সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের ঐতিহাসিক উন্নয়ন : সুরমা পারের পরিবর্তনের এক দীর্ঘ যাত্রা
ষ্টাফরিপোটারঃ
সুনামগঞ্জ–৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) অঞ্চলের অবকাঠামো ও শিল্পায়নের ইতিহাসে কয়েকটি প্রকল্প বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দুটি উন্নয়ন উদ্যোগ হলো—সুরমা ব্রিজ নির্মাণ এবং সুরমা পাড়ে লাফার্জ হোলসিমের শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা। এই দুটি প্রকল্প শুধু ছাতক–দোয়ারাবাজারের চেহারাই বদলে দেয়নি, বরং পুরো সিলেট অঞ্চলের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি এনেছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও বিভিন্ন সময়ে দলীয় মনোনীত প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন।
খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক সফর ও উন্নয়ন
প্রক্রিয়ার সূচনা ২০০৬ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া যখন সর্বশেষ ছাতকে আসেন, তখন তিনি সুরমা নদীর তীরে সেতু নির্মাণের পাশাপাশি অঞ্চলটির শিল্পায়ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। সেই সফরকে ঘিরেই শুরু হয় স্থানীয় উন্নয়ন অগ্রযাত্রার নতুন অধ্যায়। রাজনৈতিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য, ছাতকের এই সফর শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক সফর ছিল না—এটি ছিল অবকাঠামোগত উন্নয়নের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
সুরমা ব্রিজ নির্মাণের ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার সম্মতি আদায়ে কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন ছিলেন সামনের সারিতে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও তদবিরের মাধ্যমে তিনি প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ নির্মাণের অনুমোদন চূড়ান্ত হয়।
সুরমা ব্রিজ: বিচ্ছিন্ন মানুষকে সড়ক যোগাযোগের মূলধারায় আনার একটি সাহসী প্রকল্প
সেতুটি নির্মাণের আগে ছাতক–দোয়ারাবাজার অঞ্চলের অনেক মানুষই যাতায়াতে নৌপথের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যেত। সুরমা ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় এই নির্ভরতা শুধু কমেই যায়নি, বরং সড়কপথে ছাতকের সঙ্গে সিলেট ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ সহজতর হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে এসেছে গতি, পণ্য পরিবহনের খরচ কমেছে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এসেছে আরাম।
স্থানীয়দের মতে, সেতুটি না হলে আজও অনেক এলাকা উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়ে থাকত। বাজার, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান—সবই সড়ক যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল, আর সেই পথ খুলে দেয় সুরমা ব্রিজ।লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট কোম্পানি: অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
ছাতকের উন্নয়ন ইতিহাসে আরেকটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো সুরমা নদীর তীরে লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট কারখানা প্রতিষ্ঠা। প্রায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ শিল্পপ্রতিষ্ঠান উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শিল্পায়নের এক নতুন ধারা সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখযোগ্য যে, লাফার্জের কারখানা ছাতকে স্থাপনের সিদ্ধান্ত একসময় অনিশ্চিত ছিলো। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জসহ একাধিক এলাকায় স্থাপনের প্রস্তাব ছিলেন। কিন্তু তৎকালীন সময়ের রাজনৈতিক ও স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বিত উদ্যোগ, বিশেষ করে কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের সরাসরি তদবির ও ভূমিকার কারণে লাফার্জ শেষ পর্যন্ত ছাতকেই নির্বাচিত করেছিলেন।
জমি অধিগ্রহণ থেকে স্থানীয় স্বার্থরক্ষা: মিলনের ভূমিকা লাফার্জ প্রকল্প শুরুর সময় জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ মূল্য নির্ধারণ, স্থানীয়দের দাবি-দাওয়া—এসব বিষয় ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রকল্পের কারণে স্থানীয় মানুষের জমি, ঘরবাড়ি বা কৃষিজ সম্পদের ক্ষতি হলে তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে মিলন স্থানীয়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে তাদের দাবি।
গ্রামের মানুষদের কলা গাছ, লাউ গাছ থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষতিরও ক্ষতিপূরণ আদিয়ে দেওয়া হয়েছিল লাফার্জের কাছ থেকে—এমনটাই জানায় স্থানীয়রা।
শুধু ক্ষতিপূরণই নয়, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ, পরিবহন ব্যবসা, সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রেও স্থানীয়দের প্রাধান্য নিশ্চিত করা হয়। অর্থনৈতিক সুফল: অনেকেই হয়েছেন স্বাবলম্বী লাফার্জ হোলসিম প্রতিষ্ঠার পর ছাতক এলাকায় ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। সরাসরি শ্রমিক, পরিবহনকর্মী, ঠিকাদার, সেবা প্রদানকারীসহ হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কোম্পানির সঙ্গে কাজ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন—অনেকে হয়েছেন কোটিপতি, কেউ ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন, কেউ শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে বিনিয়োগ করেছেন। সামগ্রিকভাবে এ প্রকল্প স্থানীয় অর্থনীতিকে যেমন শক্তিশালী করেছে, তেমনি জীবনমানেও এসেছে দৃশ্যমান উন্নতি।
তার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতের প্রত্যাশা
ছাতক–দোয়ারাবাজারের বহু সচেতন নাগরিকের মতে, সুরমা ব্রিজ ও লাফার্জ প্রকল্প অঞ্চলটির উন্নয়নকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ব্যবসা প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে আজ যে পরিবর্তন দেখা যায়—এর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল প্রায় দুই দশক আগে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর ওপর।
তাদের মতে, যে নেতৃত্বের সাহসী উদ্যোগ ও দীর্ঘ তদবিরের কারণে এই বৃহৎ প্রকল্পগুলোবাস্তবায়িত হয়েছিল, সেই নেতৃত্ব ভবিষ্যতেও অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—এমন প্রত্যাশা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। তারা অঞ্চলের উন্নয়ন অগ্রগতি ধরে রাখার জন্য কার্যকর নেতৃত্ব, দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং জনপ্রতিনিধিদের ধারাবাহিক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
Leave a Reply