ছাতকে বিদ্যুৎ গ্রীড থেকে কয়েক লাখ টাকার তামার তার চুরি: উপজেলা জুড়ে তোলপাড়
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
ছাতকে বিদ্যুৎ বিতরণ গ্রীডের ভেতর থেকে কয়েক লাখ টাকার তামার তার, লোহার নাট–বোল্টসহ সরকারি মূল্যবান মালামাল চুরি ও বিক্রির অভিযোগে উপজেলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষ থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল—সবখানে চলছে সমালোচনার ঝড়।
গত সোমবার সকাল থেকে সারাদিন ব্যাপি সংস্কার কাজ চলছিল। কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় ছাতক বিদ্যুৎ গ্রীডে নিয়মিত সংস্কার ও মেরামতের কাজ শেষে সহযোগী প্রকৌশলী সাজ্জাদ, সুমন ও আব্দুল আজিমের উপস্থিতিতে কাজের ফরম্যান আবু নেতৃত্বে গ্রীডের ভেতর থেকে বস্তাভর্তি বিভিন্ন মালামাল বের করা হয়।
পরে অভিযোগ উঠেছে—এসব মালামাল গোপনে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাইরে নেওয়া হয়। সূত্র জানায়, ফরম্যান আবু নেতৃত্বে জাউয়া বাজার এলাকার লক্ষ্মীসোম পয়েন্টে ভাঙারি ব্যবসায়ী শাহিনের কাছে এসব মালামাল বিক্রি করা হয়। বিক্রিত মালামালের মধ্যে ছিল তামার মোটা তার, লোহার নাট–বোল্ট, অ্যালুমিনিয়ামের তারসহ কয়েক লাখ টাকা মূল্যের সরকারি সম্পদ। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ফরম্যান আবু মিয়া অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘পুরোনো মালামাল বিক্রি করা হয়েছে।’ তবে তিনি দাবি করেন, এসব মালামাল নষ্ট অবস্থায় ছিল। অন্যদিকে ভাঙারি ব্যবসায়ী শাহিনও স্বীকার করেছেন, তিনি আবুর মাধ্যমে তামার তার ও লোহার সামগ্রী ক্রয় করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ—এটি কোনো একক চুরির ঘটনা নয়; বরং একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ গ্রীডের পুরোনো মালামাল বিক্রির নামে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ গোপনে পাচার করছে। তারা আরও বলেন, এই চক্রটি নিয়মিতভাবে প্রভাব খাটিয়ে এসব ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে আসছে। এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর গ্রীডের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। জনগণের অর্থে কেনা মূল্যবান তামার তার ও লোহার যন্ত্রাংশ এভাবে বিক্রি হয়ে যাওয়া যে বড় ধরনের দুর্নীতি—তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা বলেন, ‘বিদ্যুতের লাইন মানসম্মত নয়, ট্রিপিং, লোডশেডিং বেড়ে গেছে—এখন বুঝা যাচ্ছে এসব মালামাল চুরি হয়ে গেলে কেন সেবার মান উন্নত হয় না।’ ঘটনা ধামাচাপা দিতে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৎপর রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এলাকাবাসীর কঠোর অবস্থানের কারণে তারা আর আগের মতো পার পাচ্ছে না।
ছাতকে সরকারি মালামাল চুরি-বিক্রির এ ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে সর্বস্তরে। স্থানীয়রা বলেন—এ ধরনের অনিয়মের বিচার না হলে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
Leave a Reply