Breaking News

ঘোড়াঘাটে সরকারি বাসায় ইউএনও ওয়াহিদাকে হাতুড়িপেটা

Print Friendly, PDF & Email

ঘোড়াঘাটে সরকারি বাসায় ইউএনও ওয়াহিদাকে হাতুড়িপেটা

ডেস্ক রিপোর্ট
ইউএনও ওয়াহিদাকে হাতুড়িপেটা দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখকে (৭০) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে সরকারি বাসভবনে ঢুকে নিরাপত্তাপ্রহরীকে আটকে রেখে এ ঘটনা ঘটায় তারা। প্রচণ্ড আঘাতে ওয়াহিদার মাথার খুলির হাড় ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়।মস্তিস্কের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হওয়ায় ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়। চিকিৎসা দিতে তাদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রংপুর নেয়া হয়। জখম মারাত্মক হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় বিমানবাহিনীর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ইউএনওকে ঢাকায় আনা হয়। বেলা ৩টায় তাকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ভর্তি করা হয়। রাত ৯টায় শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হলেও তিনি শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিকে তার বাবা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ঘটনার কারণ বা কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। তবে ঘটনা তদন্তে রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৩১ ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে কারা এই হামলা করেছে, তা খুব দ্রুত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ দফতরে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইউএনওর বাসায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে। দু’জন দুর্বৃত্তকে দেখা গেছে। তাদের মুখে মুখোশ ছিল এবং সেগুলো দেখে পর্যালোচনা চলছে। পুলিশের চৌকস একটি টিম কাজ করছে। তারা (পুলিশ) আশাবাদী যে, খুব দ্রুত আমাদের জানাতে পারবে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে-আমরা অপেক্ষা করছি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় ওয়াহিদার অস্ত্রোপচার শুরু হয়ে রাত ১১টা ৫ মিনিটে সম্পন্ন হয়। সফল অস্ত্রোপচার শেষে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম বলেন, তাকে আইসিইউতে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। এই কর্মকর্তার ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নিউরোসার্জন অধ্যাপক ডক্টর কনক কান্তি বড়ুয়া রাত ১১টা ৪০ মিনিটে যুগান্তরকে বলেন, তার মৃত্যুঝুঁকি নেই। তবে তার শরীরে প্যারালাইসিস দেখা গিয়েছে। চিকিৎসা করতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ওয়াহিদা খানমের চিকিৎসার সব দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন। এর আগে দুপুরে হাসপাতালে ভর্তির পর নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক জাহেদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউএনওর মাথায় ভারি কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। মাথার খুলির হাড় ভেঙে ভেতরে ঢুকে গেছে। এটি মস্তিষ্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে প্রচণ্ডভাবে। ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অবস্থা স্থিতিশীল না। ব্লাড প্রেশার কমে গেছে। জ্ঞানের মাত্রা সাধারণ মানুষের মতো নেই; যদিও তিনি কথাবার্তা বলার চেষ্টা করছেন। তবে প্রেশার ধরে রাখতে পারছেন না। প্রেশার কমে গেছে। তার পালস বেড়ে গেছে। তিনি রেস্টলেস অবস্থায় আছেন। আগে তাকে স্টেবল (স্থিতিশীল অবস্থা) করতে হবে। অপারেশন (অস্ত্রোপচার) করার মতো অবস্থা নেই। এখন অপারেশন করলে বিপজ্জনক হবে। আগে তার অবস্থার উন্নতি করাতে হবে। ব্লাড, স্যালাইন দেয়া হয়েছে। অনেক ওষুধ দেয়া হয়েছে। উনি সংকটাপন্ন অবস্থায়ই আছেন। ব্লাড প্রেশার, পালস রেট ও জ্ঞানের মাত্রার উন্নতি না হওয়ায় উনি যথেষ্ট বিপজ্জনক অবস্থায় আছেন। ইউএনওর চিকিৎসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি মেডিকেল টিম গঠন করেছে। এই দলে আছেন হাসপাতালের পরিচালক দীন মোহাম্মদ, নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক জাহেদ হোসেন, হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক বদরুল আলম, চিকিৎসক এমএম জহিরুল হক, চিকিৎসক আমিন মোহাম্মদ খান, চিকিৎসক মাহফুজুর রহমান ও চিকিৎসক উজ্জ্বল কুমার মল্লিক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউএনওর সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর কেটে দুর্বৃত্তরা তার শয়নকক্ষে ঢুকে পড়ে। এর আগে দুর্বৃত্তরা ওই বাসভবনের নিরাপত্তাপ্রহরী নাহিদ পলাশকে বেঁধে প্রহরীকক্ষে তালা দিয়ে আটকে রাখে। এরপর মই দিয়ে উঠে ভবনের ২য় তলায় থাকা ভেন্টিলেটর খুলে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা। বাড়িতে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় জখম করে দুর্বৃত্তরা। তার চিৎকারে তাকে বাঁচাতে বৃদ্ধ বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ এগিয়ে এলে তাকেও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। এ সময় তারা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাদের অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সরকারি ওই বাড়িতে ইউএনও ওয়াহিদা খানম, তার ৩ বছরের পুত্রসন্তান আদিয়াত ও ইউএনওর বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখ থাকতেন। ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিল ৩ বছরের শিশুপুত্র আদিয়াত। ইউএনওর বাবা ওমর আলী প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে তিনি হাঁটতে বের না হওয়ায় সঙ্গীরা তার খোঁজ নেয়ার জন্য বাসভবনে যান। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে ইউএনও, তার বাবা ও প্রহরীকে উদ্ধার করে। ইউএনওর বাসভবনের পেছন থেকে একটি মই উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথমে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাদের। সেখান থেকে ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। মেয়ের ওপর হামলার খবর শুনে ছুটে আসেন ইউএনওর মা। তিনি এখন আহত স্বামীর পাশে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছেন। যুগান্তরের রংপুর ব্যুরো অফিস জানিয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে- ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাবা ওমর আলী শেখ শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. রস্তম আলী জানিয়েছেন, তাকে গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। এদিকে ঘটনার পর সকালেই দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক, জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম ও পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক বলেন, ‘এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়। কারণ, ঘরের কোনো মালামাল খোয়া যায়নি। তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে আমার ধারণা।’ ইউএনওর বাড়ি নাটোর জেলায় এবং শ্বশুরবাড়ি নওগাঁ জেলায়। দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি ডাকাতির উদ্দেশ্যে নয়, হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হয়েছে। তবে পুরোপুরি তদন্ত না করে এটি বলা যাবে না। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকালে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা ও পুলিশের রংপুর বিভাগীয় ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এতে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, সিআইডি, পিবিআইসহ সরকারি অন্য সংস্থাগুলোও কাজ করছে। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনটি সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল। ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে ২ জনকে দেখা গেছে। এর মধ্যে একজন পিপিই পরা ছিল এবং অন্যজন মুখোশ পরা ছিল। আমরা দ্রুততম সময়ে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পারব বলে আশা করছি। তিনি এই ঘটনাকে একটি জঘন্যতম ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। ইউএনওর বাবা ওমর আলী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৯ নম্বর নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। তার মাথা ও শরীরে ধাতব বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নামাজ আদায় করতে উঠে পাশের ঘর থেকে মেয়ের চিৎকার শুনতে পাই। সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করলে একজন মুখে কাপড় বাঁধা অবস্থায় এসে আমাকে ভয় দেখিয়ে আলমারির চাবি চায়। বলে, না দিলে মেরে ফেলা হবে। এরপর হাতুড়ি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করলে আমি লুটিয়ে পড়ি। এরপর আর কিছু বলতে পারি না।’ ইউএনওর বাবা আরও বলেন, ‘ঘোড়াঘাটে মেয়ে একা থাকে। জামাতা রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ইউএনও। মেয়ের সঙ্গে তিন বছর বয়সী নাতি থাকে। এই উপজেলায় আড়াই বছর ধরে মেয়ের সঙ্গে থাকছি। মাঝেমধ্যে মহাদেবপুরের বাড়িতে যাই। আমি মেয়ের সঙ্গে থাকা অবস্থায় তাকে কেউ কোনো হুমকি দিয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।’ সিসিটিভি ফুটেজে যা আছে : ঘোড়াঘাট ইউএনওর বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, এ হামলায় অংশ নেয় দু’জন। এদের মধ্যে একজন ছিল মুখোশ পরা এবং অন্যজন পিপিই (পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট) পরা। যাতে তাদের চেনা না যায়। রাতে তারা এক এক করে বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ঘটনা ঘটিয়ে একসঙ্গেই বের হয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে এমন কথা নিশ্চিত করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা ও পুলিশের রংপুর জোনের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য। এর আগেও একই কথা জানান ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা। সিসিটিভি ফুটেজ ধরেই এগোচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে অন্যান্য উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ক্যাম্পাস ও থানা প্রায় কাছাকাছি অবস্থান হলেও ঘোড়াঘাট উপজেলার চিত্র ভিন্ন। ঘোড়াঘাট উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ক্যাম্পাস ওসমানপুর আর ঘোড়াঘাট থানা সেখান থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে। ওসমানপুরে উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসে ইউএনওর বাড়ির পেছনটা সুনসান। নেই তেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বাড়িতে ছিল শুধু একজন নৈশপ্রহরী। এ অবস্থায় থানা ৫ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় নিরাপদ ভেবেই দুষ্কৃতকারীরা নির্বিঘ্নে এই ঘটনা ঘটাতে পেরেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।এ ব্যাপারে উপজেলা ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী অধিবাসী ঘোড়াঘাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভুট্টু জানান, উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাস ও থানার দূরত্ব ৫ কিলোমিটার।এ কারণেই উপজেলা পরিষদ ওসমানপুরে প্রায়ই চুরিসহ বিভিন্ন অপকর্ম ঘটায় দুষ্কৃতকারীরা। উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসের অদূরে গত ১৫ দিন আগে তার বাড়িতেও চুরি সংঘটিত হয় এবং প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ঘোড়াঘাটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর নানান অভিযানে অংশ নেন ওয়াহিদা খানম। বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, অবৈধ কারখানা বন্ধসহ বিভিন্ন অপকর্ম বন্ধ করেন তিনি। তিনি কখনোই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি। তবে কী কারণে এই হামলা, সিসিটিভি ফুটেজের দু’জন এবং আর কে কে এর পেছনে থাকতে পারে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। হাসপাতালে প্রতিমন্ত্রী : দুর্বৃত্তদের হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত ঘোড়াঘাট ইউএনও ওয়াহিদা খানমের অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি শেরেবাংলা নগরের সরকারি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে দেখতে যান। তাকে দেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘ওয়াহিদা খানমের সঙ্গে হাসপাতালে কথা বলেছি। এখন তার অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। তবে তার প্রেশারটা আপ-ডাউন করছে। যদিও সাক্ষাৎকারে তার প্রেশার ৮০/১২০-র মধ্যে ছিল। এখন কথা বলতে পারছেন তিনি। তবে তার মাথার বাঁ-দিকটা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডান পাশের কিছু অংশ প্যারালাইজড অবস্থায় আছে। সব প্যারামিটার যখন ভালো হবে, তার প্রেশারটা যখন নরমাল স্টে করলে আশা করা যায়, আজ রাত ৯টায় তার অপারেশন হবে।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তার মাথার কিছু অংশ ব্রেনের ওপর প্রেশার তৈরি করেছে, সেটা অপারেশনের মাধ্যমে অপসারণ করা গেলে অবস্থার উন্নতি হবে বলে আমাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। হাসপাতালের প্রধান দীন মোহাম্মদসহ ভালো চিকিৎসক যারা রয়েছেন, তারা অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সুনামের অধিকারী। তারা সবাই এখানে ওয়াহিদার চিকিৎসায় সহযোগিতা করবেন। পাশাপাশি একটি ৭ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সেখানে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে-ভালো ট্রিটমেন্ট যেন নিশ্চিত করা হয়। সে জন্য আমরা আশা করছি, সবকিছু যদি ভালো থাকে তাহলে আজ রাত ৯টায় তার অপারেশন হবে এবং অপারেশনের পর তার ইমপ্রুভমেন্ট হবে।’ হামলাকারীদের চিহ্নিত করা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত কারণ জানা যায়নি। তদন্ত চলছে, কারণ বের করার চেষ্টা চলছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে হালকা স্বাস্থ্যের দু’জন তরুণ। তবে তাদের চেহারা পুরো বোঝা যাচ্ছে না। হাতুড়িজাতীয় কিছু দিয়ে আঘাত করেছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন তিনি আশাবাদী, খুব দ্রুত গ্রেফতার করতে পারবেন। এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দফতরে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের হামলার বিষয়ে কথা বলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এ সময় তার পাশে সচিব শেখ ইউসুফ হারুনও উপস্থিত ছিলেন। ওয়াহিদা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শত্রুতাবশত মনে করলে সে একা আক্রান্ত হতো, কিন্তু তার পিতাও আক্রান্ত হয়েছেন। ডাকাতির উদ্দেশ্যে বা এরকম কিছুও হতে পারে। আমরা অপেক্ষা করছি, অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিষয়টি দেখছি। অতি অল্প সময়ের মধ্যে আশা করি জটটা খুলবে এবং আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

About admin

Check Also

ছাতকে ম‌্যা‌নে‌জিং ক‌মি‌টি গঠন নি‌য়ে দু`প‌ক্ষের ম‌ধ্যে উ‌ত্তেজনা

ছাতকে ম‌্যা‌নে‌জিং ক‌মি‌টি গঠন নি‌য়ে দু`প‌ক্ষের ম‌ধ্যে উ‌ত্তেজনা ছাতক প্রতিনিধিঃ ছাতকে দক্ষিন খুরমা ইউনিয়নের মর্য্যাদ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!