সুনামগঞ্জের ছাতকে পৃথক অভিযানে ইয়াবা, জিআর ওয়ারেন্ট ও বালুমহাল মামলার ৭ আসামি গ্রেফতার
ষ্টাফরিপোটারঃ
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশের যৌথ পর্যবেক্ষণে দিনভর ধারাবাহিক অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন, বালুমহাল মামলার ৩ জন এবং জিআর ওয়ারেন্টভুক্ত ১ জন–এভাবে মোট ৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে আইন–শৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার (৫ মে ২০২৬) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। স্থানীয় জনমনে এ ঘটনাকে মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয় অবস্থানের দৃশ্যমান প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানায় দায়েরকৃত মামলা নং ০৭(০৫)২০২৬, ২০১৮ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণি ১০(ক)/৪১ ধারায় মাদক কারবারের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ মামলায় ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মো. আব্দুল্লা মিয়া রকি (২৫), পিতা মৃত বোরহান উদ্দিন ওরফে রব মিয়া, মাতা রোকেয়া বেগম; ঝুমন আহমদ (৩০), পিতা জয়নাল আহমদ—উভয়ের ঠিকানা বাগবাড়ি, ছাতক পৌরসভা। অপর গ্রেফতার মাহবুব আলম (২০), পিতা আবিবুল ওরফে আলী নুর, মাতা কুলসুমা বেগম, সাং চরভাড়া, ইউনিয়ন নোয়ারাই।
মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায়ও সক্রিয় ছিল পুলিশ। ছাতক থানার আরেকটি মামলা নং ০৮(০৫)২০২৬, ২০১০ সালের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের ১৫(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন—আজিজুল ইসলাম (২৮), পিতা ইউনুস আলী; পারভেজ মোশারফ (৩০), পিতা মো. হেলাল উদ্দিন—উভয়ের ঠিকানা বৈশাকান্দি, বাহাদুরপুর, ইউনিয়ন ইসলামপুর, থানা ছাতক, জেলা সুনামগঞ্জ। অপর গ্রেফতার শফিকুল ইসলাম (২৪), পিতা মো. সুজন মিয়া, সাং কাঠালবাড়ি (শিমুলতলা), ইউনিয়ন পশ্চিম ইসলামপুর, থানা কোম্পানীগঞ্জ, জেলা সিলেট।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা জিআর-২৬১/২৪ (ছাতক) মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. করিম মিয়া ওরফে আব্দুল করিম (২৮), পিতা মৃত আব্দুল মমিন, সাং বাঁশখলা, থানা ছাতক—তাকেও আলাদা অভিযানে গ্রেফতার করা হয়। ওয়ারেন্টভুক্ত এই আসামি দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছিল বলে জানা গেছে।
ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী জানান, “দিনব্যাপী পরিচালিত এসব অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন অভিযোগের মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “মাদক, বালু লুট, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি—অপরাধ যা–ই হোক, ছাতক পুলিশ জিরো টলারেন্স অবস্থানে রয়েছে। অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়রা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক ব্যবসা, অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের ধরতে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে। বিশেষ করে ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের নিয়মিত অভিযান সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ছাতক ও আশপাশের হাওর-বেষ্টিত এলাকায় মাদক পাচারের গোপন রুট অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যায়। এজন্য থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে নিয়মিত টহল ও আকস্মিক অভিযান জোরদার করেছে। অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর নজরদারি চলছে। পানি সম্পদ রক্ষায় এবং নদী–নালা দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান আরও বাড়ানো হবে।
মঙ্গলবারের অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ সাত আসামির গ্রেফতার—একে ছাতক থানা পুলিশের চলমান দায়বদ্ধতার একটি শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধীদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না; আইনের বাইরে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। সমাজে শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply