নতুন মন্ত্রিসভায় সিলেটের যারা আলোচনায়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় সিলেট থেকে কারা জায়গা পাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের চিন্তা করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। জ্যেষ্ঠতার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তি, প্রবাসী যোগাযোগ, কূটনৈতিক সক্ষমতা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা—এই কয়েকটি মানদণ্ড বিবেচনায় রেখে সম্ভাব্য তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। গুঞ্জন রয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা হতে পারে।
স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে আলোচনায় রয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক দুইবারের মেয়র ও বর্তমান সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। কাউন্সিলর থেকে মেয়র এবং পরে সংসদ সদস্য হওয়া এই রাজনীতিকের নগর উন্নয়ন ও সিটি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে তাকে বিবেচনা করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
সিলেট ১ আসনের বিজয়ী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নামও আলোচনায় রয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ আসন থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। ফলে এবারের মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রত্যাশা রয়েছে।
সিলেট ২ আসনে নির্বাচিত তাহসিনা রুশদীর লুনার নামও আলোচনায় এসেছে। কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে সক্রিয় এবং রাজনৈতিকভাবে পরিচিত এই নেত্রী টেকনোক্রেট কোটায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত রয়েছে। নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব হিসেবেও তার নাম গুরুত্ব পাচ্ছে।
হবিগঞ্জ ১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়ার নাম অর্থ ও পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বের ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ধর্ম বিষয়ক দায়িত্বে আলেম রাজনীতিক মওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুকের নামও শোনা যাচ্ছে। জোটগত সমীকরণ বিবেচনায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে সিলেটের প্রতিনিধিত্ব থাকতে পারে বলেও জোর গুঞ্জন রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ড. মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া সিলেট ৩ আসনের এম এ মালিক, সুনামগঞ্জ ৫ আসনের কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, মৌলভীবাজার ৩ আসনের এম নাসের রহমান, হবিগঞ্জ ৩ আসনের জি কে গৌছ এবং সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর নামও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে সিলেট বিভাগ থেকে একাধিক মুখ মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে রাজনৈতিক সমীকরণ, জোটগত ভারসাম্য এবং সরকারের অগ্রাধিকার নির্ধারণের ওপর। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি আলোচনার পর্যায়েই থাকছে।
Leave a Reply