Breaking News

ছাতকে ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্থানীয়

Print Friendly, PDF & Email

ছাতকে ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্থানীয়

ছাতকে হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ চলছে ধীরগতিতে। ফলে নির্ধারিত সময়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হবে কিনা, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। যথাসময়ে কাজ শেষ না হলে আগাম বৃষ্টিতে ঢল নামলে হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। তবে ফসল রক্ষার জন্য বাঁধ নির্মাণের কাজ কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাঁধের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
হাওর রক্ষা বাঁধ মেরামত কাজে উপজেলার ১৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মধ্যে ১নং পিআইসির সভাপতি, সদস্য সচিবসহ ৬ সদস্যের প্রকল্প কমিটি কাজ করতে অনাগ্রহী হওয়ায় এখানে নতুন করে পিআইসি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্য ১৭টি পিআইসি কমিটির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা সম্মেলন কক্ষে পিআইসি বাস্তবায়ন কমিটির এক সভায় সব প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে উদ্দেশ করে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে বলা হয়েছে, কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে ও যথাসময়ে বাঁধ মেরামত কাজ শেষ করতে হবে।
সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার ১৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে উপজেলার ছোট-বড় হাওরগুলোর ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে। প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতের কাজ করা হবে।
পিআইসিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঁধ মেরামত কাজ জাউয়াবাজার ইউনিয়নে। মোট ১৮টি পিআইসির মধ্যে ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আওতায় জাউয়াবাজারের চাউলীর হাওর, ডেকার হাওর, মাছুখাল, তারাপুর খাল, কুড়িবিল, লক্ষ্মণসোমকান্দি, মোঘলগাঁও, বাগারাই, দেবেরেগাঁও। চরমহল্লা ইউনিয়নের ৩টি পিআইসির মধ্যে চানপুর ও কামরাঙ্গি। নোয়ারাই ইউনিয়নের নাইন্দার হাওর ও মির্জাখালের বাঁধ মেরামতের কাজ রয়েছে।
ফসল রক্ষা বাঁধ প্রকল্প বিষয়ে স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর হাওরের ফসল আগাম বন্যার কবল থেকে রক্ষার জন্য হাওরের চারপাশে মাটির বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সম্প্রতি দফায় দফায় বন্যার কারণে অনেক বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যথাসময়ে এবং সঠিকভাবে বাঁধ মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হলে হাওরগুলোর ফসল রক্ষা অনেকটাই সহজ হবে।
উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের ২নং পিআইসির সভাপতি আফরোজ আলী বলেন, বাঁধের কাজ দ্রুতগতিতেই চলছে। আশা করছি, আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাঁধ মেরামতের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। জাউয়াবাজার ইউনিয়নের ৮নং পিআইসির সভাপতি আল মামুন শাহীন বলেন, ৫ দিন আগে বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমার প্রায় ৫০ ভাগ মাটি ভরাট কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ হবে। সিংচাপইড় ইউনিয়নের ৬নং পিআইসির সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, এখানে অনেক দূর থেকে মাটি সংগ্রহ করতে হবে। হাইড্রলিক ট্রাক পেতে দেরি হওয়ায় আমার চাউলীর হাওর এলাকার কাজ এখনও শুরু করা যায়নি। এখন ট্রাক সংগ্রহ করা হয়েছে, সোমবার থেকে এক্সক্যাভেটর দিয়ে পুরোদমে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা যাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ছাতক উপজেলার দায়িত্বশীল ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব উপসহকারী প্রকৌশলী খালিদ হাসান বলেন, বাঁধ নির্মাণের কাজ দেরিতে শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের (আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খাঁন বলেন, এবারে চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১৩ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অধিকাংশ বীজতলা থেকে চারা তুলে বোরো ফসলের মাঠে চারা রোপণ করছেন চাষিরা। বন্যা ও পাহাড়ি ঢল থেকে বোরো ফসল রক্ষায় হাওরে বাঁধ মেরামত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পিআইসি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মামুনুর রহমান বলেন, হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে যে কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে। পিআইসিগুলোর কাজ নিয়মিত মনিটর করা হচ্ছে। কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।##

About admin

Check Also

ছাতকে পুলিশিং ডে অনুষ্ঠিত কমিউনিটি পুলিশিং অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা

ছাতকে পুলিশিং ডে অনুষ্ঠিত কমিউনিটি পুলিশিং অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা সুনামগঞ্জ জেলা প্রতি‌নি‌ধি, কমিউনিটি পুলিশিং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!