বর্ধিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ার প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি করেছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন।
সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা-উপজেলা প্রশাসনের দুর্নীতি প্রতিরোধে এবং বর্ধিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ার প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৪ মাচ শনিবার দুপুরে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির আয়োজনে সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে কর্মসূচি হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলন। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ছাতক উপজেলার সদস্য সচিব উজ্জীবক সুজন তালুকদার,যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান,দোয়ারাবাজার উপজেলা সদস্য সচিব আবু তাহের মিসবাহ, সদস্য মোফাজ্জল হাসান,শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওর বাঁচাও আন্দোলন এর সভাপতি আবু সইদ,শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদস্য সচিব আহমেদ উসমান, সদর উপজেলার সদস্য সচিব শাহা আলম, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আহ্বায়ক নুরুল আলম সাগর, শান্তিগঞ্জ উপজেলার কৃষক নেতা জিয়াউর রহমান। মাঠ পর্যায়ের ১১টি পর্ববেক্ষণ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সহ সভাপতি শাহ কামাল। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিচালিত ফসলরক্ষা বাঁধের সার্ভে ও প্রাক্কলন কর্মসূচি দৃশ্যমান ছিল না। যার ফলে অপ্রয়োজনীয় পিআইসি সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পিআইসি গঠনের লক্ষে মাঠ প্রশাসনের গৃহিত গণশুনানী কার্যক্রম সন্তোষজনক ছিল না, এতে প্রকৃত অনেক কৃষক পিআইসিতে সম্পৃক্ত হতে পারেননি। ডিসেম্বর ১৫ তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ টি উপজেলায় ১টি করে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু সময় বৃদ্ধি করেও তারা হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ যথাযথভাবে সমাপ্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের অগ্রগতি মাঠের সাথে মিল না থাকার কারণে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে সারা জেলায় বেশিরভাগ পিআইসি অক্ষত ছিল। সেখানে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় ও লুটপাট করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণে দৃশ্যমান পিআইসি ও ক্লোজারগুলোতে বালু মিশ্রিত ও কাদাযুক্ত মাটি ব্যবহার করা হয়েছে।সাইনবোর্ডে বরাদ্দকৃত মাটি না ফেলে পুরাতন বাঁধের মাটি মেশিন দিয়ে খুঁড়ে আবার জায়গার মাটি জায়গায় দিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার হাওর রক্ষা বাঁধের ১১০ টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারের কাজ যথাযথ সম্পন্ন হয়নি। হাওরের কান্দা, ফসলিজমি ও জমির উপরের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। বাঁধের নামে হাওরে সরকারি খাসজমির মাটি লুট হচ্ছে। এতে আবাদি জমির পরিমান, উর্বরতা ও গো-চারণ ভূমি কমছে। বাঁধ সংলগ্ন কৃষক ও সাধারণ জনগণ পিআইসির কার্যক্রম সম্পর্কে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবগত নন, কেননা বাঁধের চলমান কাজের বিবরণী শীর্ষক বেশির ভাগ সাইনবোর্ড দৃশ্যমান নেই। ফসলরক্ষা বাঁধের পিআইসিতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি বিদ্যমান। সব উপজেলায় অক্ষত বাঁধ প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং পরিদর্শনে দৃশ্যমান পুরাতন বাঁধে ধুলোমাটি ফেলে সাদা করে রাখা হয়েছে। একদিনের বৃদ্ধিতে ধুয়ে পুরাতন মাটি বের হয়ে গেছে। বাঁধে কম্পেকশন না থাকায় বৃষ্টিতে অধিকাংশ বাঁধে গর্ত হয়েছে। কিছু কিছু ক্লোজার বৃষ্টির কারণে দেবে ও ফাটল দেখা দিয়েছে।পর্যটন প্যাকেজ
এদিকে ১০টি দাবি উত্থাপন করেন সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ বলেন, বোর ফসল মৌসুমে ফসল রক্ষা বাঁধ কার্যক্রমের সার্ভে ও প্রাক্কলন যথা সময়ে শুরু ও শেষ করতে হবে। সেই সাথে স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমকে অবহিত করতে হবে। পিআইসি গঠনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণের লক্ষে কার্যকর, দৃশ্যমান গণশুনানী করতে হবে। অপরিকল্পিত, অপ্রয়োজনীয় এবং অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত পিআইসি গঠন প্রতিরোধে জেলা, উপজেলা মনিটরিং কমিটিগুলোকে কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে হবে। কাবিটা নীতিমালা অনুসারে পিআইসি গঠনে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মাঠ প্রশাসনের দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা রাখতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসক এর অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। সেই সাথে তাদেরকে সুনামগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কার্যক্রমে যে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারি অনিয়ম দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত তাদের চিহ্নিত করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ফসল রক্ষা বাঁধের নামে হাওরে ফসলি জমি কর্তন ও লুট বন্ধ করতে হবে।অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত পিআইসিগুলোকে চিহ্নিত করে পুনঃতদন্ত করে বিল প্রদান করতে হবে। জেলার সকল হাওরের পানির প্রবাহ সচল রাখতে পর্যাপ্ত স্লুইচ গেইট স্থাপন করতে হবে। সেই সাথে হাওরের সাথে সংযুক্ত খাল ও নদীগুলিকে খনন করতে হবে এবং প্রয়োজনী স্থানে রাবার ড্রাম তৈরি করতে হবে। হাওরে সকল উন্নয়নমূলক কাজ করার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র গণমাধ্যম ও জনসাধারণের সম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।এসময় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, শিক্ষাবিদ সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, কবি ইকবাল কাগজী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গীর আলম, সংগঠনের জেলা সহ সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল মুন্সী, অ্যাড দীপঙ্কর বনিক, সুহেল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন, মো. আকিক মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাছির, ইমরান হোসেন, বাঁধ বিষয়ক মহসিন আলম।উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা কমিটির অর্থ সম্পাদক আকিব জাবেদ, বাঁধ বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান, হুমায়ুন কবির, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোশফিকুর রহমান, বন পরিবেশ ও জলবায়ূ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, দূর্যোগ ও ত্রাণ বিষয় সম্পাদক তৈয়বুর রহমান, মিডিয়া এম ডি জাকারিয়া, হাওর ও কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফারদিন আহমদ, ছাতক উপজেলার সদস্য জামিল হোসেন, জুয়েল আহমদ,কাজী আব্দুল বাছিত, সদর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ, পৌর কমিটির আহ্বায়ক আকিফুজ্জামান রিপন, সদস্য কর্নবাবু দাশ, শফিকুল ইসলাম, আদিল আরমান, মিজাুর রহমান, আবুল হাসনাত, মোস্তাক আহমেদ, আবু হুরায়রা ফাহিম, ওমর ফারুক, দোয়ারাবজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আহ্বায়ক বদিউজ্জামান।
Leave a Reply