সিলেটের সাংবাদিকতায় এক বিশ্বস্ত নাম:
ইয়াহিয়া মারুফের পথচলা ও নতুন দায়িত্ব
আনোয়ার হোসেন রনি
সিলেটের সাংবাদিকতার অঙ্গনে একটি পরিচিত, আস্থাভাজন ও সম্মানিত নাম ইয়াহিয়া মারুফ। দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা তাঁকে একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সময়ের চ্যালেঞ্জ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতা—এই তিনের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে তাঁর কর্মজীবনের পথচলা।
সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, বরং সমাজের দর্পণ—এই বিশ্বাস থেকেই ইয়াহিয়া মারুফ তাঁর কাজকে দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন। মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং বস্তুনিষ্ঠ উপস্থাপনায় তিনি বরাবরই ছিলেন আপসহীন।
ফলে পাঠক ও দর্শকের কাছে তাঁর প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে স্বাভাবিকভাবেই।
জাতীয় দৈনিক আজকে পত্রিকা-র সিলেট ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইয়াহিয়া মারুফ অনুসন্ধানী ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয় পর্যায়ের নানা সমস্যা, প্রশাসনিক জটিলতা, উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব চিত্র, সামাজিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো তিনি সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রতিবেদনে যেমন ছিল তথ্যের গভীরতা, তেমনি ছিল মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। এ কারণেই পাঠকমহলে তাঁর লেখা ব্যাপক আস্থা অর্জন করে।
সিলেট একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল হলেও এখানে রয়েছে নানা সামাজিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই ইয়াহিয়া মারুফ বরাবরই জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন। গ্রাম থেকে শহর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে নাগরিক সমাজ—সব শ্রেণির মানুষের কথা উঠে এসেছে তাঁর প্রতিবেদনে। স্থানীয় ইস্যুকে জাতীয়।আলোচনায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
সাংবাদিকতায় তাঁর অবদানের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি তাঁর কর্মজীবনে যুক্ত হয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি এখন স্টার নিউজ (Star News)-এর সিলেট ব্যুরো চিফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এই নতুন দায়িত্ব নিঃসন্দেহে তাঁর পেশাগত দক্ষতা, সততা ও গ্রহণযোগ্যতারই স্বীকৃতি। একটি জাতীয় গণমাধ্যমের আঞ্চলিক নেতৃত্বে তাঁর যুক্ত হওয়া সিলেট অঞ্চলের সংবাদ পরিবেশনে নতুন গতি সঞ্চার করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্টার নিউজ-এর সিলেট ব্যুরো চিফ হিসেবে ইয়াহিয়া মারুফের মূল লক্ষ্য হবে নির্ভুল, সময়োপযোগী ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ উপস্থাপন। স্থানীয় সমস্যার গভীরে গিয়ে সত্য উদঘাটন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার শক্ত অবস্থান—এসবই থাকবে তাঁর অগ্রাধিকারে। একই সঙ্গে তরুণ সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে দিকনির্দেশনা দেওয়া ও একটি পেশাদার টিম গড়ে তোলাও তাঁর দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সহকর্মীরা মনে করেন, ইয়াহিয়া মারুফ একজন দলগত নেতৃত্বে বিশ্বাসী সাংবাদিক। তিনি সহকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেন এবং কাজের ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দেন। মাঠপর্যায়ের সংবাদ সংগ্রহ থেকে শুরু করে ডেস্ক পর্যায়ের সম্পাদনা—সব ক্ষেত্রেই তাঁর অভিজ্ঞতা তাঁকে একজন পরিপূর্ণ মিডিয়া পেশাজীবী হিসেবে আলাদা করেছে।
স্থানীয় সমস্যা, জনস্বার্থ, উন্নয়ন ও অনিয়ম—সব ক্ষেত্রেই ইয়াহিয়া মারুফের সংবাদ পরিবেশনে দেখা যায় দায়িত্ববোধ ও সাহসী অবস্থান। তিনি বিশ্বাস করেন, সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য প্রকাশে। কোনো চাপ বা প্রভাবকে আমলে না নিয়ে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশই একজন সাংবাদিকের প্রকৃত পরিচয়—এই দর্শনেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
ডিজিটাল মিডিয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীলপরিবেশেও ইয়াহিয়া মারুফ নিজেকে সময়োপযোগী করে তুলেছেন। অনলাইন সাংবাদিকতা, ভিডিও রিপোর্টিং এবং মাল্টিমিডিয়া কনটেন্টের গুরুত্ব তিনি উপলব্ধি করেন। ফলে নতুন দায়িত্বে তিনি আধুনিক সংবাদ পরিবেশনের দিকেও মনোযোগী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, পরিবেশ ও প্রবাসী ইস্যু—এই গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে তাঁর প্রতিবেদনের প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। বিশেষ করে জনদুর্ভোগ ও নাগরিক সমস্যার বিষয়ে তাঁর ধারাবাহিক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে একাধিকবার। এটিসাংবাদিকতার সামাজিক দায়বদ্ধতারই বাস্তব উদাহরণ।
সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও সত্য প্রকাশের অঙ্গীকারে অবিচল থেকে ইয়াহিয়া মারুফ আগামীতেও গণমাধ্যমে ইতিবাচক ও প্রভাবশালী ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা সিলেটবাসীর। নতুন দায়িত্বে তাঁর সাফল্য কামনা করছেন সহকর্মী, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী মহল। অভিজ্ঞতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সমন্বয়ে ইয়াহিয়া মারুফ সিলেটের সাংবাদিকতায় একটি অনুকরণীয় নাম হয়েই থাকবেন—এমন বিশ্বাসই এখন সবার।
Leave a Reply