের সঙ্গে স্মৃতি—সবই লিখে রাখব। কিন্তু সেই সুযোগ আর হলো না। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে আমার সেই স্বপ্নও অপূর্ণ রয়ে গেল।
বিদায়, প্রিয় ছড়াকার মিলু ভাই, আপনি এখন না দেখার ভুবনে চলে গেছেন। অথচ আপনি ছিলেন আমার কৈশোরের অন্যতম নায়ক। আপনার মতো ছড়াকার হতে চেয়েছিলাম, আপনার মতো লিখতে চেয়েছিলাম।
সবার ভিড়ে আপনি সবসময় আলাদা ছিলেন আমার জন্য। এই কথাগুলো কখনো সামনাসামনি বলা হয়নি। আজ আপনার অনুপস্থিতিতে শুধু লিখেই জানাতে পারছি।ওপারে ভালো থাকবেন মিলু ভাই।সিলেটের সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ইতিহাস লিখতে গেলে মিলু কাশেম নামটি অবধারিতভাবে আসবে। তিনি হয়তো আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন না, কিন্তু এক প্রজন্মের মনে তিনি থেকে গেছেন অম্লান। তাঁর মৃত্যুতে সিলেটের সাহিত্য অঙ্গন হারালো এক নীরব অথচ গভীর ছায়ার মানুষকে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
error: Content is protected !!